শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২০, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সংবাদ শিরোনামঃ
ভ্রুণ হত্যাকারী প্লাবনের গ্রেপ্তার দাবীতে নাসিরনগরে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুর জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সভাপতি মিজানুর রহমান অসুস্থ, দোয়াপ্রার্থী পাপ ছাড়েনা বাপকেও! পুলিশের পোশাকের আড়ালে এসআই রকিবের ইয়াবার রমরমা ব্যবসা অবশেষে ১৮ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার জহিরুল হক বিল্লাল ‘করোনাযোদ্ধা’র আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাস পিসিআর ল্যাব স্থাপন আকাবির চিন্তার ধারক ছিলেন মুফতী কেফায়েতুল্লাহ বিন নূর আখাউড়ায় উদ্ধারের তিন মাস পর স্বাধীনতাকালের মর্টারশেল নিস্ক্রিয় জাতীয়  গ্রিড লাইনে ত্রুটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সাত জেলা বিদ্যুৎহীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ্’র ইন্তেকাল অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবু সাঈদ ডায়াবেটিসের রোগী
ইচ্ছা শক্তিই পারে একজন নারীকে সাফল্য এনে দিতে …….সেলিনা খালেক

ইচ্ছা শক্তিই পারে একজন নারীকে সাফল্য এনে দিতে …….সেলিনা খালেক


সেলিনা খালেক
বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সমাজসেবী

ইমদাদুল হক তৈয়ব ও এল খান: প্রাণ প্রাচুর্য্যে ভরপুর চির নবীন, নির্লোভ, সৃজনশীলতার এক মূর্ত প্রতিক স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জল আত্মবিশ্বাসী অমায়িক এক ব্যক্তিত্ব যার নাম সেলিনা খালেক। তিনি ১৯৩৬ সালে বাবা মরহুম এ, কে, এম হাফিজউদ্দিন ও মা মরহুম জাহেদা হাফিজউদ্দিন ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলীম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাব পুলিশের আইজি, ইপিআইডিসির চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রদূত, শিল্পমন্ত্রী ও শিল্প উপদেষ্টা ছিলেন এবং মা ছিলেন একজন গুণী সমাজকর্মী ও চা বাগানের মালিক। স্বামী মরহুম আবদুল খালেক মুক্তিযোদ্ধা আইজি পুলিশ, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, একাধিক বইয়ের লেখক, স্কুল ও আইন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। শিক্ষা জীবনে সেলিনা খালেক ১৯৫২ সালে মেট্রিক পাশ করেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৩ সালে সতের বছর বয়সে বিয়ে হয় সেলিনা খালেকের। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। পারিবারিক জীবনে তিনি অত্যন্ত সুখী ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করেছেন।
এই গুণী উদার এবং বিশাল মনের অধিকারীনীর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ফুটে উঠেছে একজন সাহসী আপোষহীন, আলোকিত নারীর জীবনের প্রতিচ্ছবি- প্রিয় পাঠক আপনাদের উদ্দেশ্যে এখানে তা উপস্থাপন করা হলো-

মানবজীবন: কেমন আছেন?
সেলিনা খালেক: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
মানবজীবন: আপনার আলোকিত কর্মময় জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন?
সেলিনা খালেক: আমি ১৯৫৫ সাল থেকে সেচ্ছাসেবামূলক কাজে জড়িত হই এবং আজ অবধি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তৎকালীন অচডঅ তে যোগদান করি বরিশালে। ১৯৭২ সালে অচডঅ কে রূপান্তরিত করা হয় ‘বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে’। সরকারী নির্দেশে আমি সহ-সম্পাদিকা হই। এবং (২০০৪-২০১০) পরে সভানেত্রী ছিলাম। বর্তমানে কার্যকারী কমিটির সদস্য। আমি ১৯৬০ সালে ফেডারেশন অব ইউনিভার্সিটি উইমেনের পূর্ব পাকিস্তান শাখায় ফেডারেশনের সদস্য হিসেবে যোগদান করি। এছাড়া সার্ক ফেডারেশনের সভানেত্রী ও এশিয়া ফেডারেশনের সহ- সভানেত্রী ছিলাম এবং বর্তমানে প্রাক্তন সভানেত্রী রূপে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকি। আমি ষাটের দশকে শিশু কল্যাণ পরিষদে যোগদান করি। এবং বর্তমানে ওখানকার সিনিয়র সহ সভাপতি। বাংলা একাডেমির সদস্য হই ষাটের দশকে এবং ১৯৭২ সালে আজীবন সদস্য পদ লাভ করি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে যোগদান করি ১৯৭২ সালে। ৩০ বছর সহ-সভানেত্রী ছিলাম এবং বর্তমানে উপদেষ্টা হিসেবে আছি। প্রতিষ্ঠালগ্ন ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ লেখিকা সংঘে কুড়ি বছর সহ- সভানেত্রী ছিলাম। বর্তমানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছি। এবং নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্রের বর্তমান সভানেত্রী। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতিতে যোগদান করি, বর্তমানে সহ-সভাপতি হিসেবে আছি।

মানবজীবন: আপনার লেখালেখি শুরু কবে থেকে? এ পর্যন্ত কি কি প্রবন্ধ লিখেছেন?
সেলিনা খালেক: আমি ১৯৬১ সাল থেকে লেখালেখি শুরু করি। ২০০৯ সালে প্রথম বই বের হয়। বই মুলত আটটি প্রকাশ পায়। পুলিশ কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাপ্তাহিক পত্রিকার মাধ্যমে লেখা ও সম্পদনা শুরু। তখন থেকেই বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখা শুরু হয়। নিজেকে প্রকাশ করার প্রবনতা না থাকায় বই এর প্রকাশনা করা হয়নি। প্রথম বই প্রকাশ: মহিলা সমাজ ও আমাদের সংস্কৃতি ১ম ও২য় বর্ধিত সংস্করন, পুলিশ ও সমাজ, আর্ট ফাল্গুন, আমাদের শিশু, এক নদী রক্ত, প্রবন্ধ গুচ্ছ ও অন্যান, নানা রঙের প্রবন্ধ, এরৎষ পযরষফ ধহফ ড়িসধহ রহ ইধহমষধফবংয. এছাড়া সম্পাদনা করেছি সাপ্তাহিক ডিটেকটিভ, দীপক, বর্ষবানী, বর্ষলিপি, মহিলা সমাচার, যান্ত্রিক, উর্মি, গৃহশ্রী ।
মানব জীবন: আপনার লেখা প্রথম প্রবন্ধ কোনটি?
সেলিনা খালেক: আমার লেখা প্রথম প্রবন্ধ ‘ইসলামে নারী’।
মানবজীবন: আপনি এ যাবৎ যে সব সম্মননা অর্জন করেছেন সে সম্পর্কে কিছু বলুন?
সেলিনা খালেক: বিভিন্ন সংগঠন থেকে অসংখ্য সম্মননা পেয়েছি। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো: শ্রেষ্ঠ নন্দিনী ১৯৯৯, বাংলাদেশ সবুজ মেলার উদ্যোগে শিশু কিশোর আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য বরেন্য সংগঠক হিসেবে শিশু কিশোর সমাজের চোখে বিশেষ সম্মাননা ২০০৯, নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য উইমেন্স ফেডারেশন এর ওয়ার্ল্ড পিস সম্মাননা ২০০৯, নারীর মানবধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংগ্রামী ও প্রেরনামূলক ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ মহিলা সমিতি কর্তৃক সম্মাননা ২০১১, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা- বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ২০১১, সমাজ কল্যানে বিশেষ অবদানের জন্য অনন্যা কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা পদক ২০১২, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ কর্তৃক আজীবন সম্মাননা ২০১৩, চয়ন সাহিত্য ক্লাব সম্মাননা ২০১৪, নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র কর্তৃক বেগম নুরজাহান সম্মাদনা পদক ২০১৬, বাংলাদেশ মানবধিকার সাংস্কৃতিক সোসাইটি কর্তৃক সমাজসেবায় অবদানের জন্য ষ্টার গোল্ড এ্যাওয়ার্ড ২০১৬।
মানবজীবন: আপনার জীবনে স্বার্থকতার পিছনে কার অবদান বেশি?
সেলিনা খালেক: জানিনা কতটুকু সার্থক আপনাদের দৃষ্টিতে। তবে আমি আমার জীবন নিয়ে সার্থক। আমার কখনও জীবন নিয়ে খুব বেশি উচ্চ আঙ্খাকা ছিল না। সিমিত আয়ের মধ্যেই আমরা চলেছি। আমার বাবা এবং আমার স্বামী দুজনই সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন যেহেতু তাই তাদের সততা নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিল না। প্রথম জীবনে আমার লেখালেখির পেছনে বাবার অবদান বেশি। আমার বাবা যখন পুলিশের আই জি ছিলেন (১৯৫৮-১৯৬২) সাল পর্যন্ত তখন ওনারা পলওয়েল (পুলিশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন) নামে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন যেটা থেকে প্রেট্রোল পাম্প, জোনাকি সিনেমা হল, পলওয়েল প্রিটিং প্রেস এগুলোর মাধ্যমে পুলিশের যাতে অনেক রকম উন্নতি হতে পারে। এইসময় ১৯৬০ই সালে ডিটেকটিভ নামে একটি ইংরেজী পত্রিকা বের হতো, পরবর্তিতে ১৯৬১ইং সাল থেকে ওটা বাংলায় বের হতো ওখানে আমার বাবা আমার সুপ্ত প্রতিভার কথা চিন্তা করে আমাকে সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তখন থেকেই আমার সম্পদনা ও লেখালেখি জীবন শুরু। একটা বিষয় দেখেছি তখন বড় বড় লেখক বেগম সুফিয়া কামাল, নিলিমা ইব্রাহিম, মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, আব্দুল গনি হাজারী ওনার এই ডিটেকটিভ পত্রিকায় লেখা দিতেন্। মাত্র দশ টাকার একটা টোকেন দিতাম অথচ ওনারা খুশি মনে লেখা দিতেন। কেউ ফিরিয়ে দেন নাই। ওনারা পুলিশের পত্রিকা বলে তুচ্ছ তাচিছল্য করতেন না।
মানবজীবন: একজন নারীর স্বার্থকতার পেছনে মূল কোন বিষয়টি আপনি জরুরী বলে আপনি মনে করেন?
সেলিনা খালেক: একজন নারীর জীবনে সার্থকতা নির্ভর করে নিজ পরিবারের পাশাপাশি নিজস্ব চিন্তাধারা ও ইচ্ছাশক্তি। যত বাধাই আসুক নিজের ইচ্ছাশক্তি যদি প্রবল থাকে তাহলে তাকে দমানো সম্বব নয়। সে তার মেধা শক্তির বলে এগিয়ে যাবেই। আমি আমার জীবন থেকে বলতে পারি আপনারা জানেন যে, আমি শুধু লেখালেখি না বিভিন্ন সংগঠনের সাথেও জড়িত। আমি পাকিস্তান আমল থেকেই সংগঠন করি। অল্প বয়সে বিয়ে হলেও সাহিত্য চর্চা ও জনকল্যাণমুখি মনোভাব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখিনি। আমার সতের বছর বয়সে বিয়ে হয় আর আমার বয়স যখন উনিশ তখন আমি বরিশালে। সেখানে আমি (অচডঅ) অষষ ঢ়ধশরংঃধহ ড়িসবহং ধংংড়পরধঃরড়হ এর প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হই। এটা সব জেলাতেই তখন ছিল। সেই ১৯৫৫ সাল থেকে আমি সমাজ সেবা অর্থাৎ সেচ্ছাশ্রম করে আসছি। কোন বেতন বা কোন টাকা পয়সা নেইনি। একটা বিষয় এই যে সেই তখন থেকে এই পর্যন্ত আমার এখন এত বয়স তারপরেও প্রতিটি সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে এখনও কাজ করে যাচ্ছি। ১৯৭২ সালে দেশ স্বাধীন এর পর বঙ্গবন্ধু এসে (অচডঅ) কেই ‘বাংলদেশ মহিলা সমিতি’ সরকারী অডিয়েন্স এর মাধ্যমে ঘোষণা দিলেন। এরপর বেগম সুফিয়া কামালের সাথে মহিলা পরিষদে যুক্ত ছিলাম এখন আমি এটার উপদেষ্টা। আমি বলব যে বেগম সুফিয়া কামাল, নীলিমা ইব্রাহীম ওনাদের মতো গুনি ব্যক্তিত্যের সাথে প্রায় বত্রিস বৎসর অর্থাৎ আমৃত্যু কাজ করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। আসল কথা হলো, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই সুপ্ত প্রতিভা বিদ্যমান থাকে প্রয়োজন শুধু তাকে কাজে লাগিয়ে বিকশিত করা।

মানব জীবন: একজন নারীর সফল জীবনে এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা কি হয়ে দাড়ায় বলে আপনি মনে করেন?
সেলিনা খালেক: মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বলব শিক্ষার অভাব, আর্থিক অসচ্ছলতা, আর আমার ব্যক্তিগত জীবন থেকে বলতে পারি, পরিবার যদি সহযোগিতা করে তাহলে যে কোন ক্ষেত্রেই নারীকে সফল ভাবে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়। উদাহরন স্বরূপ বলতে পারি যেমন বেগম সুফিয়া কামাল তিনি তার স্বামীর কাছ থেকে প্রচুর উৎসাহ সহযোগিতা পেয়েছেন। প্রতিভা যদিও প্রত্যেকের নিজের মধ্যে থাকে কিন্তু তাকে বিকশিত করার জন্য বাবা, স্বামী,পরিবার পরিজনের সহযোগিতা অনস্বিকার্য।
মানবজীবন: বর্তমানে নারীরা এত নির্যাতীত হচ্ছে কেন এবং প্রতিকার হিসেবে কি মনে করেন?
সেলিনা খালেক: অনেকে নারীকেই দোষ দেয়। কারন হিসেবে তারা নারীর পোশাক, কর্মক্ষেত্রে বিচরন, চলাফেরা এসবকে দায়ী মনে করে। কিন্তু আমি তাদের সাথে একমত নই। আমি এটাকে একমাত্র কারন মনে করি না। আমার মতে, আপনার পোশাক আমার পোশাক ভিন্ন হতে পারে সেটা যার যার রুচির ও ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। আসলে আগের দিনে মহিলারা সামাজিক, আর্থিক, রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে কম জড়িত থাকতো। বাইরে কম বেড়িয়ে আসতো। আর এ কারনেই হয়ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ওইভাবেই মেয়েদের কে দেখতে চায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়,স্বামীর থেকে বউ বেশি শিক্ষিত এবং বেশি টাকা উপার্যন করছে অথবা তার থেকে বউ এর সামাজিক মর্যাদার স্থান উচুঁতে সেসব ক্ষেত্রে স্বামীরা হীনমন্যতায় ভোগে এবং বউ এর উপর নির্যাতন করছে। এছাড়া প্রকৃত সু-শিক্ষার অভাবতো আমাদের সমাজে রয়েছেই। আর মেয়েদেরকেও বলব সবকিছুতেই নিজেকে মানিয়ে চলার প্রবনতা থাকতে হবে, শালিনভাবে চলতে হবে। সংসারে সন্তান থাকলে তার কথাও চিন্তা করে অনেক বিষয় সেক্রিফাইজ করতে হবে কেননা বাবা মা এর বিচেছদ অথবা বিরোধ সন্তানদের উপর গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। আমি মনে করি,এই ধরুন আমি শুধু মহিলা সংগঠন না, বিভিন্ন পুরুষ সংগঠনের সাথও জড়িত এবং সবখানেই সন্মানিত হয়েছি কারন আধুনিকতার নামে উগ্রতা কখনই আমাকে গ্রাস করতে পারে নাই। এছাড়া আগে মিডিয়ার এত ছড়াছড়ি ছিল না। এখন কোথাও কোন ঘটনা ঘটা মাত্রই আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে তৎক্ষনাৎ জানতে পারছি। নির্যাতীত বা ধর্ষিত নারীরা থানায় যাচ্ছে আইনের আশ্রয় নিচেছ যা পূর্বে নারীরা কম করত। কারন পরিবারই তাদেরকে কিছু বদ্ধমূল ধারনা দিয়ে দিত যে স্বামী যতই নির্যাতন করুক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্বামীর ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। অথবা ধর্ষন হলেও সমাজের লোকচক্ষুর নিন্দার ভয়ে প্রকাশ করত না। কিন্তু এখন ধর্ষিত নারীই বিচার চাচ্ছে আইনের কাছে,সমাজের কাছে। বর্তমানে বাবা মায়েরা ও চান না মেয়েরা মর্যাদাহানি হোক স্বামীর সংসারে। আর মেয়েরাও তাদের অধিকার সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তাদের শিক্ষার হার বাড়ছে। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে আজ যেন বদ্ধ পরিকর। এ বিষয়ে পরিশেষে বলব, আমাদের ধর্মেও আছে, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উচিত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে।

মানবজীবন: নৈতিক, মানবিক গুণাবলিসহ সন্তানদের কে আদর্শরূপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একজন মায়ের ভূমিকা কি হওয়া উচিত। আপনার অভিমত কি?
সেলিনা খালেক: অবস্যই সন্তানকে যথার্থ আদর্শরুপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মায়ের ভুমিকা অনস্বিকার্য। সংসারে বাবার পাশাপাশি একজন মা ই পারেন সন্তানকে প্রাথমিক জ্ঞান দিয়ে সু- শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। সন্তানকে ধর্মীয়, নৈতিক মুল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে। একজন সন্তানের সামগ্রিক চাহিদা মা যতটা বুজতে পারে বাবা সেটা বুজতে পারে না। এটা হয়তো সহজাত একটা বিষয়। তাই বলব মায়েরা তাদের সন্তানদের প্রতি অধিক মনোনিবেশ করবেন । সন্তান কোথায় যাচেছ, কি করছে, কার সাথে মিশছে ? এসব ব্যপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ধর্মীয় একটা বিষয় বলতে পারি,“ একজন সাহাবী ,রাসুল (সা:) কে জিগ্যেস করেছিল ,আমি কাকে সবচেয়ে বেশি সম্মান করব? তখন রাসূল (সা:) উত্তর দিয়েছিলেন ‘মা’কে। এভাবে তিনবার ই জিগ্যেস করলে উত্তর দিয়েছিলেন ‘মা’ কে এবং ৪র্থ বার উত্তর দিয়েছিলেন ‘বাবা’কে।” ইসলাম ধর্মে মা কেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। হাদীসে আছে, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত’। সুতরাং বাবার থেকেও মায়ের ভূমিকা সন্তান আদর্শরূপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য।
মানবজীবন: বর্তমানে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি যে নৈতিক অবক্ষয় চলছে এই অবক্ষয়রোধে আমাদের কি করনীয় বলে আপনি মনে করেন?
সেলিনা খালেক: প্রথমত বলব বিজ্ঞানের অবদানের ক্ষেত্রে সূফল যেমন আছে কূফল ও তেমনি আছে । আর এ বিষয়ে আমাদেরকে সঠিক ভাবে অনুধাবন করতে হবে। যেমন মোবাইল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। তবে বাচ্চাদেরকে মোবাইল ব্যবহার থেকে দুরে রাখা উচিত কেননা এটা ব্যবহারের ফলে একটি বাচ্চার সুফলের চেয়ে নৈতিক স্খলন এর সম্ভাবনাই বেশি। কৈশর পার না হতেই একটি বাচ্চাকে কম্পিউটার না দেওয়াই ভালো কেননা এটিতে সে যতটুকু উপকৃত হবে তার থেকে ক্ষতির সম্ভাবনাই থাকে । সে এর থেকে গেইম এ আসক্ত হতে পারে। ফলে দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেলবে।
মানবজীবন: আপনি মুলত নারী বিষয়ে বেশি লিখেছেন তাই বলব বর্তমানে নারী ও শিশুদের ব্যপারে আপনার কি ম্যাসেজ থাকবে?
সেলিনা খালেক: আমি মনে করি যার যার অবস্থানে প্রত্যেকেই যদি হিন্দু, খ্রীষ্ঠান, বৌদ্ধ অথবা মুসলিম নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে উপলব্দি করতে পারে এবং সে অনুযাই জীবন পরিচালনা করতে পারে তবেই সে ন্বার্থক জীবনে উপবিষ্ট হতে সক্ষম হবে। এছাড়া নীতিবোধ, মুল্যবোধ, সততা, সময়ানুবর্তিতা এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ থাকতে হবে।
মানবজীবন: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন?
সেলিনা খালেক: আমার বিশেষ কোন পরিকল্পনা নাই। বাকিটা জীবন যেন আপনাদের দোয়ায় সুস্থ অবস্থায় বেঁেচ থাকি এবং সক্রিয়ভাবে সকল প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যেতে পারি।
মানবজীবন: আপনার ব্যস্ততম সময়ের মধ্যে আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আমরা আনন্দিত।
সেলিনা খালেক: আপনাদের সাথে আলাপচারিতা করতে পেরে আমার ভালো লেগেছে। প্রতিটি দিন হোক সবার জন্য সুন্দর ও কল্যাণময় ধন্যবাদ।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design: About IT
x Close

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

Shares
CrestaProject