শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২০, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সংবাদ শিরোনামঃ
ভ্রুণ হত্যাকারী প্লাবনের গ্রেপ্তার দাবীতে নাসিরনগরে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুর জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সভাপতি মিজানুর রহমান অসুস্থ, দোয়াপ্রার্থী পাপ ছাড়েনা বাপকেও! পুলিশের পোশাকের আড়ালে এসআই রকিবের ইয়াবার রমরমা ব্যবসা অবশেষে ১৮ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার জহিরুল হক বিল্লাল ‘করোনাযোদ্ধা’র আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাস পিসিআর ল্যাব স্থাপন আকাবির চিন্তার ধারক ছিলেন মুফতী কেফায়েতুল্লাহ বিন নূর আখাউড়ায় উদ্ধারের তিন মাস পর স্বাধীনতাকালের মর্টারশেল নিস্ক্রিয় জাতীয়  গ্রিড লাইনে ত্রুটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সাত জেলা বিদ্যুৎহীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ্’র ইন্তেকাল অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবু সাঈদ ডায়াবেটিসের রোগী
দুস্থ্য ও দুখি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই, …..ফারা মাহমুদা চৌধুরী (শিল্পী)

দুস্থ্য ও দুখি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই, …..ফারা মাহমুদা চৌধুরী (শিল্পী)

 


ফারা মাহমুদা চৌধুরী (শিল্পী) মানবদরদী ও মানবহিতৈষি ব্যক্তিত্ব হিসেবে অতিথিদের হাত থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করছেন।

 

ইমদাদুল হক তৈয়বঃ ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই নৈতিকতাবোধ থেকেই বুকে নীতি আদর্শ লালন করে কর্মজীবনে এগিয়ে যাচ্ছেন এমনি এক দক্ষ, যোগ্য, মানবদরদী ও মানবহিতৈষি ব্যক্তিত্ব ফারা মাহমুদা চৌধুরী (শিল্পী)। তিনি ১৯৬৩ সালে বাবা- মৃত: ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, মা- মর্জিনা বেগম চৌধুরী, দিনাজপুর জেলার বাসুদেবপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী: মীর মাহফুজুর রহমান (এডভোকেট সুপ্রীম কোর্ট) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং টাঙ্গাইলের কালীহাতির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে সংসার জীবন শুরু করেন। পিতার ইচ্ছায় আইনজীবী হন তিনি।
ফারা মাহমুদা চৌধুরী নারী ও শিশুউন্নয়ন পরিষদ (নাসিউপ) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। এছাড়া আজীমপুর মাতৃসদনের সদস্য, আজিমপুর জন কল্যাণ সমিতির সদস্য, বাংলা একাডেমীর জীবন সদস্য, রাজশাহী ইউভাসিটির আইন বিভাগের রুলা এর আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কালিহাতী ইসলামিয়া এতিম খানার মিয়মিত ডোনারসহ নিজ এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিম খানায় নিয়মিত দান করা এবং জনমানুষের কল্যাণে সর্বদা সবার আগে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ২০০৯ সালে পবিত্র হজ্জ পালন করেন। মানুষের কল্যাণে যেন ব্রতি হয়ে থাকতে পারে এমনটাই তিনি প্রত্যাশা করেন। সদা জনসাধারনের কল্যাণে সচেষ্ট ও আইন পেশায় নিযুক্ত থাকা মানুষটির সাথে মানবজীবন পত্রিকার প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় ফুঠে ওঠে নানা বিষয়।

                                                                                      একটি অনুষ্ঠানে ফারা মাহমুদা চৌধুরী বক্তব্য দিচ্ছেন

 

মানবজীবন: আপনার শিক্ষা জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন?
ফারা মাহমুদা চৌধুরী: আমার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয় বাংলাহেলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এরপর এস এস সি বাংলাহেলি পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ১৯৭৮ (সালে বিজ্ঞান বিভাগ)। এইচ এস সি জয়পুর হাট মহিলা কলেজ ১৯৮০ সালে (বিজ্ঞান বিভাগ)। এল এল বি অনার্স রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে। ১৯৮৭ সাল থেকে বিসি এস পরীক্ষার অংশ গ্রহণ করে রিটেন উত্তির্ণ হই।
মানবজীবন: আপনার কর্মমূখর জীবনের পথচলা নিয়ে কিছু বলবেন কি?
ফারা মাহমুদা চৌধুরী: ১৯৯২ সালে সুপ্রিম কোর্ট বারে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করি। সাবেক সহকারী এটর্ণি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ১৯৮৮ সালে বার কাউন্সিল ঢাকা বার সদস্য হই। এরপর বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজের সাথে যুক্ত হই। লেখা লেখি করি কবিতা গল্প ইত্যাদি নিয়ে। ছাত্রীজীবন থেকেই সেবামূলক কাজে জড়িত থাকার চেষ্টা করি। এরশাদ সিকদারের মামলার জাজ মেন্টের সরকারী ল’ইয়ার হিসেবে কাজ করেছি। ক্রিমিনাল মামলা গুলো জামিনে কঠোর বাধা দিতাম। ফলে অন্য জায়গায় গিয়ে জামিন নিতো।

সম্মাননা গ্রহণের পর অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে ফারা মাহমুদা চৌধুরী।

 

মানবজীবন: আইন পেশার প্রধান সমস্যা কি?
ফারা মাহমুদা চৌধুরী: আইন পেশাও সমস্যা মুক্ত নয়। এই যেমন মামলার জট লেগে থাকার জন্য যথাসময়ে বাদী বিবাদীদের মামলা নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটুকু স্বাধীনতা পেয়েছে তা আপনারাই ভালো জানেন, তবে আমি মনে করি, বিচার বিভাগ পূর্ন স্বাধীন হলে, বিচার কার্য দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং জনগন শতভাগ ন্যায় বিচার পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এতেকরে নি¤েœ আদালত ও সঠিকভাবে কাজ করতে সুযোগ পাবে।
মানবজীবন: নারীরা কর্মক্ষেত্রে কি স্বাধীন?
ফারা মাহমুদা চৌধুরী: কর্মক্ষেত্রে নারীরা নানা ধরনের সমস্যায় জর্জড়িত। কেননা আমরা মুখে নারী স্বাধীনতার ঢেকুর তুললেও বাস্তবে আমাদের সমাজ আজও পুরুষতান্ত্রিক ভাবধারায় পরিচালিত হয়। সুযোগ পেলেই যেন তারা নারীদের ছোবল দিতে চায়। কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বদৌলতে নারীদের মনোরঞ্জনের পাত্রি হিসেবে ব্যবহার করতে চেষ্টা করে। আমি বলব, এ যেন ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সহজাত প্রবৃত্তি’। তারপরও নারীরা এখন সর্বক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে এগিয়ে আছে বলে আমি মনে করি। নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে এখন যথেষ্ট সচেতন। নারী তার মেধা-মননশীলতা, যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমান করছে। কবি নজরুলের কথায় বলতে হয়,“এ জগতে যা কিছু মহান, চির-কল্যণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”। সর্বোপরি বলব, নারী মা, নারী মেয়ে, নারী বোন, এবং নারীই প্রিয়তমা স্ত্রী, তাই নারীকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া আমাদের কর্তব্য।
মানবজীবন: নাগরিক জীবনে আপনি কি কি সমস্যা আছে বলে মনে করেন?
ফারা মাহমুদা চৌধুরী: নাগরিক জীবনতো নানা সমস্যায় জর্জড়িত। কোনটা রেখে কোনটা বলি? নিত্যদিনের যানজট, গ্যাসের স্বল্পতা, রাস্তাঘাটের করুন অবস্থা, বিশুদ্ধ পানির অভাব, একটু বর্ষা হলেই পানিবদ্ধতা পড়তে হয় নগরবাসীকে ইত্যাদির জন্য সবাই কষ্টকর অবস্থায় আছে। অন্যান্য দেশে কোনো উৎসব উদযাপিত হলে, সবকিছুরই মূল্য হ্রাস হয়। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য আমাদের দেশে কোন উৎসব এলেই সেটা ধর্মীয় কিংবা রাষ্টীয় সব কিছুরই দাম বেড়ে যায়। এটা হচ্ছে আমাদের দেশের বড় একটা ভোগান্তির বিষয়। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত প্রশ্নফাঁস হয়েই চলছে। কোমলমতী শিক্ষার্থীরা এর ফাঁদে পড়ে মেধাহীন হয়ে পড়ছে। ক্রমশ এই দেশ মেধা শুন্য জাতীতে পরিনত হচ্ছে। এই জাতীয় মানসিকতা থেকে আমাদের সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোচিং ব্যবসার কারনে সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়ন হচ্ছে না। শিক্ষকরা মনোযোগ দেয় শুধু কোচিংয়ের ছাত্র-ছাত্রীর দিকে। তাই এ বিষয়ে ভালো কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। জাতীয় শিক্ষার মান আরো বাড়াতে হবে। শুধু উপবৃত্তি বা বৃত্তি দিলেই হবে না। ভালো মনিটরিং করতে হবে। সভ্য জাতি গড়তে হলে শিক্ষার মান বাড়াতে হবেই। এমনকি স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগেও রয়েছে নানা বাধাবিপত্তি। আমরা স্বাধীন দেশে বাস করলেও কতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছি ? আমরা জানি, ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন’। আর তাই স্বাধীন দেশে বাস করলেও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে আছি। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নিরাপত্তাহীনতা। চুরি, ছিনতাই ক্রমশ বেড়েই চলছে। ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারব এই নিশ্চয়তা নেই।
মানবজীবন: আপনার অর্জনগুলো সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ফারা মাহমুদা চৌধুরী: আমি যে সব সম্মাননা অর্জন করেছি তার মধ্যে রয়েছে, বিচারপতি স্যার সৈয়দ আমির আলী স্বর্নপদক-২০১৭, শেরেবাংলা শাইনিং পারসোর্নালিটি গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড ২০১৭, মানবাধীকার সম্মননা-১৭ বাংলাদেশ ইয়াং জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন। মানবজীবন থেকে স্বাধীনতা দিবস সম্মাননা ১৮, আজীমপুর এস্টেট জন কল্যান সমিতি সম্মাননা-২০১৮ ।
মানবজীবন: মানবজীবনকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার সুস্থ্য ও সুন্দর জীবন কামনা করছি।

ফারা মাহমুদা চৌধুরী: আপনাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পেরে আমিও আনন্দিত।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design: About IT
x Close

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

Shares
CrestaProject