শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সংবাদ শিরোনামঃ
দুটি আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেলেন প্রথম সারির করোনা যুদ্ধা জহিরুল হক বিল্লাল আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেলেন এড. মো: আয়ুবুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকসহ আটজন গ্রেপ্তার কর্মকর্তার অবহেলায় গৃহহীনরা পায়নি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর!  বর্ষাকালে ত্বকের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ গুরুদাসপুরে পীরপাল মাজার শরীফের অর্থআত্মসাত ও গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ সাবেক খাদেমের বিরুদ্ধে নাসিরনগরে ” বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি” পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসামীর ছুরিকাঘাতে দারোগা নিহত কেবল মাইকেই স্বাস্থ্যবিধির প্রচারণা, বাস্তবে উল্টো চিত্র! ভ্রুণ হত্যাকারী প্লাবনের গ্রেপ্তার দাবীতে নাসিরনগরে মানববন্ধন
পরিবর্তনের গল্প(৬)

পরিবর্তনের গল্প(৬)

আমরা শাহাদা নেই ২০০৯ এর জুন মাসের ২১তারিখ,পরের মাসে মানে জুলাই মাসে শরীফুন্নেসা আন্টি তার ছেলে শরীফ আবু হায়াত অপুর জন্য সিহিন্তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। সে মাসেই এনাম আঙ্কেলের সহায়তায় ICD তে অপু ভাইয়া ও সিহিন্তা দেখা করে কথা বলে। সিহিন্তা বিয়ের ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলোনা। মাকে কষ্ট দেয়ার কথা ভেবে খুবই মানসিক চাপ অনুভব করছিলো। তখন এনাম আঙ্কেল, হুমায়রা আন্টি, তারিন আপু, রেহনুমা আপু সিহিন্তাকে মানসিক সাহস ও সাপোর্ট দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সাহায্য করেন (আমিও সাথে সাপোর্ট করি) । সিহিন্তা বিয়ে করতে রাজী হয় কিন্তু মেয়েদের বিয়ের জন্য দরকার একজন ওয়ালি। বাবাকে তো বলা যাবেনা মুসলিম হবার কথা,তাই সিহিন্তা দাদীমার সাথে দেখা করে তাকে জানালো সব। সিহিন্তা বার বার নিষেধ করে দিয়েছিলো সবাইকে যেন কেও বাবা মা কে কিছু না জানায়। কিন্তু আমার ছোট চাচা হয়তো খুশি হয়েই বাবাকে ফোনে সব বলে দেন। কিন্তু আমরা যে ভয় পেয়েছিলাম তাই হলো। বাবার মাধ্যমে মাও সব জেনে যায়। এরপর যে ভয় আমরা মুসলিম হওয়র পর থেকে করছিলাম তার সম্মুখীন হবার সময় আসলো।

আজকাল দাড়িওয়ালা, ইসলামিক বেশভূষার পাত্র হলে অনেক মুসলিম মায়েরাই মেয়ে বিয়ে দিতে চায়না। সেখানে একজন অমুসলিম মা – যার সঠিক ইসলাম সম্পর্কে কোন ধারনাই নেই তিনি যে রাজী হবেন না এটাই তো স্বাভাবিক। সিহিন্তা মুসলিম ছেলের সাথে বিয়ে হতে চায় জানতে পেরে মা স্বাভাবিকভাবেই অনেক কষ্ট পান, এবং পরে তা রাগে পরিণত হয়। সিহিন্তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয় আর দিন রাত শুধু কাঁদতেন। । অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে দেখে ও বাসায় বলে দেয় যে ও মুসলিম হয়েছে। কিন্তু সবাই ভেবেছে যে ও অপু ভাইয়াকে আগে থেকে পছন্দ করতো এবং ভাইয়াকে বিয়ে করতে মুসলিম হয়েছে। ও যে মনে প্রানে ইসলামকে নিজের দ্বীন হিসেহে গ্রহন করেছে এটা কেউ বুঝতে চাইল না। অবশেষে মা অপু ভাইয়ার সাথে কথা বলতে রাজি হলেন। কিন্তু ভাইয়ার ইসলামিক পরিবার ও ভাইয়ার দাড়ি দেখে না করে দেয়। মা কিছুতেই সিহিন্তাকে ইসলামিক পরিবারে বিয়ে দিতে চায়নি। সিহিন্তা যাতে ইসলামিক ভাবে চলতে না পারে সেদিকেও কড়া নজর রাখা হয়। সবাই ভাবতো ভাইয়াকে ভুলে গেলে ও ইসলামকেও ভুলে যাবে। মার আরো ধারনা ছিলো যে সিহিন্তার মুসলিম বান্ধবিরা ওর মগজ ধোলাই দিচ্ছে মুসলিম হওয়ার জন্য। তাই সবার থেকে ওকে দূরে রাখার চেষ্টা করতো। অবস্থা এতোই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো যে এভাবে প্রেশারে থাকা আর সম্ভব হচ্ছিলোনা। জোর করে তো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস,ইসলামের প্রতি ভালোবাসা,আল্লাহর ইবাদত করা বন্ধ করে দেয়া যায়না। তাই প্রচুর মানষিক কষ্টের মধ্য দিয়ে ওকে যেতে হয়েছে।

মা অনেক কষ্ট পাচ্ছিলো,অনেক কান্নাকাটি করতো। না পারছিলো সিহিন্তা মার কষ্ট দূর করতে না পারতো সঠিক পথ থেকে ভুল পথে যেতে। আমার এখনো মনে আছে সিহিন্তা শুকিয়ে কালো হয়ে গিয়েছিলো টেনশনে। আমার কথা কেও সন্দেহ করেনি বলে আমাকে তখন এই যন্ত্রনা সহ্য করতে হয়নি।তবে সিহিন্তার অবস্থা দেখে খুব কষ্ট লাগতো। মা যখন আমার কথাও জানবে তখন যে কি হবে আল্লাহই জানেন। আমি নিজেও মানসিক কষ্ট পাচ্ছিলাম। আগেই বলেছি কারো ধারনাও ছিলোনা যে আমরা ইসলামকে সঠিক ধর্ম মানি। ভাবতো হয় সিহিন্তা ব্রেইন ওয়াশড হয়েছে না হয় প্রেমে পরেছে। সিহিন্তা বিয়ে করে ইসলাম পালনের সুযোগ পাবে। কিন্তু আমার কথা জানতে পারলে এই কষ্টের মধ্য দিয়ে কতোদিন যেতে হবে তার ঠিক নাই। আর মার কষ্ট কমানোর জন্যও তো কাওকে এখন মার সাথে থাকা লাগবে। তাই আমার মুসলিম হওয়ার কথা আর প্রকাশ করিনি কারো কাছে।খ্রীস্টান সেজেই থাকতে লাগলাম সবার সাথে। এবং খুবই সাবধানে নামায পড়তাম। বাসার সব ইসলামিক বই লুকিয়ে ফেলেছিলাম। মাকে কোনো ভাবেই মুসলিম ছেলের সাথে সিহিন্তার বিয়ের জন্য রাজী করানো গেলোনা। সিহিন্তা সিদ্ধান্ত নিয়ে পারছিলোনা কি করা উচিত এখন। আগেও বলেছি এই কঠিন সময়ে এনাম আঙ্কেল,হুমায়রা আন্টি,রেহনুমা আপু,তারিনাপু মানসিক ভাবে সাপোর্ট দেয় ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। এরপর অনেক আলাপ আলোচনার পর ঠিক হলো মা-বাবাকে না জানিয়েই সিহিন্তার বিয়ে দেয়া হবে। আমার এক চাচা হবেন ওয়ালি, যার সাথে সারা জীবনে মাত্র কয়েকবার আমাদের দেখা হয়েছে। বিয়ে হবে দাদীর বাসায়। যেহেতু কর্মদিবস ছাড়া ছুটির দিন ও বাসা থেকে বের হতে পারবে না, আবার সন্ধ্যার পরও বের হওয়া যাবেনা, তাই দিন ঠিক হল ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৯; সোমবার সকালে।

চলবে…….

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design: About IT
x Close

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

Shares
CrestaProject