শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সংবাদ শিরোনামঃ
দুটি আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেলেন প্রথম সারির করোনা যুদ্ধা জহিরুল হক বিল্লাল আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেলেন এড. মো: আয়ুবুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকসহ আটজন গ্রেপ্তার কর্মকর্তার অবহেলায় গৃহহীনরা পায়নি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর!  বর্ষাকালে ত্বকের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ গুরুদাসপুরে পীরপাল মাজার শরীফের অর্থআত্মসাত ও গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ সাবেক খাদেমের বিরুদ্ধে নাসিরনগরে ” বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি” পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসামীর ছুরিকাঘাতে দারোগা নিহত কেবল মাইকেই স্বাস্থ্যবিধির প্রচারণা, বাস্তবে উল্টো চিত্র! ভ্রুণ হত্যাকারী প্লাবনের গ্রেপ্তার দাবীতে নাসিরনগরে মানববন্ধন
পরিবর্তনের গল্প(৭)

পরিবর্তনের গল্প(৭)

রামাদানের ২৬ তারিখ। পক্ষ থেকে বিয়ের হালকা পাতলা শপিং করা হলো। আমিও টিউশনির টাকা থেকে টুকটাক কিছু শপিং করলাম ওর জন্য। কলেজে যাওয়ার পথে লুকিয়ে ওর কিছু জামাকাপড় দিয়ে আসতাম অপু ভাইয়ার কাছে। এদিকে ভাইয়া ওর এফিডেবিটের কাজটাও সেরে ফেললো। বিয়ের আগের দিন খুব বৃষ্টি ছিল, বৃষ্টির মধ্যে আমরা দুই বোন শেষবারের মত ঘুরতে বের হলাম। বসুন্ধরা সিটিতে ইফতার করলাম একসাথে। সিহিন্তার যে বিয়ে হয়ে যাবে, দূরে চলে যাবে সবই জানতাম কিন্তু তখনো মন থেকে মেনে নেইনি। সব এতো দ্রুত হচ্ছিলো যে কখন কিভাবে কি হয়ে যাচ্ছে বুঝে উঠতেই পারছিলাম না। যেন সব আগে থেকেই প্ল্যান করা। আল্লাহ কখন কি হবে সব ঠিক করে রেখেছিলেন। বাসায় ফিরে সিহিন্তা সারা রাত জেগে মাকে একটা চিঠি লিখল। ওর এই কাজের জন্য মা যেন ওকে ভুল না বুঝে, ওর এভাবে চলে যাওয়ার মূল কারন সংক্ষেপে বর্ননা করা হল। পরদিন সকালে মা অফিসে, আমি কলেজে চলে যাওয়ার পর মার আলমারিতে চিঠিটা রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হয়ে আসল। কিছু দ্বিনী বোন একটু দূরে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষায় ছিল। ওদের সাথে দাদীর বাসায় চলে গেল। ওরা ছিল NSU এর রিদিতা, মাহমুদা, আয়শা, আইনুর এবং আরো কিছু বোন যাদের নাম এখন মনে পড়ছে না। দাদীর বাসায় খুব দ্রুত বিয়েটা হয়ে গেলো। আমি কলেজ থেকে গিয়েছিলাম। বিয়ের পরপরই ওকে নিয়ে ভাইয়ারা ওদের বাসায় চলে গেলো। আমি বাসায় চলে আসলাম


বাসায় আসার পর হটাত করেই কেমন জানি খালি খালি লাগছিলো। এই প্রথম বুঝতে পারলাম সিহিন্তা চলে গেছে। আর আগের মতো একসাথে পড়তে বসবোনা,একসাথে রাত জেগে গল্প করা হবেনা,একসাথে লুকিয়ে সালাত পড়া হবেনা। কলেজ থেকে এসে সারাদিনের কাহিনী বলার কেও নাই। এতো একা লাগছিলো! ওর বিয়ের পর প্রথম বার এতো কাঁদলাম। মা আসলে বাসায়, সবাই জানতে পারলে বিয়ের কথা কি হবে এসব


তখন মাথায় আসেনি। শুধু বুঝতে পারছিলাম আমি একা হয়ে গেছি। [এখন থেকে আমার কাহিনী থাকবে ইন শা আল্লাহ। ] সিহিন্তার বিয়ে হয়ে গেলো। মাবাবা জানতে পেরে ওর বাসায় ছুটে গেলো। তারা বিশ্বাস করতে পারছিলোনা। সিহিন্তা যে না জানিয়ে বিয়ে করার মতো কাজ করতে পারে তা আসলে কেও ভাবতেও পারেনি। শুধু মা বাবা না,আমার কোনো আত্মিয়ও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি। বিয়ে হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করার নাই। মাবাবা বিয়েটা মেনে নিলো। কিন্তু মা অনেক কষ্ট পেয়েছিলো। সারাদিন কাঁদতো। মাঝে মাঝে মনে হতো এমন আঘাতে মার মানসিক অবস্থায়ও প্রভাব পরেছিলো। কষ্ট পেলেও মা রোজ সিহিন্তাকে কল করে খোঁজ নিতেন। ওর বাসায়ও যেতেন ওকে দেখতে। মা আসলে আমাদের অনেক বেশি ভালোবাসতো। সিহিন্তার বিয়ে হয়ে গেলো,আর তখন থেকেই আমার আসল পরীক্ষা শুরু হলো

মা রোজ কাঁদতো আর বলতো যেতোমার বোন আমাকে কষ্ট দিয়েছে,তুমি এমন কষ্ট দিওনা,তাহলে আমি মারা যাবো।আমি কিছুই বলতে পারতাম না। চুপ করে থাকতাম। সব আত্মীয়রাও একি কথা বলতো। বলতো যে তুমি তো দেখতেই পাচ্ছো তোমার বোন তোমার মাকে কতো কষ্ট দিয়েছে,তুমি কষ্ট দিওনা। আমি জানতাম আমাকেও এমন কষ্ট দিতে হবে। না পারতাম মাকে কথা দিতে না পারতাম মার কষ্ট সহ্য করতে। এবং এর ফল হলো ভয়াবহ। আমি ডিপ্রেশনে ভুগতে শুরু করলাম। সিহিন্তা আমার কষ্ট বুঝতো,কিন্তু ওর কিছুই করার ছিলোনা। আমি সবার থেকে দূরে দূরে থাকা শুরু করলাম। আত্মীয়দের বাসায় কম যেতাম। ক্লাস থেকে দেরি করে বাসায় যেতাম। ক্যাম্পাসে বসে থাকতাম ঘন্টার পর ঘন্টা। যেদিন ফ্রেন্ডরা থাকতোনা এই দুপুরে রাস্তায় হাটতে থাকতাম। বাসায় যেতে ইচ্ছা করতোনা। অনেক বেশি ডিপ্রেশনে ভুগতাম। কেও যাতে না জানে আমি মুসলিম তাই সকল ইসলামিক বই লুকিয়ে রেখেছিলাম। নেটেও আমার ভালো ইসলামিক ফ্রেন্ড ছিলোনা যে সাহায্য করবে। সিহিন্তাও সংসার নিয়ে ব্যস্ত। ইসলামের জ্ঞান অর্জনের দিকে আগালে মনে হতো মাকে কষ্ট দিচ্ছি,আবার মার কথা শোনাও অসম্ভব। অসম্ভব মানসিক কষ্টে থাকতাম প্রতিনিয়ত। রুমের দরজা আটকাতে দিতোনা মা। তাই রাতে একসাথে সব ওয়াক্তের সালাত পড়তাম। মনে যাতে কি হবে এই চিন্তা না আসে তাই ক্লাস, পড়া, টিউশনি দিয়ে সারাদিন এতো ব্যস্ত রাখতাম নিজেকে যে রাতে / ওয়াক্তের সালাত পড়েই টায়ার্ড হয়ে কখন জানি সেভাবেই ঘুমিয়ে পরতাম। নামায পড়া কমতে লাগলো। ইসলামের থেকে দূরে থাকার ফলে ঈমানও কমতে লাগলো। সিহিন্তার বাসায় যখন যেতাম খুব ভালো থাকতাম। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়তাম। মাথায় কাপর দিয়ে থাকতেও একটুও কষ্ট হতোনা। ওদের বাসার সবাই আমাকে অনেক আদর করতো। অপু ভাইয়া হাজ্ব করতে গিয়েছিলেন

কুরবানীর ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে ঈদ পর্যন্ত ওদের বাসায় থেকেছিলাম। কুরবানীর ঈদ যে আসলে কেমন হয় প্রথম বুঝলাম ওদের বাসায় ঈদ করে।ঈদের আগেরদিন সবাই মিলে গল্প করতে করতে চালের আটারর রুটি বানালাম।ঈদের দিন কুরবানী দেয়া,গোস্ত ভাগ করা ইত্যাদি অনেক কাজ। প্রথম ভুড়ি সাফ করা শিখলাম হাতে কলমে শরীফুন্নেসা আন্টির কাছ থেকে।ডিপ্রেশনের কথা ভুলেই যেতাম সিহিন্তার সাথে থাকলে। বাসায় আসার পর আবার শুরু হতো সেই পুরান কষ্ট।সিহিন্তা কি সুন্দর ইসলাম পালন করতে পারছে আর আমি পারছিনা। নামাযটাও পড়তে পারছিনা,পর্দা করা,কুরআন তেলাওয়াত শিখে ইত্যাদি তো দূরের কথা।ইসলামিক হালাকা গুলোতেও যেতে পারতাম না কারন বাইরে গেলেই মা কল দেয়। না ধরলে রেগে যাবে। আর হালাকা হয়ও আসরের ওয়াক্তে যখন আমার ক্লাস থাকেনা। আমাকে ফোনে না পেলে ফ্রেন্ডদের কল করলেই জেনে যাবে যে ক্লাস নাই তাও আমি বাইরে আছি

চলবে………

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design: About IT
x Close

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

Shares
CrestaProject