শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০৬:০১ অপরাহ্ন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সংবাদ শিরোনামঃ
দুটি আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেলেন প্রথম সারির করোনা যুদ্ধা জহিরুল হক বিল্লাল আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেলেন এড. মো: আয়ুবুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকসহ আটজন গ্রেপ্তার কর্মকর্তার অবহেলায় গৃহহীনরা পায়নি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর!  বর্ষাকালে ত্বকের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ গুরুদাসপুরে পীরপাল মাজার শরীফের অর্থআত্মসাত ও গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ সাবেক খাদেমের বিরুদ্ধে নাসিরনগরে ” বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি” পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসামীর ছুরিকাঘাতে দারোগা নিহত কেবল মাইকেই স্বাস্থ্যবিধির প্রচারণা, বাস্তবে উল্টো চিত্র! ভ্রুণ হত্যাকারী প্লাবনের গ্রেপ্তার দাবীতে নাসিরনগরে মানববন্ধন
পাপ ছাড়েনা বাপকেও! পুলিশের পোশাকের আড়ালে এসআই রকিবের ইয়াবার রমরমা ব্যবসা অবশেষে ১৮ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার

পাপ ছাড়েনা বাপকেও! পুলিশের পোশাকের আড়ালে এসআই রকিবের ইয়াবার রমরমা ব্যবসা অবশেষে ১৮ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার সাবেক ওসি অপারেশন শহীদ ও এসআই রাকিব সহ ৫ জন ১৮ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে কুমিল্লা দাউদকান্দি থানায় র‌্যাব এর হাতে গ্রেফতার হয়েছে। র‌্যাব-১ উত্তরা ঢাকার একটি দল গত বুধবার গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে। এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করে। র‌্যাব-১ সূত্র ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, র‌্যাবের একটি দল বুধবার গভীর রাতে দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় ঢাকা অভিমুখী (ঢাকা মেট্রো ল ৪৩-৭৩-১৩) একটি প্রাইভেটকার আটক করে এতে তল্লাশি চালায়। এসময় র‌্যাব ওই প্রাইভেটকার থেকে ১৮ হাজার ৪৭০ পিস ইয়াবা, ৪৫ বোতল ফেনসিডিল ও ৯টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। এসময় র‌্যাব মাদক বহনের দায়ে ওই প্রাইভেটকারের আরোহী মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার বালাসুর গ্রামের হেলাল ভূঁইয়ার ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৭), ঢাকার উত্তরা ১৪নং সেক্টরের বাসা নং- ৬০ এর দ্বীন ইসলামের ছেলে জামাল হোসেন (৩২), রাজশাহীর বাঘা থানার বাদুভাঙ্গা গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে শাহ আলম (৩০), সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বনামালী গ্রামের জোর্ডান উদ্দিন আকন্দের ছেলে রাকিবুল হাসান (৪১), মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পশ্চিম শিকাড়মঙ্গল গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে শহীদুর রহমানকে (৩৫) গ্রেফতার করে। র‌্যাব সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শহীদুর রহমান ময়মনসিংহ সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক ও রাকিবুল হাসান গাজীপুর টঙ্গী ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত। গ্রেফতারকৃতদের গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

মুলহোতা কেএই রকিবুল হাসান??? রকিব সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলার বনমালী গ্রামের জোরডান উদ্দিন আকন্দর ছোট ছেলে। এবং সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার চরনরিনা পীরের বড় মেয়ে নাইয়ারা বেগম ও বলদীপাড়া গ্রামের ডাঃ জাহাঙ্গীর আলমের বড় মেয়ের জামাই। দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রাম রুট ব্যাবহার করে পুলিশের পোশাকের আড়ালে মাদক সেবন ও ব্যাবসা করে আসছিল এই রকিব। এসআই রকিবুল হাসান ২০১২ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুষ লেনদেনের সময় হাতেনাতে গ্রেফতার হন। দীর্ঘ দিনের কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পায়। এরপর দুদকের মামলায় দীর্ঘ ৬ বছর আইনী লড়াই শেষে ২০১৮ সালে চাকুরী ফেরত পান। এরপর তাকে খুলনা থানায় পোস্টিং করা হয়। সেখানেও বেপরোয়া হয়ে উঠে নেশাগ্রস্ত রকিবুল হাসান। নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে পরেন রকিব। নির্দেশ আসে বদলির, টঙ্গী পশ্চিম থানায় নিয়োজিত করা হয় তাকে। এখানে পরিচয় হয় ওসি অপারেশন শহিদুর রহমানের সাথে। দুজনই মাদকাসত্ত হওয়াতে সম্পক গভীর হয়। সখ্যতা তৈরি করেন এলাকার নানা মাদক সেবী ও বড় মাদক ব্যাবসায়ী কাটা বাবুর সাথে। জমতে থাকে ইয়াবার ব্যাবসা ও সাম্রাজ্য। প্রশাসনের নাকের ডগায় রকিব ও শহিদ জিনাত মহল্লা বস্তিতে গড়ে তোলেন নিজস্ব বলয়। একাজে বাধা দেয়ায় সাবেক কাউন্সিলর সেলিমকে থানায় এনে অন্ডকোশে আগুন ধরিয়ে দেন এই শহিদ ও রকিব। প্রতিনিয়ত নিরহ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে পুলিসের সোরসের হাতে নিজের পিস্তল তুলে দেন। পত্রিকায় নিউজ হয় রকিব দারোগার পিস্তল সোর্সের হাতে। প্রশাসন অতি দ্রুত রকিবকে প্রত্যাহার করে। এরপর ওএসডি রাথা হয় দীর্ঘ দিন। চতুর রকির ম্যানেজের মাধ্যমে টাকা খরচ করে পোস্টিং নেয় চট্টগ্রাম পতেঙ্গা থানায়। কথায় আছে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে। মাদকাসক্ত রকির পতেঙ্গায়ও ইয়াবার রাজত্ব গড়ে তোলেন। সম্পর্ক হয় ইয়াবা সম্রাট কালা কুদ্দুসের সাথে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ইয়াবা ব্যাবসার ঘাটি হওয়াতে ব্যাবসায় সকল কলাকৌশল আরো বেশি রপ্ত করে ফেলেন। ফিরে আসতে চায় সেই পুরনো ঘাঁটি টঙ্গীতে। কারন এখানেই পুরনো সহকর্মী ও বন্ধু শহিদূর রয়েছে। আর বিজনেসের জায়গাটাও একদম হাতের মুঠোয়। তদবির করে বদলিও হয়ে যান। ২০১৯ সালের শেষে বদলি হয়ে চলে আসেন আবার গাজীপুর জেলার টঙী থানায় টুরিস্ট পুলিশ হিসেবে। রথপথ সব কিছুই চেনাজানা মিলিত হন পুলিশের পরিদর্শক শহিদুর রহমানের সাথে এরপর ব্যাবসা বড় করতে যুত্ত করেন রাজশাহীর শাহ আলম,উত্তরার জামাল মুন্সিগঞ্জের আরিফুলকে। সারাদেশে সাপ্লাই দিতে জমিয়ে তোলেন জম্পেশ ইয়াবা বাজার। পুলিশের পোশাকের আড়ালে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান এনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাপ্লাই করতে থাকেন। বনে যান মাদকসেবি থেকে ইয়াবা ব্যাবসায়ী। গাজীপুরে আলিশান বাড়ি জায়গা সহ স্ত্রী রিয়াদুল ফেরদৌসী রিয়ার নামে গড়ে তোলেন ব্যাংক ব্যালেন্স।শাশুড়ী নাইয়ারা বেগমের নামেও রয়েছে একাধিক একাউন্ট। অনুসন্ধানে জানা যায় উল্লাপাড়ার বনমালী গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক জোর্ডান উদ্দিন আকন্দের সন্তান রকিব ও রফিক দুই ভাই প্রচন্ড ধুরন্ধর, চালাক ও বাটপার প্রকৃতির। ভাই রফিক চাকুরী করতেন প্রধানমন্ত্রী কাযা ল’য়ে দুর্নীতি ও ঘুষের দায়ে চাকুরী হারিয়েছেন। বর্তমানে মাল্টিপারপাস ব্যাবসার নামে বেকার যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design: About IT
x Close

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

Shares
CrestaProject