শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সংবাদ শিরোনামঃ
দুটি আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেলেন প্রথম সারির করোনা যুদ্ধা জহিরুল হক বিল্লাল আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেলেন এড. মো: আয়ুবুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকসহ আটজন গ্রেপ্তার কর্মকর্তার অবহেলায় গৃহহীনরা পায়নি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর!  বর্ষাকালে ত্বকের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ গুরুদাসপুরে পীরপাল মাজার শরীফের অর্থআত্মসাত ও গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ সাবেক খাদেমের বিরুদ্ধে নাসিরনগরে ” বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি” পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসামীর ছুরিকাঘাতে দারোগা নিহত কেবল মাইকেই স্বাস্থ্যবিধির প্রচারণা, বাস্তবে উল্টো চিত্র! ভ্রুণ হত্যাকারী প্লাবনের গ্রেপ্তার দাবীতে নাসিরনগরে মানববন্ধন
বিদ্যালয়কে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

বিদ্যালয়কে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

       মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন

 প্রধান শিক্ষক, বাড্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

 

ই হক/এল পি: শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। নেপোলিয়ন বোনাপোট্র্ বলেছিলেন, “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব”। এই অভিব্যাক্তি হৃদয়ে ধারন ও লালন করেই শিক্ষানুরাগী ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্বের অধিকারী বাড্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বিদ্যালয়টিকে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠে পরিনত করার প্রচেষ্টায় রত আছেন। তার আন্তরিকতায় প্রতিষ্ঠানটি আজ সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে।

সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার দাইরা গ্রামে এক সভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মো: জালাল উদ্দিন ও মাতা বিয়া খানম। মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন দুই সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে একজন ডক্টর এবং ছোট ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন শিক্ষা জীবনের হাতখড়ি বাড়িভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং বদরপুর আকবর আলী খান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে এস এস সি এবং ঢাকা বাণিজ্যিক মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে  এইচ এস সি পাশ করেন। ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাষ্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ২০০০ সালে শান্তা মরিয়ম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে মাষ্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এই শিক্ষানুরাগী ও সফল শিক্ষক মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন’র সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রেসহ সমসাময়ীক বিভিন্ন দিক নিয়ে ‘মানবজীবন’পত্রিকা তার মুখোমুখি হন। পাঠকের উদ্দেশ্যে এখানে তা উপস্থাপন করা হলো-

মানবজীবন: কেমন আছেন?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

মানবজীবন: আপনার কর্মজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: শিক্ষকতার মহান পেশার মাধ্যমে আমার কর্মজীবন শুরু হয়। আমি ১৯৯৫ সালে লালবাগ ইসলামবাগ আশরাফ আলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। ২০০৮ সালে কেরানীগঞ্জ শাক্তা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক এবং একই বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হই। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বাড্ডা গালর্স স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে অদ্যাবদি এই স্কুলেই দীর্ঘ সাত বছর ধরে কর্মরত আছি।

মানবজীবন: বিদ্যালয়টিতে পাশের হার কত?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: বাড্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার শতভাগ। আমাদের সভাপতি ও শিক্ষকমন্ডলির আন্তরীক সহযোগিতায় শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হই। যার ফলশ্রুতিতে বিদ্যালয়টিতে এস এস সিতে শতভাগ পাশের হার নিশ্চিত লাভ করি।

মানবজীবন: দেশে ইভটিজিং এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এদিক থেকে আপনার বালিকা বিদ্যালয়ের উপর কোন প্রভাব আছে কি?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: এ কথা শুনে খুশি হবেন যে, সভাপতি মহোদয় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং তার বাড়ি আমাদের বিদ্যালয়ের খুব কাছে হওয়াতে তিনি নিজেই প্রতিদিন সকালে এবং বিকেলে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাগুলি পরিদর্শন করেন। এছাড়া আমরা সকলেই সজাগ দৃষ্টির মাধ্যমে সর্বোত্বভাবে ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেষ্ট।

মানবজীবন: বর্তমান সরকার শিক্ষার ব্যাপারে কতটুকু অগ্রগামী বলে আপনি মনে করেন?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। শিক্ষার মান উন্নয়নে এই সরকার জিরো টলারেন্স ব্যক্ত করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উপস্থিতির হার বাড়ানোর লক্ষ্যে বৃত্তি / উপবৃত্তি সহ বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা প্রশংসার দাবীদার। আর এইসব পদক্ষেপের কারনেই আমাদের শিক্ষার হার বেড়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় যেতে আগ্রহী হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে ভবিষ্যতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তার নিজ্বস্ব চাওয়া পাওয়া বলতে কিছুই নেই। এই দেশের জনগণের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি নিবেদিত প্রান। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোত্বভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মানবজীবন: এই সরকারের আমলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে অভিযোগ উঠছে, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: আপনারা জেনে থাকবেন, সমাজে কিছু কুচক্রি লোক সবসময়ই থাকে যারা বর্তমার সরকারের ইমেজ ক্ষুন্ন করার প্রয়াসে এসব রটিয়ে বেড়াচ্ছে। এই কুচক্রি মহল নিজেরাই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কিছু প্রশ্ন ফাঁস করছে যা মুলত মুল প্রশ্নপত্রের সাথে আদৌ মিলছে না। সরকারকে এবং শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্ত করার মানসেই এসব করছে। তাই এসব গুজবে কান না দেওয়াই শ্রেয়।

মানবজীবন: শিক্ষার্থীদের নৈতিক মান উন্নয়নে আপনার ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি কি?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: নৈতিকতার দিক থেকে বলতে গেলে বলব, এ বিষয়ে আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা বরাবরই অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্লাসের বাইরে ও নৈতিক বিষয়ে জ্ঞান দান করে থাকি। আমি নিজেই যখন ক্লাসে যাই অথবা ভিজিট করি, তখন প্রথমেই জানতে চাই নামাজ আদায় করছে কিনা সব শিক্ষার্থী। মুসলিম ছাড়াও অন্যান্ন ধর্মালম্বি শিক্ষার্থীদের কাছেও তাদের উপাসনা করছে কিনা এ ব্যপারে জানতে চাই। এছাড়া মানবিক চরিত্র গঠনে সহায়ক বিভিন্ন নীতিবোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরি। যাতে ভবিষ্যতে বর্তমান প্রজন্ম সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল সাধনে সচেষ্ট হয়। আমি একজন শিক্ষার্থীর ভালো পাশ করার থেকেও তার গুণগত মেধা কতটুকু বিকশিত হচ্ছে তার উপর গুরুত্ব দেই। শিক্ষার গুনগত মান কমে যাচ্ছে বলে যেটা বলা হচ্ছে আসলে এটা একটা মিথ্যা, ভিতিকর পরিস্থিতি তৈরি করার মানসে কিছু অসৎ প্রবাগান্ডা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরই শিক্ষার ব্যাপারে আন্তরিক। তাই ভিতিকর পরিবেশ, পরিস্থিতি তৈরি করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা আদৌ সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি।

মানব জীবন: আপনার বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থীর অর্জন সম্পর্কে কিছু বলুন?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ শ্্েরষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে আমাদের বাড্ডা বালিকা মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাবিকুন্নাহার ইরিন।

মানবজীবন: শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আপনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সন্মাননা পেয়েছেন, সম্মাননাগুলো কি বলবেন?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: শিক্ষার প্রতি আমার অনুরাগ শৈশব থেকেই বলা চলে। তাই আমি শিক্ষা নিয়ে কাজ করা আমা নেশা ও পেশা। যে কোনো ভালো কাজের স্বৃীকৃতি পাওয়াটা অবশ্যই আনন্দ ও উৎসাহের। এ স্বীকৃতি সম্মাননাপ্রপ্তি ব্যাক্তির কর্ম প্রেরণা যেমন যুগায় তেমনি ভালো কাজের প্রতি আরো উৎসাহিত করে। সমাজের ভালো কাজগুলোকে আরো তরান্বিত করে। যারা আমাকে সম্মানীত করেছে তাদের প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। সম্প্রতি  শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মানে ভূষিত হয়েছি। যেমন- মৈত্রি সম্মাননা পদক ভারত -২০১৮, শেরে বাংলা স্মৃতি সম্মাননা পদক-২০১৭, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী স্মৃতি সম্মাননা পদক-২০১৭, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সম্মাননা -২০১৭, অতীশ দীপঙ্কর স্মৃতি সম্মাননা -২০১৮, মহান মাতৃভাষা দিবস সম্মাননা-২০১৮, মহান স্বাধীনতা দিবস সম্মাননা -২০১৮, বাংলা নববর্ষ সম্মাননা পদক-২০১৮, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট সম্মাননা পদক-২০১৮, কবি ইসমাইল হোসেন সিরাজী সম্মাননা-২০১৮, মাদার তেরেসা শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০১৮, ইউনিটি ফর ইয়ং জার্নালিস্ট সম্মাননা-২০১৮, নেলসন মেন্ডেলা সম্মাননা-২০১৮, বাংলাদেশ নেপাল ফ্রেন্ডসীপ সম্মাননা-২০১৮ ইত্যাদি। আগামী সেপ্টেম্বর-২০১৮ তে নেপালে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনার ফ্রেন্ডশীপ এ্যাওয়ার্ড এর জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছি।

মানবজীবন: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন?

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: যেহেতু আমি একজন শিক্ষক তাই বলব, যেমন একজন লোক যদি গাছ লাগায় তাতে ফল ধরার পরেই তিনি স্বার্থক হন, তেমনি  একজন শিক্ষক হিসেবে আমার স্বপ্ন আমি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আছি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি রয়েছেন ওনার চাহিদা ও আকাংক্ষা অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের একটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরন শ্রম দিয়ে যাবো।

মানবজীবন: আপনার মূল্যবান সময় প্রদান করার জন্য ধন্যবাদ। আপনার পথচলা হোক ফুলের সৌরভের ন্যায় পুষ্পটিত ও দিপ্ত শিখার ন্যায় প্রজ্বলিত।

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন: আপনাদের পত্রিকা ‘মানবজীবনে’র প্রতি রইল আমার হৃদয়ের গভির থেকে দোয়া ও অভিনন্দন। সত্যের লেখনী দ্বারা এগিয়ে চলুক আপনাদের সাহসী ভুমিকা।০

 

 

 

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design: About IT
x Close

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

Shares
CrestaProject