রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সংবাদ শিরোনামঃ
ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য  নাছিরপুর ঈদগাহের প্রতিরক্ষা দেয়ালের নির্মাণের কাজ পরিদর্শন করেন – রাফি উদ্দিন  নারী উদ্যোক্তাদের কল্যাণে আজীবন করে যাব …রুপা আহমেদ, প্রধান অ্যাডমিন, নারী উদ্যোক্তা বাংলাদেশ   ম্যারাডোনার মরদেহ তিনদিন থাকবে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে নাসিরনগরে মোবাইল কোটে ৬৮০০ টাকা অর্থদন্ড আদায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাদ থেকে পড়ে দুই নির্মাণ শ্রমিক হতাহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়ার ইন্তেকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ শুরু দেশের মানুষ পুলিশের খারাপ আচরণ প্রত্যাশা করেনা : ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য সহকারীর বদলীর প্রতিবাদে নাসিরনগরে মানববন্ধন 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওএমএস তালিকা কেলেঙ্কারি : আ’লীগ নেতা শাহ আলমের ডিলারশীপ বাতিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওএমএস তালিকা কেলেঙ্কারি : আ’লীগ নেতা শাহ আলমের ডিলারশীপ বাতিল

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
বিশেষ ওএমএস তালিকা কেলেঙ্কারিতে শেষতক ফেঁসেই গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মো. শাহ আলম। হারিয়েছেন ওএমএস ডিলারশীপ। জেলা ওএমএস কমিটির সদস্য সচিব জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবির নাথ জানান। ১৩ মে বুধবার বিকেলে কমিটির সভাপতি এবং জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা ওএমএস কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
করোনা পরিস্থিতিতে ভিক্ষুক ও ভবঘুরেসহ হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের চালু করা বিশেষ ওএমএস সুবিধা ভোগীদের তালিকা শাহআলম নিজের স্ত্রী-সন্তান এবং আত্বীয় পরিজনের ১৩ জনের নাম অন্তর্ভূক্ত করান। এনিয়ে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রশাসন তদন্তে নেমে পায় বিষয়ের সত্যতা। এরপরই শাহ আলমের ডিলারশীপ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সোমবার দুই দিনের সময় দিয়ে তার ব্যাখ্যা তলব করেন জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক। শাহ আলমের প্রদত্ত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় শেষতক বাতিল করা হয় তার ডিলারশীপ।
মো. শাহ আলম ব্রাহ্মণাবড়িয়া পৌরশহরের কাউতলি এলাকার ওএমএস ডিলার ছিলেন। পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউতলী গ্রামের বাসিন্দা এই নেতা প্রভাব খাটিয়ে তার গ্রামের বিশেষ ওএমএস সুবিধাভোগীদের তালিকা করেন। আর এতে ভিক্ষুক, ভবঘুরে, সাধারণ শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, চায়ের দোকানদার, হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজনকে বঞ্চিত করেন তিনি। প্রশাসনের চকিত তদন্তে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউতলী গ্রামের তালিকায় শাহ আলমের স্ত্রী-সন্তানসহ ১৩ স্বজনের নাম পাওয়া যায়। তারা হচ্ছেন স্ত্রী মোছাম্মৎ মমতাজ আলম, মেয়ে আফরোজা, কাতার প্রবাসী শ্যালকের স্ত্রী মোছাম্মৎ জান্নাতুল ইসলাম,আরেক শ্যালকের স্ত্রী আছমা ইসলাম, দুই শ্যালক মো. তাজুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম, বোন শামসুন্নাহার, মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাতিজা নাছির, ভাই জেলা পরিবহন শ্রমিক সমিতির সভাপতি মো. সেলিম, আরেক ভাই মো. আলমগীর, বোনের দেবর আতাউর মিয়া, লুৎফুর মিয়া এবং মাহবুব মিয়া। এই গ্রামের মোট ২২ জনের নাম পাওয়া যায় যারা সামর্থ্যবান। গোটা পৌরসভায় ওই তদন্তে গরীবের ওএমএস তালিকায় অনিয়মে নাম উঠেছে এমন ৯১জনের সন্ধান মিলে। বুধবার বিকেলের সভায় তালিকা থেকে তাদের নাম বাতিল করতে পৌরসভাকে অনুরোধ করা হয়। এরআগে সোমবার বিদ্যমান তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সামর্থ্যবান ভোক্তাদের চিহ্নিত করতে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রনীতব্য তিন হাজার ৬০০ জন ভোক্তার তালিকা প্রনয়নে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে মেয়রকে চিঠি দেন জেলা প্রশাসক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় প্রথম দফায় প্রত্যেক ওয়ার্ডে ৫০০ জন করে মোট ছয় হাজার জনের নাম তালিকাভূক্ত করা হয় সরকারের এই কর্মসূচির জন্যে। গত ২১ এপ্রিল তাদের নামে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। বিশেষ ওএমএস কার্ড সুবিধের বিপরীতে একজন ভোক্তা প্রতিমাসে ১০টাকা কেজিতে ২০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design: About IT
x Close

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

Shares
CrestaProject