বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সংবাদ শিরোনামঃ
আনুশকার মায়ের পা জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে যা বলেছিলো দিহান নামাজে আমরা যা বলি, তার অর্থ জানলে নামাজে অন্য চিন্তা মাথায় আসবেনা!! মোটরসাইকেলের ধাক্কায় অর্থনীতিবিদ শামসুল আলম গুরুতর আহত ছাড়তে হয়েছে লবণচাষ, এখন চায়ের দোকানি মুনাফ দুই কিলোমিটারের মধ্যে স্কুল নির্মাণের প্রস্তাব বাতিলের দাবি মবিলের বোতলে ১০ হাজার ইয়াবা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর স্ত্রী মারা গেছেন শীতলক্ষ্যা নদী খননের নামে সিবিএ নেতা জাহাঙ্গীরের সেল্টারে মাটি বিক্রির অভিযোগ, হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা সাংবাদিক নির্যাতন : দুই পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দিহান-আনুশকার ম্যাসেঞ্জারে চ্যাট ফাঁ’স- ‘চা;ঞ্চল্যকর’ তথ্য পেল পু’লিশ
মাজারগুলো ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র হতে পারে

মাজারগুলো ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র হতে পারে

মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ: সম্প্রতি আমার সিলেট ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকেই আমার মনে হয়েছে এ মাজারগুলো দাওয়াতের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ কম তা নয়। তবে, চ্যালেঞ্জগুলো উত্তোরণ করা সম্ভব। হ্যাঁ, আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। কিন্তু যুক্তির বিচার সবার জন্য উন্মুক্ত।

সমসাময়িক পরিস্থিতিতে একথা বলা যেতে পারে যে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের সকল মাজারগুলো ইসলামী দাওয়াতের, প্রচার প্রসারের ফলপ্রসু কেন্দ্র হতে পারে। কিন্ত তা হবে বিশেষ কিছু শর্ত সাপেক্ষে। মাজার সম্পর্কে প্রচলিত তর্ক-বিতর্কই বরং ইসলাম ও প্রকৃত মুসলিমদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে প্রতিনিয়ত।

আমার পি.এইচ.ডি থিসিস লেখার সময় একটি ফিল্ডওয়ার্ক ছিল। সেখানে ৫৫৬ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করেছিলাম। সেখানে মানুষের মাজারে যাওয়ার পরিমাণ, উদ্দেশ্যও ছিল। সেখানে আমরা দেখেছিলাম বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কোন না কোন কারণে পিরের কাছে এবং মাজারে যান। সেখানে তাদের উদ্দেশ্যের ভিন্নতা অবশ্যই আছে কখনও তা শরয়ী দৃষ্টিতে নিন্দনীয়, কখনও তা গ্রহণীয়। তাই শুধু শুধু কোন কিছুর মধ্যে খারাপ কিছু না খুজে বরং তাতেও কল্যাণের বিষয়গুলোকে খুজে বের করে তা কাজে লাগাতে পারলেও বরং সফলতা আশা করা যায়।

আসল কথায় আসি। সিলেট শহরের প্রায় প্রতিটি মাজারেই আমি গিয়েছিলাম। হযরত শাহাজালাল (র.), হযরত শাহ পরাণ (র.), হযরত বুরহান উদ্দীন (র.), হযরত  সৈয়দ চাষনী পীর (র.), হাজী গাজী শাহ মিরাজী (র.) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। হযরত শাহ জালাল (র.) ও হযরত শাহ পরাণ (র.) এর মাজারেই বেশি ভিড় লক্ষ্য করলাম। তবে, আশ্চার্য হয়েছিলাম হযরত সৈয়দ চাষণী পীর (র.) এর নামকরণ নিয়ে। তিনি হযরত শাহ জালাল (র.)-এর সফর সঙ্গী ছিলেন যিনি চুষে মাটি পরীক্ষা করতেন এবং সিলেটের মাটির সাথে তাদের আনিত মাটির সাথে মিল খুজে পান বলেই হযরত শাহ জালাল (র.) সখানে আস্তানা নির্ধারণ করেন এবং দ্বীন প্রচারের জন্য আত্মনিয়োগ করেন।

ইসলাম প্রচার ও প্রসারে হযরত শাহ জালাল (র.) এর অবদান শিক্ষিত মহল মোটামুটি অবহিত। তার অবদানকে অস্বীকার করে বাংলাদেশ তথা পূর্ববাংলায় ইসলামের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়। সত্যিকার অর্থে ইসলামকে প্রচারের নিমিত্ত্বে তিনি সব ধরনের উপায় অবলম্বন করেছেন। যুদ্ধ করেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ইসলাম ও মুসলিমদেরকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের বিরুদ্ধে, মসজিদ, মাদ্রাসা স্থাপন করেছেন। শীর্ষদেরকেও নির্দেশ দিয়েছেন অশিক্ষিত এই জনগোষ্টিকে ইসলামের শিক্ষা দেয়ার জন্য। তারাও তাঁর নির্দেশমত ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছেন বিভিন্ন প্রান্তরে। কত মানুষই তাদের দাওয়াতকে কবুল করে আল্লাহর ইচ্ছায় ঈমানের স্বাদ নিয়েছেন। অথচ সেই তাদেরকে নিয়েই শিরক্, কুফর, বিদা’আত বিস্তার ঘটছে এটা খুবই দুঃখজনক। কিন্তু দূঃখ প্রকাশ করে তা থেকে বাঁচার উপায় বের করা যাবে না বরং পরিস্থিতিরি উত্তোরণের উপায় বের করা জরুরি। যেহেতু অসংখ্য মানুষ এসব মাজার কেন্দ্রিক ঘুরাফেরা করে কিংবা সেখানে যায় তাদের মধ্যে প্রকৃত ইসলামের দাওয়াত পৌছানো খুবই সহজ হবে যদি নিন্মোক্ত কার্যগুলো সম্পাদন করা যায়:

ক্স       দেখুন কবরের কাছে যেয়ে তাদের মাগফিরাত কামনা করা দোষের নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে জান্নাতুল বাকীতে আল্লাহর নির্দেশে গভীর রাতে কবরবাসীদের জন্য দু’আ করতেন। আর তাই এসব জায়গায় সঠিক আক্বিদার ও জ্ঞানী-প-িত লোকদের যাতায়াত বেশি করা দরকার। যাতে করে সেখানে মোমবাতি জ্বালানো আর শিরনী খাওয়ার লোকের সংখ্যায় কমে যায়। তাতে করে আসল উদ্দেশ্য কবর জিয়ারত ও কবরবাসীদের জন্য মাগফেরাত কামনা করার লোকের সংখ্যা বেড়ে যায়। তাদের দেখাদেখি নিশ্চয়ই মোমবাতি জ্বালানো, মাজারে সিজদা ও চুমু খাওয়া, মানত করার লোকের অভ্যাসে পরিবর্তন আসবে। কারণ, যখন তারা দখবে অধিকাংশ লোকেরা এটা করে না তখন তারাও নিজেদেরকে নিবৃত্ত রাখতে সচেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, পঞ্চাশ জন লোক যদি হযরত শাহ জালালের মাজারের চার পাশে না দাড়িয়ে শুধুমাত্র পূর্ব পাশে দাড়িয়ে কেবলা মুখি হয়ে আল্লাহর কাছে তাঁর মাগফেরাতের জন্য দু’আ করে আর সেখানে আগত অন্যান্যরা যখন দেখবে যে মাজারের অন্যান্য পাশে জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন এই লোকগুলো একপাশে দাড়াবে তখন নিশ্চয় এ নিয়ে জানতে চাইবে। এ সুযোগেই তাদের মাঝে ইসলামের শিক্ষাটা তুলে ধরা যাবে।

ক্স       হযরত শাহ জালাল (র.) সহ অন্যান্য পীর-মাশায়েখদের সত্যিকার উদ্দেশ্য, কর্মপদ্ধতি, কার্যবিবরণীসমূহ তার অনুসারীদের মাঝে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা। আমি দেখেছি দু’আর সময় পর্যায়ক্রমে যখন হযরত শাহ জালাল (র.), শাহ পরাণের (র.) নাম উচ্চরণ করা হয় তখন ভক্তগণ আবেগে কেঁদে ফেলেন। দূঃখজনক হলেও সত্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নাম উল্লেখের পরে তাদের মাঝে এতটা আবেগ লক্ষ্য করা যায় না। অথচ, তারা কিন্তু সেই রাসূলুল্লাহ (সা.) ও আল্লাহকে ভালবাসে বলেও হযরত শাহ জালাল (র.), শাহ পরান (র.) এর জন্য আবেগে আপ্লুত হয়। সুতরাং তাদের শিক্ষাগুলো যদি সত্যিকার অর্থে এসব ভক্তগণের কাছে তুলে ধরা যায় তখন তারা সহজেই তা গ্রহণ করতে চাইবে।

ক্স       অজ্ঞতার দূরিকরণে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর কোন বিকল্প নেই। এসব মাজারে আগত লোকদের অধিকাংশ স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত। বিশেষ করে ইসলমী জ্ঞানের ক্ষেত্রে। তাছাড়া ছিন্নমূল, ফকির-মিসকিনতো আছেই। অথচ এদের সংখ্যা মোটেও অবহেলা করার মত নয়। এসব মাজারের পরিচালকরাও সত্যিকার অর্থে সুফিজম, আধ্যাতিকতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। অনেক কষ্ট করে আমি শাহ জালাল (র.)-এর মাজারের মুতাওয়াল্লির সাথে সাক্ষাত করেছিলাম। জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত অল্পবয়সী এ ব্যক্তিটি বংশ পরস্পরায় মহৎ এ দায়িত্বটি পেয়েছেন। জিজ্ঞাসা করলাম শাহ জালাল (র.) এর শিক্ষা, আদর্শ, দাওয়াতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, কার্যাবিধি ও পদ্ধতি, তাঁর স্বপ্নকে ভবিষ্যত ভক্তদের কাছে তুলে ধরার কোন ব্যবস্থা আপনাদের আছে কিনা বা নিবেন কিনা। উত্তরে তিনি যা বললেন তা খুবই দূঃখজনক। তিনি বললেন, আমাদের এরকম কোন ইচ্ছা নেই। মাজার হলো পাগল, অনাথদের জায়গা। তাদের দুবেলা খেতে দিতে পারাই আমাদের একমাত্র কাজ। আর এটাই হলো সত্যিকার অর্থে সুফিজম। বিষয়টা হাস্যকর নয় কি?

পরিশেষে একটা কথা বলব, কোন জিনিসকে বা বিষয়কে খারাপ বললেই তা থেকে মানুষ বিরত থাকবে না। কথায় কথায় শিরক্, বিদ’আত, কুফুরি বললেই মানুষ সেগুলো থেকে ফিরে আসবে না বরং তার বিকল্প দিতে হবে তাদের। আর সেগুলো হবে অত্যন্ত হিকমতপূর্ণ। অন্য আরো একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, রাতারাতি সবকিছুই সমাধান করা সম্ভব নয়। ধারাবাহিকতা রক্ষা করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুতে হলে অপেক্ষা করতে হবে। সংস্কারের রূপ হবে তাই স্বচ্ছ ও পরিকল্পনামাফিক।

লেখকবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগবেষক  প্রাবন্ধিক।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design: About IT
x Close

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

Shares
CrestaProject