সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
  • বিকাল ৪:৩৫ | ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী

শিক্ষাই হলো জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম

আব্দুল্লাহ আল মামুন

যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত। বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বছরের প্রথমদিন বিনামূল্যে বই বিতরণ, নারী শিক্ষার প্রসার, শিক্ষাসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, শিক্ষা নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল ক্লাসরুম, ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃৃত্তি প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো গত উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেতে সরকারের অর্জন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষক সংকট ও কোন দুষ্ট চক্রান্ত যাতে এই অর্জনকে ম্লান করে না দেয় সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। শিক্ষাজাতির মেরুদন্ড। একটিরাষ্ট্রে শিক্ষাব্যবস্থা যত শক্তিশালী, সে রাষ্ট্রেরভিত্তি তত মজবুত হয়ে ওঠে। শিক্ষা ব্যবস্থার এ ভিত মজবুত করতে হলে শিক্ষা কারিকুলাম, পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণালব্ধ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন বৈষম্য দূর করতে হবে।
শিক্ষার মানউন্নয়নের লক্ষ্যে কোন পদ্ধতি চালু করার পূর্বে শিক্ষকদের বাস্তব-সম্মত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন শিক্ষককে দক্ষ করে তুলতে হবে। প্রশিক্ষনের অভাবে দক্ষতাহীন শিক্ষকের কারনে যেন পদ্ধতিটি ব্যর্থ হয়ে না যায়। কোন শিক্ষক যেন প্রশিক্ষণ এবং কোন ধরনের অধ্যয়ন ছাড়াই শ্রেণী কক্ষে পাঠদান না করান। সকলশিক্ষককেপ্রশিক্ষণনিতেহবে।প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতার সাথে শ্রেণী কক্ষে পাঠ দান করাতে হবে এবং শিক্ষার্থীদেরকে যে কোন পদ্ধতির প্রয়োগ যথাযথভাবে করাতে হবে।মনে রাখতে হবে শিক্ষাই হলো জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম। একজন শিক্ষার্থীকে বিকশিত করে তুলতে হলে পুথিগত বিদ্যার পাশাপা শিনির্দিষ্ট কারিকুলামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বকে জানার আগ্রহ তৈরী করতে হবে। তাহলেই তার জ্ঞানের পরিধিও বাড়বে।
অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন জ্ঞানচর্চা করেলাভ নেই, শুধু একটি সার্টিফিকেট হলেই হবে। আমাদের পড়ালেখার মূল উদ্দেশ্য চাকুরী এ কথা ভাবা ঠিকনা। কারন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান চর্চা করা, বিশ্বকে জানা, সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিররহস্য উদঘাটন এবং এ সম্পর্কে গবেষণা করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় যাতে কম না থাকে এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপাতেরও সামঞ্জ্য থাকতে হবে। ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে যাতে দূরত্ব পরিলক্ষিতনা হয়। ছাত্র-শিক্ষকমিলে যে জ্ঞানচর্চা হবে সেটিও যাতে অবরুদ্ধ না হয়ে যায়। আধুনিকতার সঙ্গে তালমিলাতে গিয়ে নানাপরিবর্তন আসবে। কিন্তু পরিবর্তন শীলবিশ্বে পাঠ্যপুস্তকে নতুন নতুন তথ্য সংযুক্তির সঙ্গে শিক্ষকদেরও সঠিক যোগাযোগ থাকতেহবে, যাতেশিক্ষার্থীদেরও উপযুক্ত পাঠদানকরা সম্ভব হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণী কক্ষে পাঠ সঠিকভাবে বুঝে। শিক্ষকরা ঠিকমত শিক্ষার্থীদের প্রতিমনোযোগ দিতে হবে। নানা অযুহাতে পাঠদান বন্ধ রাখা যাবেনা।
আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে শিক্ষার্থীরা ভালফলা ফল করছে। মনে রাখতে হবে ভাল ফলাফলের সাথে সাথে উদ্ভাবনী মেধাও তৈরী হতে হবে। কারন ভাল ফলাফল আর জ্ঞান এক জিনিসনয়। বর্তমান প্রজন্মকে জ্ঞান মেধায় বিকশিত হয়ে উঠতে হবে যাতে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ননা উঠতে পারে।তাহলেই আমরা জাতি হিসেবে মাথা উচ ুকরে দাড়াতে পারবো।
প্রকৃত পক্ষে মেধার বিকাশ জরুরী। প্রয়োজন যুগোপযোগী শিক্ষা, মানসম্মত নিবেদিত শিক্ষক, শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ, গবেষণালব্ধ পদ্ধতির প্রয়োগযাতে শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং প্রকৃত পক্ষে ফলাফল অর্জন নয়, মেধাবী হওয়ার প্রতিযোগিতায় শামিল হবে নতুন প্রজন্ম। নিত্য নতুন সমস্যা সামনে আসবে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে পরিকল্পিত ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতি, পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন পাশাপাশি শিক্ষকদেরও দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। বদলানো দরকার শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলাদা গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার। পাঠ্যপুস্তকে সময়োপযোগী পরিবর্তন আনা দরকার, তাও হতে হবে অবশ্যই গবেষণালব্ধ। আমাদের দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, কৃষ্টিকালচার ও সংস্কৃতিকেপ্রশ্নবিদ্ধ করে এমন কিছু পাঠ্যপুস্তকে সংযুক্ত করা ঠিক হবে না। তাহলেই আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা জাতির শক্তিশালী মেরুদন্ড তৈরি করতে কার্যকর হবে।
সামাজিক মর্যাদা, কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে শিক্ষকদেরকে মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয়। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের জাতীয় বেতনভুক্ত করে প্রশংসার দাবীদার হয়েছেন। তারপরেও শিক্ষকদের আর্থিক প্রনোদনা, পেশাগতউন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, পেশাভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা, সরকারি-বেসরকারি বেতন বৈষম্য, ৫% প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ বোনাস, বৈশাখী ভাতা ইত্যাদিও সমস্যা দূর করতে হবে। শিক্ষক সমাজ যাতে অন্যান্য পেশাজীবিদের মতো দাবী-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় নামতে না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তাছাড়াও শিক্ষক সমাজ যে বিভাজন রয়েছে যেমন: সরকারি-বেসরকারি শিক্ষক, এমপিওভূক্ত, নন-এমপিওভূক্ত শিক্ষক এই সম¯ Íবিভাজন দূর করে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয় করণ করে শিক্ষা ব্যবস্থার আরো উন্নতি করতে হবে।
বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ হলেও জনসংখ্যার দিক দিয়ে অনেক বেশি এবং সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করবে। শিক্ষদের পরিচালনা, পরামর্শ, তদারকির ভার সঠিক ভাবে শিক্ষকদেরও পরদিলে যাবতীয় বিষয় সহজেই এবং সুন্দরভাবে পরিচালিত হতে পারে। আর তখনই জাতি গঠনে ও মেধা বিকাশে শিক্ষকরা হবেন প্রকৃত কারিগর।০ লেখক: প্রধান শিক্ষক, বাড্ডা বালিকা বিদ্যালয়

Play
Play
previous arrow
next arrow
Slider

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এই ধারার কারণে বহু সাংবাদিককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। অনেককে কারাগারেও যেতে...

 প্রখ্যাত লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। রোববার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়...

previous arrow
next arrow
ArrowArrow
Slider

  ফারা মাহমুদা চৌধুরী (শিল্পী) মানবদরদী ও মানবহিতৈষি ব্যক্তিত্ব হিসেবে অতিথিদের হাত থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করছেন।   ইমদাদুল হক তৈয়বঃ ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই নৈতিকতাবোধ থেকেই বুকে নীতি আদর্শ...

Archives

May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Nov0 Posts
L0go

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি