বুধবার, ০৩ Jun ২০২০, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সংবাদ শিরোনামঃ
কসবায় সাংবাদিকসহ আটজন করোনায় আক্রান্ত বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ পরীক্ষার রেজাল্ট সেকাল-একাল ফেনী রামপুর রাস্তার মাথায় বাইপাস সড়ক বন্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ দূর্ভোগের শিকার ৫৭ ধারা বাতিল ও সংবাদযোদ্ধা ছাটাই বন্ধের দাবী অনলাইন প্রেস ইউনিটির ব্যাংকগুলো লুটেরাদের হাতে তুলে দেবেন না -মোমিন মেহেদী পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সেভ দ্য রোড-এর সমাবেশ অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হতদরিদ্রদের উপহার তালিকায় চেয়ারম্যান পরিবার! নাসিরনগরে নন জি আর ওয়ারেন্ট ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুইজন গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ 
সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তির মূল কারণ হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তির মূল কারণ হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তির মূল কারণ হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

…..ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বরাট জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন, রাজবাড়ী।

 

জীবনের ক্ষুধা, তৃষ্ণা ছাড়াও, মানুষ এক কাল্পনিক জগতের চাহিদায় যেন সদা ব্যাকুল। কল্পনা যখন বাস্তবে শিল্পসম্মতভাবে প্রকাশ পায় তখন তা হয় সাহিত্য। কারণ মন একান্তে যা গড়ে তোলে তা তার নিজের জন্য এবং মনের কথা ভাব, রস, রূপক, অলঙ্কার, ছন্দ ইত্যাদি আভাস-ইঙ্গিতের আশ্রয় গ্রহণ করে অন্যের মনে প্রবেশ করাই সাহিত্য। মানব হৃদয় ও মানব চরিত্রের মাঝে সাহিত্য বিরাজমান। তাই শুধু নিজের আনন্দের জন্য লেখা কোনো বিষয় সাহিত্য নয়। নিজেকে প্রকাশ করার প্রবল ইচ্ছা, চারদিকের অবস্থার সাথে সংযোগ স্থাপনের ইচ্ছা, কাল্পনিক ও বাস্তব জগতের সাথে মেলবন্ধন এবং রূপ বা রসপ্রিয়তার সংস্পর্শে সাহিত্য সংস্কৃতি সুন্দর রূপ লাভ করে। তেমনই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী একজন দক্ষ-বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার, কৃতি  খেলোয়াড় সাহিত্যিক, গীতিকার, সুরকার, মিষ্ঠি কন্ঠের সংগীত শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আজ কিছু সময়ের আলাপচারিতায় ফুটে ওঠে তাঁর জীবনের নানা রুপ, রং ও ছন্দে ভরা দুর্লভ সোনালী অতীত।

১৯৪৬ সালে গোয়ালন্দ খানাধীন তৎকালীন রাজবাড়ী মহকুমা অধীনস্থ ফরিদপুর জেলার চর কাঁচরন্দ গ্রামের স্বনামধন্য বরাট চৌধুরী পরিবারে তার জন্ম। বাবা- প্রয়াত চৌধুরী আব্দুল হামিদ(ক্যালকাটা ইউনিভারর্সিটি  থেকে ইংরেজীতে ডিস্টিংশন প্রাপ্ত) ইংরেজী বিশেষজ্ঞ, সরকারি রেলপথ কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ হিতৈষী ও সুকন্ঠধারী সঙ্গীতজ্ঞ। মা, মরহুমা চৌধুরী হাসমতুন্নাহার, সুগৃহিনী, সু-অভিভাবক ও সমাজ হিতৈষী। এমনই এক আদর্শ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক (কনক, যে নামটি ভারতের বিখ্যাত লেখক শ্রী সমরেশ বসু এবং কন্ঠ শিল্পী শ্যামল মিত্রের রাখা)। তিনি প্রথমে পড়াশুনা শুরু করেন নিকটস্থ বরাট-ভাকলা প্রাইমারী ও হাইস্কুলে। অতঃপর চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি মডেল হাইস্কুলে এবং পরে ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯৬২ সালে মেট্রিকুলেশন ও ১৯৬৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। অতঃপর তিনি ১৯৬৯ সালে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (রুয়েট) হতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

মানবজীবন পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরে অনন্য অবদানকারী বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী, সমাজসেবক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মেধাদীপ্ত লেখক এর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপচারিতায় ফুটে ওঠে সমাজের নানান দিক-সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, খান লিপিকা। সুপ্রিয় পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে তা উপস্থাপন করা হলো-

 

মানবজীবন: আপনার কৈশরের কিছু স্মৃতিময় মুহূর্তের কথা জানতে চাই।

ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক: আমার শিশুকাল শুরু হয় কলকাতার নৈহাটিতে। তখন আমাদের বাসায় বিখ্যাত লেখক শ্রী সমরেস বসূ থাকতেন ও সঙ্গীতজ্ঞ শ্যামল মিত্র সবসময় আসা যাওয়া করতেন। আব্বা ছিলেন রেল কর্মকর্তা ও সঙ্গীতজ্ঞ। তিনিই আমার গানের গুরু। তাই রক্তের ধারাতেই সঙ্গীত ভূবনে আমার পথ চলা। পার্টিশন পরবর্তীতে আমরা আমাদের রাজবাড়ীর বরাট গ্রামে চৗধুরী বাড়িতে চলে আসি। সেখানে কিছুদিন পড়াশুনা করে চট্টগ্রামে ছোট খালার বাসায় চলে আসি। খালাম্মা অনেক আদর করতেন। ওখানেই স্কুলে সঙ্গীত প্রতিযোগীতায় গান গেয়ে প্রথম হই এবং একাধিক সঙ্গীতজ্ঞের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। ১৯৬২ সালে ঢাকা কলেজে আই এস সিতে ভর্তি হই এবং ১৯৬৪ সালে আই এস সি পাশ করেই রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (রুয়েট) এ ভর্তি হই। রাজশাহীর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রয়াত আবুল মহসীন স্যার, যিনি মুসলমান ছাত্রদের জন্য অভাবনীয়ভাবে ৫ (পাঁচ) ওয়াক্ত নামাজ অত্যাবশকীয় করে ছিলেন। যেহেতু আমি ছোট বেলা থেকেই নামাজ রোজায় অভ্যস্ত ছিলাম, ফলে আমার জন্য পরিবেশটা ছিল খুবই অনুকূলে। আসলে ছাত্রজীবন মানেই উৎফুল্লচিত্তে বেড়ে ওঠা। আমি সব খেলাধুলাতেই পারদর্শি ছিলাম, বিশেষ করে ফুটবল, হকি, সাইক্লিং ও টেবিল টেনিসে। উল্লেখ্য ১৯৭০ সালে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের পক্ষে খেলে ইষ্টপাকিস্তান টেবিল টেনিসে চ্যামপিয়ান হই। ১৯৬৭ সালে ফরিদপুর শেরে বাংলা গোল্ড কাপ ফাইনাল খেলায় ফরওয়ার্ড পজিশনে খেলে প্রসংশিত হই। মনে পড়ে সে খেলায় আমার সতীর্থ রাইট ইন ও লেফট ইন পজিশনে খেলে ছিলেন তখনকার স্বনামধন্য পা মাকরাণী দুই সহোদর আবিদ এবং মুসা ।

মানবজীবন: আপনার সাংস্কৃতিমনা জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।

ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক: আমি ছাত্র জীবন থেকেই স্কুল ও কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান লিখে সুর করতাম এবং গাইতাম। ১৯৭৬ সালে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় এ্যাথলেটিকস ক্রীড়া  প্রতিযোগিতায় ম্যরাথন ও ওয়াকথন কমিটিদ্বয়ের প্রেসিডেন্টের গুরুদায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করে ভূয়ুষী প্রশংসিত হই। ১৯৬৬ সাল  থেকে রেডিওতে এবং ১৯৮০ এর দশকে টেলিভিশনে সঙ্গীত পরিবেশন করি। ১৯৭৭সালে ‘বেদ্বীন ছায়াছবি’ এবং ১৯৭৮ সালে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘সঙ্গীনি ছায়াছবিতে’ অতিথি অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করে প্রসংশিত হই। সঙ্গীত সাধনায় বৈশিষ্টপূর্ণ অবদানের জন্য প্রবীণ সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নাট্য সভা  দেশবরেণ্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সহিত আমাকে ‘নাট্যসভা ২০১৪’ সম্মাননা’ পদকে ভূষিত করে।

বিদ্যুৎ বিষয়ে   ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে আমি বহুবার বিদেশে সফর করে বিদ্যুৎ বিষয়ক বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। ২০০২ সালের ৬ হতে ৮ই মার্চ ইউ,এস,এইড পরিচালিত শ্রীলংকার কলম্বতে অনুষ্ঠিত সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে সফল প্রতিনিধিত্ব করি এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্রশংসিত হই।

মানবজীবন: আপনি কি কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে যুক্ত ছিলেন?

ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক: আমি প্রত্যক্ষভাবে কোন রাজনৈতিক দল করিনা। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুব কাছ থেকে দেখার ও জানার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। পুরো বাঙ্গালী জাতি তার বজ্রকন্ঠের প্রেরণায় উদ্বীপ্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিল। বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলী হেলনে বাঙালী জাতি মন্ত্রমুগ্ধের মত, নির্ভয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। তাই তখন থেকেই আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, তার আদর্শকে ভালোবাসি। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্থপতি এবং সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর মমত্ববোধ-ভালোবাসায় তাঁর আর্দশকে চিরজীবন লালন করে যাবো, ইনশাআল্লাহ।

মানবজীবন: আপনি কি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন?

ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক:  আমি মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ গ্রহণ না করলেও ময়মনসিংহ শহরে অত্যাচারী বিডিয়ারদের খতম সংগ্রামে আমি অংশ গ্রহণ করেছি। অত্যাচার জর্জরিত ময়মনসিংহের বাঙ্গালীরা অ¯্রহাতে তাদের ঘিরে ফেলে এবং আমিও তার মধ্যে সক্রিয় ছিলাম। তাদের অনেকের ক্ষত বিক্ষত লাশ আমি নিজ হাতে ব্রম্মপুত্র নদে ফেলেছি এবং রক্তাক্ত শরীরে বাসায় ফিরেছি, ভয়ে রাতভর আমি ঘুমাতে পারিনি। বিহারীরা আমাকে দেখে ফেলায় সর্বদা ভয়ংকর আতংঙ্কে ছিলাম। হঠাৎ ঢাকায় ট্রেনিং করতে হবে টেলিগ্রাম পেয়ে ময়মনসিংহ থেকে কৌশলে ঢাকায় ও নিজ গ্রামের বাড়ীতে চলে আসি। রাজবাড়ীর আমাদের বরাট চৌধুরী বাড়িতেই্ প্রায় দুইশতাধিক মুক্তিবাহিনীর বড় ক্যাম্প ছিল। বাড়ীর মস্ত বড় উঠানেই তাদের সবার ট্রেনিং হতো। আমার ছোট ভাই নঈমুল হক চৌধুরী নিজেও ভয়ংকর সাহসী এক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমিও তাদের  ট্রেনিং এ সহায়তা করি। আমাদের গোটা  চৌধুরী পরিবার মুক্তিযোদ্ধের সময় সার্বিক সমর্থন ও সহযোগীতা অব্যাহত রেখেছে মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আমার প্রয়াত আব্বাজান চৌধুরী আব্দুল হামিদ ও ছিলেন বঙ্গবন্ধুর মতাদর্শের দৃঢ় সমর্থক এবং মুক্তিযুদ্ধের সাথী।

মানবজীবন: ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন’ এর সাথে আপনি একমত হলে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার স্বাদ কতটুকু উপভোগ করছেন?

ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক:  স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব স্বীকৃতি দিয়েছে। তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে ধরে নিয়ে গিয়ে, অত্যাচার করেও শেখ মুজিবকে দমাতে পারেনি। বরং তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেছেন, ‘আমি মানুষ, আমি বাঙ্গালী, মুসলমান, মৃত্যুকে ভয় পাইনা

 

মুসলমান একবারই মরে মরনে আমি ভীত নই। তোমরা আমার লাশটা বাংলাদেশে  ফেরত দিও’। তবুও তিনি নরপশু পাকজান্তার কাছে নতি স্বীকার করেন নাই। যেখানে পশ্চিম পাকিস্তান তাকে হত্যা করতে সাহস পায়নি বরং স্ব-সম্মানে তার স্বপ্নের বাংলাদেশ ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে, বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায়। তিনি যখন ফিরে এসে যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজে  হাল ধরলেন তখন পাকিস্তান অনুসারী ঘৃন্য ক্ষমতালোভী কিছু বিপথগামী সৈন্যরা আকর্ষিক ও অকল্পনীয়ভাবে নির্মমভাবে তার পরিবারসহ সবাইকে হত্যা করে। ভাগ্য ভালো তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ  রেহেনা তখন দেশে ছিলেননা। পরবর্তিতে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সার্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশে কিছু খারাপ স্বার্থান্বেষী মহল সবসময়ই ছিল,আছে থাকবে। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার মতই দুর্জয় সাহস নিয়ে এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে অটল রয়েছেন এবং থাকবেন। কোনো মানুষ ভুলের উর্দ্ধে নয় তারপরেও আল্লাহপাকের ইচ্ছায় যারা সহজ-সরল বাঙ্গালী এবং মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, তাদের দোয়া ও ভালবাসায় জননেত্রী, মানবতার মা শেখ হাসিনা এ দেশকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশে এখন সার্বিক উন্নয়নের জোয়ার বইছে এবং দেশে ধর্ম নিরপেক্ষতা উত্তম পর্যায়ে রয়েছে। দেশের মানুষ এখন অনেক ভালো অবস্থানে আছে।

মানবজীবন: বর্তমানে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে প্রতিনিয়ত এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক: সদা সত্য কথা বলা, সহজ-সরল সৎপথে চলা সকল প্রকার নোংরামী ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত জীবনই আদর্শ সুন্দর জীবন। সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলা, সত্য-সঠিক পথের অনুসারী হওয়া, অপরের কোন ক্ষতি না করা, মানব কল্যাণ সাধন করা ইত্যাদি গুণের সমন্বয়েই নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ হয়। এসব মানবিক গুণে সমৃদ্ধ জীবন ও চরিত্রই  নৈতিক মূল্যবোধের সুফল। নৈতিক মূল্যবোধ ব্যক্তি জীবনকে মহান করে এবং তাকে উচ্চ মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। সেই সঙ্গে সমাজ হয় কলুষমুক্ত। যাদের জীবন নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত, তারা সমাজে আদর্শ। মিথ্যাকে ঘৃণা করা ও বর্জন করা এবং সকল অন্যায়-অনাচার থেকে মুক্ত থাকা নৈতিক মূল্যবোধেরই সুন্দর ফসল। নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি সব সময় চরিত্রবান, সত্যবাদী, দৃঢ়কল্প, আন্তরিক ও উদার  হয়।

খুব লজ্জার কথা যখন শুনি ও দেখি ছাত্রীরা স্কুলে নিরাপদ নয়, ছোট বাচ্চারা আজ নিরাপদ নয়। শিশুদের ওপরেও যৌন নিপীড়ন চালানো দৈনন্দিন ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।যার বড় কারন বিকৃত মানসিকতা।ধর্ষণ বেড়েই চলছে। এমননি মাদরাসায় অনেক ভন্ড মাওলানারা ঘৃণ্য ধর্ষণের সাথে জড়িত। যা মেনে নেওয়া অসম্ভব। ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে এবং একই সাথে কঠোর আইন প্রয়োগ করে ঘৃণ্য অপরাধীদের ত্বড়িৎ উপযুক্ত কঠোর শাস্তি জনসমুক্ষে দিতে হবে। মা-বাবা, অভিভাবকদের অবশ্যই তাদের সন্তানের ওপর সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে যে, তারা কোনো অস্বাভাবিক জীবন যাপন করছে কিনা? কেমন বন্ধু বান্ধবের সাথে সন্তানেরা মিশছে?  আর সমাজ থেকে নগ্নতা, বেহায়াপনা দূর করতে হবে। পর্নগ্রাফি দেখা নিষিদ্ধ করতে হবে। অশ্লীল পত্রপত্রিকা ও বইয়ের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। সবাইকে ধর্মীয় অনুশাসন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এই সব জঘন্য অপরাধের একটি অন্যতম মুল কারন হচেছ নেশা জাতিয় দ্রব্যের আধিপত্য বিস্তার। মাদকসেবীদের মধ্যে দেশের মূল প্রাণশক্তি যুব সমাজের আধিক্য জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্য জনক এবং হতাশার বিষয়। যুব সমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকছে, মূলত হতাশা থেকে। মাদকের এই ভয়ানক থাবা থেকে যুব সমাজ তথা দেশের মানুষকে অবশ্যই মুক্ত করতে হবে। নতুবা তার নেতিবাচক প্রভাব সমগ্র জাতিকে যে অচিরেই গ্রাস করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যদিও মাননীয় সরকার কিছু কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে, প্রয়োজনের তুলনায় যা অপ্রতুল। আমি আশা করব মাননীয় বিজ্ঞ সরকার এর বিরুদ্ধে ত্বরিৎ আরো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী অনন্য শেখ হাসিনা, যিনি দেশকে প্রান দিয়ে ভালোবাসেন, দেশের প্রতি যার গভীর মমত্ববোধের কারনে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং আরো গঠনমূলক কঠোর পদক্ষেপ নিবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

মানবজীবন: সমাজে যে নৈতিক অবক্ষয়ের  জোয়ার বইছে এর থেকে সাধারন জনগন কতটুকু প্রতিকার পাচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?

ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক: পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তির মূল কারণ হচ্ছে  নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। সত্যিকার অর্থে এর থেকে জনসাধারণের যতটুকু প্রতিকার পাওয়া উচিত ঠিক ততটা পাচ্ছে বলে আমি মনে করিনা। তবে আমি মনে করি, সরকারের আইনের শাসন বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনগনকেও সচেতন হতে হবে। আমাদের নিজেদের প্রথমে প্রকৃত নীতিবান হতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচনে পরিশ্রমী হতে হবে, শিক্ষার প্রসারে সরকারের সাথে সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে। এছাড়া বিদেশী সংস্কৃতির প্রসার রোধ, সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার সর্বদা সজাগ দৃষ্টি, গ্রাম উন্নয়ন, সেশনজট নিরসন,  ধর্মীয় প্রকৃত শিক্ষার ব্যাপক প্রসারসহ  সুস্থ রাজনীতি চর্চা করতে হবে। মহিলাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, যৌতুক প্রথা অবশ্যই বন্ধ, নারী পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক শান্তি স্থাপন এসব বিষয়গুলোর উপর যথাযথ তদারকিসহ মুল্যায়ন হলে, জনগন অনেকটা প্রতিকার পাবে বলে দৃঢ়ভাবে মনে করি।

মানবজীবন: সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার  প্রেক্ষাপটে আপনার কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে কি?

ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক: সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শকে সম্বল করে এ যাবৎ পথ চলেছি এবং বাকিটা জীবনও এই একই আদর্শ নিয়েই ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলা শহর সংলগ্ন বরাট পদ্মা নদীর পাড়ে। ওখানে আগে মাছ, ফসল ইত্যাদি সম্পদে ভরপুর ছিল। কিন্তু পদ্মা নদী ভাঙ্গনের ফলে র্দীঘদিন যাবৎ সর্বস্বহারা হয়ে গ্রামের মানুষ অনেক কষ্টের সম্মুক্ষীন হচ্ছে। যারা এক সময় হাজার হাজার মন চাল অন্যদের দিত তারাই আজ না খেয়ে মরছে, যা দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। এই সব অসহায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের পাশে দাঁড়াতে নিজ গ্রামে ‘বরাট জনকল্যান ফাউন্ডেশন’ গড়ে তুলেছি। এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ একযুগ যাবৎ ত্যাগী কিছু গুণী নিঃস্বার্থ সৎজন সমন্বয়ে বৃহত্তর বরাট অঞ্চলের নদীভাঙ্গা, গরীব-দু:স্থ সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় মানুষের কল্যাণে ও সাহায্যার্থে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করে চলেছি, মাত্র দুই চারজন জনদরদী-এর স্বল্প পৃষ্ঠপোষকতায় ও স্বীয় সীমিত সামর্থ দিয়ে। যদিও চাহিদার তুলনায় প্রাপ্ত সাহায্য সহযোগীতা খুবই অপ্রতুল।মনে বড় আশা দুস্থ-দরদী বিত্তবানেরা অনুগ্রহপূর্বক তাদের দানের হাত বাড়িয়ে দিলে, দুস্থঃ সেবা র্কাযক্রম আরো বাড়াবো ইনশাআল্লাহ। রাজনীতীতে জড়াবনা। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে ভালোবেসে যাবো।

মানবজীবন: আপনার মতো এমন বিরল গুণের অধিকারী এবং উদার মনোভাপাপন্ন মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আপনার প্রতি রইল বিশেষ মঙ্গল কামনা।

ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক: আমারও ভালো লাগলো আপনাদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিষয় বা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পেয়ে। দোয়া করবেন আল্লাহ পাক যেনো আমাকে র্দীঘদিন সুস্থ সবল রেখে সমাজের দুস্থ-দুখীজনের সাহায্যার্থে আমরন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আপনাদের পথচলা সুন্দর ও  সুদীর্ঘ হোক।0

 

মানবজীবন পত্রিকার ২০১৯ সালের অক্টোবর সংখ্যায় প্রকাশিত।

এখানে আংশিক সমপ্দন করে পুনঃ প্রকাশ করা হলো।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

মানব জীবন ২৪.কম, ২০১৪

সম্পাদকঃ ইমদাদুল হক তৈয়ব

ফোনঃ ০১৭১১৫৭৬৬০৩,০১৬৭৮১৪২৯৪২

e-mail: manobjibon24@gmail.com

Design: About IT
x Close

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

Shares
CrestaProject