সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
  • সকাল ৬:৫৬ | ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

Monthly Archive :অক্টোবর ২০১৮

ব্লেডের মাঝখানের নকশা কেন থাকে এবং কেন এখনও অপরিবর্তিত জানেন?

ব্লেডের মাঝখানের নকশা- ব্লেড, প্রায় প্রতিদিনের জন্যই সবারই বেশ প্রয়োজনীয় একটি বস্তু। আমারা কোন চিন্তা বা প্রশ্ন ছাড়াই ব্লেড ব্যবহার করে চলেছি কিন্তু ব্লেডের মাঝে যে নকশাটি থাকে সেটা কিসের জন্য এবং কেন এখন পর্যন্ত এখনও পরিবর্তন হয়নি তাকি জানেন।?

নখ কাটা, চুল ছাটা, দাড়ি কামাই ছাড়াও, সেই ছোট বেলা থেকেই আমরা ব্লেড ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু কখনো কি এই ব্লেড নিয়ে কিছু চিন্তা করেছেন? আপনি কী জানেন ব্লেডের বিস্ময়কর বস্তু হল ব্লেডের নকশা! যে কোম্পানির ব্লেডই হোক না কেনো, লক্ষ করুন ব্লেডের ঠিক মধ্যেখানে যে নকশা, সেটা সবার ক্ষেত্রে একই রকম।

কেনো একই নকশা সকলেই তাদের তৈরি ব্লেডে ব্যবহার করে, তার কারণ সত্যিই বিস্ময়কর। এই কাহিনির সূত্রপাতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ব্লেডের জন্ম বৃত্তান্ত। আজ থেকে এক শতাব্দীরও ঢের বেশি সময় আগের কথা। বিংশ শতাব্দীর সবে শুরু হয়েছে। ১৯০১ সালে জিলেট কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা কিং ক্যাম্প ব্লেডের নকশা তৈরি করেন।

পরে ১৯০৪ সালে তৈরি হয় ব্লেড। ততদিনে সেই নকশার পেটেন্টও পেয়ে গিয়েছেন তিনি। আশ্চর্যজনকভাবে, সেই আদি নকশা আর আজকের দিনে ব্যবহৃত নকশার মধ্যে কোনো ফারাক নেই।

সেই সময়ে রেজারের সঙ্গে ব্লেডকে সংযুক্ত করার সময়ে নাটবল্টু ব্যবহার করা হতো। সেই কারণেই ব্লেডের মধ্যে ওই নকশা তৈরি করা হতো। সেই নকশা অনুযায়ীই নাটবল্টুর সাহায্যে রেজারে আটকানো হতো ব্লেড। তখন থেকে সেই নকশাই চলে আসছে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, অন্য কোম্পানিগুলো যখন ব্লেড বানানো শুরু করল, তারাই বা কেন জিলেটের নকশাটাই অনুকরণ করতে শুরু করল? আসলে সেই সময়ে রেজার নির্মাণ করত একমাত্র জিলেটই। ফলে সেই রেজারের সঙ্গে মিলিয়ে ব্লেডের নকশা বানাতে গেলে ওই নকশাই তৈরি করতে হতো।

এইভাবে সমস্ত কোম্পানিগুলো সেই একই নকশা বানাতে লাগল ব্লেডের। সেই নকশাই আজও চলেছে। শতাব্দী পেরিয়ে গেছে। আমূল বদলেছে পৃথিবী। কিন্তু সেই পুরনো পৃথিবীর চিহ্ন আজও বয়ে চলেছে ব্লেডের নকশা। এ কাহিনি সত্যিই বিস্ময়কর।

বাসর রাতে সে খুব কান্না করছিল এর পর…

বিয়ের পর যখন আমি বাসর ঘরে গেলাম। তখন আমার বউ এর মুখ থেকে শুনতে পাই সে ধর্ষিতা! কথাটা শুনে যে,কোনো ছেলের-ই কিছু সময় এর জন্য পৃথিবী টা উলটে যাবে। কিন্তু আমি একটুও অবাক হইনি।

সাধারণত বাসর রাতে সবাই তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের গল্প করে। কিন্তু আমার বউ তার ধর্ষণ হবার গল্প করেছে। আমি চাইলে তাকে ওখানেই ফিরিয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু,সেটা করিনি কারণ,তাহলে মেয়েটা সকল পূরুষ জাতিকে জানোয়ার ভাবতো।

আমি বিচলিত হই তখন-ই। যখন জানতে পারি একটা মানুষ রুপি জানোয়ার শুধু মাত্র তার পূরুষত্বের চাহিদা মেটানোর জন্য একটা মেয়ের সত্বিত হরন করেছে। আমি সেই রাতেই ভেবে নিয়েছিলাম আমার জন্য যদি একটা মানুষ তার শেষ হয়ে যাওয়া জীবন টা নতুন করে সাজাতে পারে তাহলে দোষ কি। তাই সব হাসি মুখে বরন করে নিই।

বিয়ের সপ্তাহ খানেক পরে ওর বমি, বমি ভাব, মাথা-ব্যাথ এইসব যখন শুরু হয় তখন লও খুব ভয় পেয়ে গেছিলো। আর,কেও কিছু বুঝে ফেলার আগেই, আমি আমার লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে এটা রটিয়ে দিই যে, আমি বিয়ের আগের ওর সাথে শারীরিক ভাবে মেলা মেশা করি। এর জন্য আমি পরিবার থেকে ত্যাগ হয়েছি।

কিন্তু, ওকে ত্যাগ করতে পারিনি। প্রতিরাত-ই ও খুব কান্না করতো যে, আমি যদি কোনো একদিন ওর পাশে না থাকি তাহলে, ওর কি হবে। then তারপর আমি ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বুকে জড়িয়ে বলতাম আমি আছিতো পাগলি। আর, সব সময় এভাবেই তোমার পাশে থাকবো। তখন একটু ভরসা পেতো।

একদিন ও আমাকে বলেছিলো যে, ও আমাকে ঠকানোর পরো কেনো আমি ওর সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করি। জবাবে আমি বলেছিলাম, কেও ওকে বিশ্বাস করিয়ে ঠকিয়েছিলো সেটা ছিলো ওর নিয়তি। আর আমি সে নিয়তি কে মুছে দিতে চেয়েছি। ও সন্তান টা নষ্ট করতে চেয়েছিলো। কিন্তু but আমি না করি।

কারণ, সব কিছুই তো আমি মেনে নিয়েছি ঘর ছাড়াও হয়েছি। তাহলে,একটা নিষ্পাপ বাচ্চা কি দোষ করেছে যে, পৃথিবীর আলো দেখার আগেই তাকে বিদাই নিতে হবে।

তাই আর বাচ্চা টা নষ্ট করতে দেইনি। বিয়ের ৭ মাস পর ওর প্রসব ব্যাথা উঠে। ও এবং আমি দুজনেই জানতাম যে ওই বাচ্চা টা আমার না। তার পরো আমি সেই সময় দূরে সরে যাইনি। পাশে থেকেছি।

একজন মা ওই সময় তার সন্তান কে বাচানোর জন্য নিজের সাথে জিবন মরণ লড়াই করে। কিন্তু,নিয়তি ওকে আবারো ঠকালো। বাচ্চা জন্মনিলো ঠিকি কিন্তু মৃত! একটা মৃত সন্তান জন্ম হবার কিজে বেদনা, সেটা কেবল একজন মা-ই জানে। এর পর দেখতে দেখতে কেটে গেলো ৫ বছর।

আজো ও আর মা হতে পারেনি। সেই দিনি মাত্রিত্বের স্বাধ হারিয়েছে ও। আমি ওকে জিবনে ঠাই দেবার পর থেকে অনেক,বিপদের মুখো মুখি হয়েছি।অনেক বাধা এসেছে।অনেক কিছু ছেড়েছি।

কিন্তু,ওকে ছাড়িনি। ওর বেচে থাকার মূল খুটি টাই আমি।সারাদিন-রাত যখন,কাজ করে মৃত প্রাই সরির নিয়ে বাড়ি ফিরি। তখন,ওর মুখের একটু হাসি আমাকে শুধু শান্তিই দেয়না।

আমি আবার প্রাণ ফিরে পাই। প্রতিটা সময় ও একটা কস্টের ভিতর পড়ে থাকে। রাতে আমার বুকে মাথা রেখে কেঁদে,কেঁদে যখন,আমার জামা ভিজিয়ে ফেলে তখন আমি ওকে সাহস দেই। নতুন একটা স্বপ্ন দেখাই।

হাজারো ব্যাথা বুকে চাপা দিয়ে ওকে একটু হাসি খুশি রাখা টাই আমার নৃত্য দিনের কাজ। এভাবে ওকে ভালো রাখা টা এখন রুটিন হয়ে গেছে। এর মধ্যে মেয়েটা সুইসাইড করতেও গিয়েছিলো।

কিন্তু,পারেনি। আমি ওকে কখনো স্ত্রী মনে করিনি। নিজের দুনিয়া মনে করে সব সময় আগলে রেখছি। ওর সব আবাদার পূরন করেছি। আমি ওর সব ভুল গুলো সুদ্রে দিয়ে ওকে নতুন জীবন দান করেছি।

যে কারণে সদ্যজাত সন্তানসহ জীবন দিলো প্রসূতি সীমা

এইচ.এম. সিরাজ, স্টাফ রিপোর্টার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে কথোপকথন-ঝগড়া। নানান কটু কথা বলা, হাসপাতালের বিল দিতে অস্বীকার করা, এমনকি নবজাতকের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা! এসব হয়তো কোনোভাবেই মানতে পারেনি বলেই মাত্র চার দিনের শিশুপুত্রকে হাসপাতালের ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলে নিজেও ঝাপিয়ে জীবন দিলো প্রসূতি সীমা আক্তার (২৫)। মোবাইলে ঝগড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালে সীমার পাশের ৩০৩ নং কক্ষে থাকা আরেক রোগীর স্বজন ফরিদা খাতুন। তিনি জানান, সেই রাতের বেশিরভাগ সময় সীমা মোবাইলে কারোর সঙ্গে ঝগড়া করেন। বাচ্চাটিকে দুধ পান করানো থেকেও বিরত থাকেন। এতে বাচ্চাটির কান্নাকাটির মাত্রা অারো বাড়তে থাকে। ফরিদা কয়েকবার সীমার কক্ষের দরজায় টোকা দিয়ে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে বললে সীমা তাকে বলেন, ‘তোমার দুধ খাওয়াও’!

ফোনালাপে ফরিদা শুনতে পান সীমা বলছে- ‘সকালে ঘুরি লইয়া-অই আমি মরুম’। সীমার পরিবারের লোকজনেরও বক্তব্য স্বামীর অপমানের কারণেই মারা গেছে সে। ১৯ অক্টোবর শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পুরাতন জেলরোড থেকে সীমা আক্তার ও তার সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটিকে সবার অলক্ষ্যেই ছাদ থেকে ফেলে দেয় সীমা। তার লাফিয়ে পড়ার সময় অনেকে প্রত্যক্ষ করেন। নিচ থেকে নিষেধও করতে থাকেন কেউ কেউ। কিন্তু কারোর কথা কানে না তুলে ঝাপিয়ে পড়ে জীবন দিলেন প্রসূতি সীমা আক্তার। হাসপাতালের কক্ষ থেকে সন্তান কোলে সীমার বেড়িয়ে যাওয়া এবং ছাদ থেকে ঝাপ দেয়ার ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ভেতর দিয়ে পার্শ্ববর্তী ল্যাব এইড হাসপাতালে যাওয়ার একটি সিঁড়ি রয়েছে। সেই সিঁড়ি বেয়ে ল্যাব এইড হাসপাতালের চারতলার ছাদে উঠে গিয়ে এই কাণ্ড ঘটায় সীমা।

জেলার আখাউড়া উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের শ্যামায়ন মিয়ার সন্তান সম্ভবা কন্যা সীমা আক্তারকে ১৬ অক্টোবর পরিবারের লোকেরা বাচ্চা প্রসব করাতে জেলা শহরের ‘লাইফ কেয়ার’ নামের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেদিন সন্ধ্যে সাতটায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পুত্র সন্তান প্রসব করে সীমা। এটিই তার প্রথম সন্তান। সন্তান প্রসবের পর অবস্থান করতে থাকেন হাসপাতালের ৩০২ নং কক্ষে। ১৯ অক্টোবর হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিলো। এর আগেই ঘটলো ওই মর্মান্তিকতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ঘাটিয়ারা এলাকার ফুলচং গ্রামের লেবানন প্রবাসী মনির হোসেনের স্ত্রী এই সীমা অাক্তার। গত বছরের অক্টোবরে পারিবারিকভাবে আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের শ্যামায়ান মিয়ার কন্যা সীমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় মনিরের। প্রায় আট মাস আগে মনির চলে যান মধ্যপ্রাচ্যের লেবাননে।

নিহতের পিতা শ্যামায়ান মিয়া জানান, পারিবারিকভাবেই যৌতুক ছাড়াই সীমার বিয়ে হয়। অবশ্য বরপক্ষও কোনোকিছু দাবী করেনি। আমরা আর্থিকভাবে খুবই অসচ্ছল। বিয়ের সময় তেমন কিছুই দিতে পারিনি। এজন্য সীমাকে শ্বশুরালয়ের লোকেরা সবসময় বিভিন্ন কটু কথা শোনাতো, মানসিক নির্যাতন-অপমান করতো। তিনি বলেন, ‘ঘটনার আগের রাতে বিয়ের সময় বাবার বাড়ি থেকে কিছু না নিয়ে আনতে পারার কারণে সীমার সঙ্গে মনিরের ঝগড়া হয়। তখন সম্ভবত মনির হাসপাতালের বিল দিতে পারবে না এবং শিশুটির পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলে! অার এসব অপমান সইতে না পেরে অামার মেয়ে সীমা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।’ নিহত সীমার দাদী আমেনা খাতুন বলেন, বাবার বাড়িতে আসতে চাইলে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা অনুমতি দিতে চাইতো না। সীমার শ্বশুরবাড়িটি ১২ সর্দারের (বহু অভিভাবক/গার্জেন) ঘর। ‘গরিব বইল্যা নাতিনডারে কইছিলাম কোনোমতে সংসারটা করতে। মরছে পরেও শ্বশুরবাড়ির কেউই আইয়্যা দেখছে না।’ আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য সালমা বেগম বলেন, ‘বরপক্ষের যৌতুকের দাবী না থাকলেও কিছু দিতে না পারার কারণে মেয়েটাকে তাঁরা প্রায়শই অপমান করতো।’

হাসপাতালের বিল মেটাতে ব্যর্থ হয়ে বা স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে প্রসূতি সীমা অাক্তার এধরণের কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে গোটা জেলাজুড়েই আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ অবশ্য এখনো ঘটনার কোনো কারণ খুঁজে না পাওয়ার কথাই বলছে। তারা নিহত সীমার কললিস্ট চেয়েছে। ঘটনার আগে কার কার সাথে সীমার কথা হয়েছিলো সেটি খতিয়ে দেখবে। সন্তানসমেত প্রসূতি সীমা আত্মহত্যার বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন খান ওইদিনই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিলের কারণে সীমা আত্মহত্যা করেনি দাবী করে বলেন,‘আমরা রিলিজ হয়ে যাওয়া রোগীর বিল দেই সকাল ১০টার পর। আর এই ঘটনা ঘটেছে সকাল সাড়ে আটটায়।’

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসঅাই) শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘নিহতের মোবাইল ফোনটি অামরা পেয়েছি। তবে মোবাইলটি লক থাকার কারণে কার কার সাথে সীমার কথোপকথন হয়েছে সেটি তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হতে পারিনি।’ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন,‘ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। সহসাই এর রহস্যজট পরিস্কার হবে বলে অামরা অাশাবাদী।’

মইনুল হোসেনের সুর ধরে তসলিমা নাসরিনও বল্লেন মাসুদা ভাট্টি ভীষণ রকম চরিত্রহীন

 

মাসুদা ভাট্টি ভীষণ রকম চরিত্রহীন বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নিম্নে তসলিমা নাসরিনের লেখাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

কে মইনুল হোসেন, কী করেন, কী তাঁর চরিত্র, কী তাঁর আদর্শ আমি জানি না, তবে জানি মাসুদা ভাট্টি একটা ভীষণ রকম চরিত্রহীন মহিলা। চরিত্রহীন বলতে আমি কোনওদিন এর ওর সঙ্গে শুয়ে বেড়ানো বুঝি না। চরিত্রহীন বলতে বুঝি, অতি অসৎ, অতি লোভী, অতি কৃতঘ্ন, অতি নিষ্ঠুর, অতি স্বার্থান্ধ,অতি ছোট লোক। মাসুদা ভাট্টি এসবের সবই।

মহিলাটির জন্য ১৯৯৬ বা ১৯৯৭ সালে আমার কাছে খুব করে আব্দার করেছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। লন্ডন থেকে স্টকহোমে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘মাসুদা ভাট্টি বাংলাদেশের মেয়ে। এক পাকিস্তানি লোককে বিয়ে করে এখানে ছিল। পাকিস্তানির সঙ্গে তালাক হয়ে গেছে। এখন ব্রিটেন থেকে ওকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন তুমিই একমাত্র বাঁচাতে পারো ওকে। ওর জন্য ব্রিটিশ সরকারকে একটা চিঠি লিখে দাও। লিখে দাও মাসুদা ভাট্টি বাংলাদেশে তোমার পাব্লিশার ছিল, তোমার জন্য আন্দোলন করেছে। ও যদি এখন দেশে ফিরে যায়, ওকে মেরে ফেলবে মৌলবাদিরা’।

আমি বললাম, ‘মহিলাকে আমি চিনিই না। আর আপনি বলছেন ও আমার পাবলিশার ছিল? আমি মিথ্যে বলি না। আমি মিথ্যে কথা বলতে পারবো না।’ এরপর ওই মহিলা আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি, আমাকে বাঁচান। আপনি না বাঁচালে আমি মরে যাবো জাতীয় কান্না। কাউকে কাঁদতে দেখলে নিজের চোখেও জল চলে আসে। ব্রিটিশ সরকারের কাছে মাসুদা ভাট্টিকে না তাড়ানোর জন্য অনুরোধ করলাম। মহিলার জন্য মিথ্যে কথা আমাকে লিখতে হলো, লিখতে হলো, আমার পাবলিশার ছিল সে, দেশে ফিরলে তাকে মেরে ফেলবে মৌলবাদিরা। তখন আমার খুব নাম ডাক। আমার চিঠির কারণে মাসুদা ভাট্টির পলিটিক্যাল এসাইলাম হয়ে গেল, ব্রিটেনের নাগরিকত্বও হয়ে গেল।

তারপর কী হলো? তারপর ২০০৩ সালে আমার আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড ‘ক’ যখন বাংলাদেশে বেরোলো,আমি কেন নারী হয়ে দেশের এক বিখ্যাত পুরুষের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছি, আমি কেন নারী হয়ে নিজের যৌনতার কথা লিখেছি, সারা দেশের নারী-বিদ্বেষী আর ধর্মান্ধ মৌলবাদি গোষ্ঠি উন্মাদ হয়ে উঠলো আমাকে অপমান আর অপদস্থ করার জন্য, আমাকে অবিরাম অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালি তো দিতেই লাগলো, আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে শুরু করলো, সেই মিছিলে সামিল হলো মাসুদা ভাট্টি।

আমার বিরুদ্ধে এ যাবৎ প্রচুর কুৎসিত লেখা লিখেছে লোকে, সর্বকালের সর্বকুৎসিত লেখাটি লিখেছে মাসুদা ভাট্টি। সবচেয়ে জঘন্য, সবচেয়ে অবিশ্বাস্য, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, সবচেয়ে বীভৎস সে লেখা। এত ভয়াবহ আক্রমণ আমার চরমতম শত্রুও আমাকে কোনওদিন করেনি। ক বইটি নাকি ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে শরীরে ঘিনঘিনে ঘা ওলা রাস্তায় পড়ে থাকা এক বুড়ি বেশ্যার আত্মকথন।

মাসুদাভাট্টি আমার উপকারের জবাব ওভাবেই দিয়েছিল। ও যদি চরিত্রহীন না হয়, দুনিয়াতে চরিত্রহীন কে?

আজ দেশের ৫৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির পক্ষে লড়ছেন কারণ কেউ তাকে চরিত্রহীন বলেছে। যত অশ্লীল শব্দ বাক্য পৃথিবীতে আছে, তার সবই আমার বিরুদ্ধে উচ্চারিত হচ্ছে নব্বই দশকের শুরু থেকে। আমি তো জনপ্রিয় কলাম লেখক ছিলাম তখন, জনপ্রিয় লেখক ছিলাম, কই কোনও বিশিষ্ট সম্পাদক আর কোনও সিনিয়র সাংবাদিককে তো আমার বিরুদ্ধে হওয়া লাগাতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ করতে কোনওদিন দেখিনি।

আমার মাথার দাম ঘোষণা করা হলো, আমার বিরুদ্ধে লক্ষ লোকের লং মার্চ হলো, আমার ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে দিনের পর দিন মিছিল হলো, সরকার একের পর এক আমার বই নিষিদ্ধ করলো, আমার মত প্রকাশের বিরুদ্ধে মামলা করলো, আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিল, কই দেশের কোনও সম্পাদক বা সাংবাদিক কেউ তো টুঁ শব্দ করেনি। এই যে আজ ২৪ বছর আমাকে অন্যায়ভাবে কোনও সরকারই দেশে ফিরতে দিচ্ছে না, কোনও বিশিষ্ট জন তো মুখ খোলেন না। একজনের বেলায় বোবা, আরেকজনের বেলায় বিপ্লবী, এ খেলার নাম কী?

 

সম্প্রীতি ও সৌহার্দে অনন্য বাংলাদেশ …………….অধ্যক্ষ শাহজাহান সাজু

আশুগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলা‌দেশ আওয়ামী লী‌গের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ ক‌মি‌টির সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু ব‌লে‌ছেন, বিশ্বের দরবারে সম্প্রীতি ও সৌহার্দে অনন্য নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। কারন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশের প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পা‌রে। বাংলা‌দেশে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই।

তিনি শ্রীকৃষ্ণের কথা উল্লেখ করে বলেন, শ্রীকৃষ্ণ সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে নয়, সকল মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন। তি‌নি
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগ সরকারকে আবারো বিজয়ী করার আহবান জানান। হিন্দু ধর্মালম্বী‌দের সবচে‌য়ে বড় উৎসব দূর্গা পূজা উপল‌ক্ষ্যে আশুগঞ্জ উপ‌জেলা লালপুর, আশুগঞ্জ বাজার, কা‌লিকচ্ছ, সরাইল বাজারসহ বি‌ভিন্ন পূজা মন্ডপ, সনাতন ধর্মালম্বীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কা‌লে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজুর সা‌থে অন্যান্য‌দের ম‌ধ্যে উপ‌স্থিত ছি‌লেন আওয়ামী লী‌গের ধর্ম বিষয়ক উপ ক‌মি‌টির সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সোহাস দাস চৌধুরী, নিবারন দাস, প্রভাষক ম‌হিউ‌দ্দিন আহ‌মেদ, সাইফুল ইসলাম বাবুল, দেবাশীষ দাস, সা‌বেক ছাত্র‌নেতা আমান উল্লাহ আমান, যুবলীগ নেতা ফরহাদ হো‌সেন, মোঃ কাউছার মেম্বার প্রমুখ ।

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা এখন অনেক জমজমাট হয়ে উঠছে। বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। এই আসনে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক তেমন ভীত না থাকলেও আওয়ামী লীগের বদৌলতে পরপর দুইবার তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার আওয়ামী লীগ আর এই সীট ছাড় দিতে নারাজ। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রার্থী জোরে সোরে মাঠে নেমেছে। সাবেক ছাত্রনেতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক এবং স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ জাহান আলম সাজু ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের দুর্দিনে ছাত্র রাজনীতিতে তিনি গৌরবোজ্জল ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ১/১১’র সেই দুঃসময়ে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের বাইরেও শিক্ষকসহ সুধীজনদের মধ্যে অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
এবিষয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু একজন ত্যাগী নেতা। তিনি স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তাকে চার-চারবার কারাবরণ করেছেন। ১৯৮৫ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ময়েজ উদ্দিন হত্যা মামলার রায়ের দিন ঢাকা জজকোর্ট চত্বরে ছাত্রলীগের মিছিলে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। বোমা হামলার সেই ক্ষত চিহ্ন এখনো তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন। আমরা আগামী সংসদ নির্বাচনে এমপি হিসেবে এমন ত্যাগী নেতার মনোনয়ন চাই।

ইচ্ছা শক্তিই পারে একজন নারীকে সাফল্য এনে দিতে …….সেলিনা খালেক


সেলিনা খালেক
বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সমাজসেবী

ইমদাদুল হক তৈয়ব ও এল খান: প্রাণ প্রাচুর্য্যে ভরপুর চির নবীন, নির্লোভ, সৃজনশীলতার এক মূর্ত প্রতিক স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জল আত্মবিশ্বাসী অমায়িক এক ব্যক্তিত্ব যার নাম সেলিনা খালেক। তিনি ১৯৩৬ সালে বাবা মরহুম এ, কে, এম হাফিজউদ্দিন ও মা মরহুম জাহেদা হাফিজউদ্দিন ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলীম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাব পুলিশের আইজি, ইপিআইডিসির চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রদূত, শিল্পমন্ত্রী ও শিল্প উপদেষ্টা ছিলেন এবং মা ছিলেন একজন গুণী সমাজকর্মী ও চা বাগানের মালিক। স্বামী মরহুম আবদুল খালেক মুক্তিযোদ্ধা আইজি পুলিশ, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, একাধিক বইয়ের লেখক, স্কুল ও আইন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। শিক্ষা জীবনে সেলিনা খালেক ১৯৫২ সালে মেট্রিক পাশ করেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৩ সালে সতের বছর বয়সে বিয়ে হয় সেলিনা খালেকের। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। পারিবারিক জীবনে তিনি অত্যন্ত সুখী ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করেছেন।
এই গুণী উদার এবং বিশাল মনের অধিকারীনীর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ফুটে উঠেছে একজন সাহসী আপোষহীন, আলোকিত নারীর জীবনের প্রতিচ্ছবি- প্রিয় পাঠক আপনাদের উদ্দেশ্যে এখানে তা উপস্থাপন করা হলো-

মানবজীবন: কেমন আছেন?
সেলিনা খালেক: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
মানবজীবন: আপনার আলোকিত কর্মময় জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন?
সেলিনা খালেক: আমি ১৯৫৫ সাল থেকে সেচ্ছাসেবামূলক কাজে জড়িত হই এবং আজ অবধি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তৎকালীন অচডঅ তে যোগদান করি বরিশালে। ১৯৭২ সালে অচডঅ কে রূপান্তরিত করা হয় ‘বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে’। সরকারী নির্দেশে আমি সহ-সম্পাদিকা হই। এবং (২০০৪-২০১০) পরে সভানেত্রী ছিলাম। বর্তমানে কার্যকারী কমিটির সদস্য। আমি ১৯৬০ সালে ফেডারেশন অব ইউনিভার্সিটি উইমেনের পূর্ব পাকিস্তান শাখায় ফেডারেশনের সদস্য হিসেবে যোগদান করি। এছাড়া সার্ক ফেডারেশনের সভানেত্রী ও এশিয়া ফেডারেশনের সহ- সভানেত্রী ছিলাম এবং বর্তমানে প্রাক্তন সভানেত্রী রূপে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকি। আমি ষাটের দশকে শিশু কল্যাণ পরিষদে যোগদান করি। এবং বর্তমানে ওখানকার সিনিয়র সহ সভাপতি। বাংলা একাডেমির সদস্য হই ষাটের দশকে এবং ১৯৭২ সালে আজীবন সদস্য পদ লাভ করি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে যোগদান করি ১৯৭২ সালে। ৩০ বছর সহ-সভানেত্রী ছিলাম এবং বর্তমানে উপদেষ্টা হিসেবে আছি। প্রতিষ্ঠালগ্ন ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ লেখিকা সংঘে কুড়ি বছর সহ- সভানেত্রী ছিলাম। বর্তমানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছি। এবং নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্রের বর্তমান সভানেত্রী। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতিতে যোগদান করি, বর্তমানে সহ-সভাপতি হিসেবে আছি।

মানবজীবন: আপনার লেখালেখি শুরু কবে থেকে? এ পর্যন্ত কি কি প্রবন্ধ লিখেছেন?
সেলিনা খালেক: আমি ১৯৬১ সাল থেকে লেখালেখি শুরু করি। ২০০৯ সালে প্রথম বই বের হয়। বই মুলত আটটি প্রকাশ পায়। পুলিশ কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাপ্তাহিক পত্রিকার মাধ্যমে লেখা ও সম্পদনা শুরু। তখন থেকেই বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখা শুরু হয়। নিজেকে প্রকাশ করার প্রবনতা না থাকায় বই এর প্রকাশনা করা হয়নি। প্রথম বই প্রকাশ: মহিলা সমাজ ও আমাদের সংস্কৃতি ১ম ও২য় বর্ধিত সংস্করন, পুলিশ ও সমাজ, আর্ট ফাল্গুন, আমাদের শিশু, এক নদী রক্ত, প্রবন্ধ গুচ্ছ ও অন্যান, নানা রঙের প্রবন্ধ, এরৎষ পযরষফ ধহফ ড়িসধহ রহ ইধহমষধফবংয. এছাড়া সম্পাদনা করেছি সাপ্তাহিক ডিটেকটিভ, দীপক, বর্ষবানী, বর্ষলিপি, মহিলা সমাচার, যান্ত্রিক, উর্মি, গৃহশ্রী ।
মানব জীবন: আপনার লেখা প্রথম প্রবন্ধ কোনটি?
সেলিনা খালেক: আমার লেখা প্রথম প্রবন্ধ ‘ইসলামে নারী’।
মানবজীবন: আপনি এ যাবৎ যে সব সম্মননা অর্জন করেছেন সে সম্পর্কে কিছু বলুন?
সেলিনা খালেক: বিভিন্ন সংগঠন থেকে অসংখ্য সম্মননা পেয়েছি। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো: শ্রেষ্ঠ নন্দিনী ১৯৯৯, বাংলাদেশ সবুজ মেলার উদ্যোগে শিশু কিশোর আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য বরেন্য সংগঠক হিসেবে শিশু কিশোর সমাজের চোখে বিশেষ সম্মাননা ২০০৯, নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য উইমেন্স ফেডারেশন এর ওয়ার্ল্ড পিস সম্মাননা ২০০৯, নারীর মানবধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংগ্রামী ও প্রেরনামূলক ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ মহিলা সমিতি কর্তৃক সম্মাননা ২০১১, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা- বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ২০১১, সমাজ কল্যানে বিশেষ অবদানের জন্য অনন্যা কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা পদক ২০১২, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ কর্তৃক আজীবন সম্মাননা ২০১৩, চয়ন সাহিত্য ক্লাব সম্মাননা ২০১৪, নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র কর্তৃক বেগম নুরজাহান সম্মাদনা পদক ২০১৬, বাংলাদেশ মানবধিকার সাংস্কৃতিক সোসাইটি কর্তৃক সমাজসেবায় অবদানের জন্য ষ্টার গোল্ড এ্যাওয়ার্ড ২০১৬।
মানবজীবন: আপনার জীবনে স্বার্থকতার পিছনে কার অবদান বেশি?
সেলিনা খালেক: জানিনা কতটুকু সার্থক আপনাদের দৃষ্টিতে। তবে আমি আমার জীবন নিয়ে সার্থক। আমার কখনও জীবন নিয়ে খুব বেশি উচ্চ আঙ্খাকা ছিল না। সিমিত আয়ের মধ্যেই আমরা চলেছি। আমার বাবা এবং আমার স্বামী দুজনই সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন যেহেতু তাই তাদের সততা নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিল না। প্রথম জীবনে আমার লেখালেখির পেছনে বাবার অবদান বেশি। আমার বাবা যখন পুলিশের আই জি ছিলেন (১৯৫৮-১৯৬২) সাল পর্যন্ত তখন ওনারা পলওয়েল (পুলিশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন) নামে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন যেটা থেকে প্রেট্রোল পাম্প, জোনাকি সিনেমা হল, পলওয়েল প্রিটিং প্রেস এগুলোর মাধ্যমে পুলিশের যাতে অনেক রকম উন্নতি হতে পারে। এইসময় ১৯৬০ই সালে ডিটেকটিভ নামে একটি ইংরেজী পত্রিকা বের হতো, পরবর্তিতে ১৯৬১ইং সাল থেকে ওটা বাংলায় বের হতো ওখানে আমার বাবা আমার সুপ্ত প্রতিভার কথা চিন্তা করে আমাকে সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তখন থেকেই আমার সম্পদনা ও লেখালেখি জীবন শুরু। একটা বিষয় দেখেছি তখন বড় বড় লেখক বেগম সুফিয়া কামাল, নিলিমা ইব্রাহিম, মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, আব্দুল গনি হাজারী ওনার এই ডিটেকটিভ পত্রিকায় লেখা দিতেন্। মাত্র দশ টাকার একটা টোকেন দিতাম অথচ ওনারা খুশি মনে লেখা দিতেন। কেউ ফিরিয়ে দেন নাই। ওনারা পুলিশের পত্রিকা বলে তুচ্ছ তাচিছল্য করতেন না।
মানবজীবন: একজন নারীর স্বার্থকতার পেছনে মূল কোন বিষয়টি আপনি জরুরী বলে আপনি মনে করেন?
সেলিনা খালেক: একজন নারীর জীবনে সার্থকতা নির্ভর করে নিজ পরিবারের পাশাপাশি নিজস্ব চিন্তাধারা ও ইচ্ছাশক্তি। যত বাধাই আসুক নিজের ইচ্ছাশক্তি যদি প্রবল থাকে তাহলে তাকে দমানো সম্বব নয়। সে তার মেধা শক্তির বলে এগিয়ে যাবেই। আমি আমার জীবন থেকে বলতে পারি আপনারা জানেন যে, আমি শুধু লেখালেখি না বিভিন্ন সংগঠনের সাথেও জড়িত। আমি পাকিস্তান আমল থেকেই সংগঠন করি। অল্প বয়সে বিয়ে হলেও সাহিত্য চর্চা ও জনকল্যাণমুখি মনোভাব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখিনি। আমার সতের বছর বয়সে বিয়ে হয় আর আমার বয়স যখন উনিশ তখন আমি বরিশালে। সেখানে আমি (অচডঅ) অষষ ঢ়ধশরংঃধহ ড়িসবহং ধংংড়পরধঃরড়হ এর প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হই। এটা সব জেলাতেই তখন ছিল। সেই ১৯৫৫ সাল থেকে আমি সমাজ সেবা অর্থাৎ সেচ্ছাশ্রম করে আসছি। কোন বেতন বা কোন টাকা পয়সা নেইনি। একটা বিষয় এই যে সেই তখন থেকে এই পর্যন্ত আমার এখন এত বয়স তারপরেও প্রতিটি সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে এখনও কাজ করে যাচ্ছি। ১৯৭২ সালে দেশ স্বাধীন এর পর বঙ্গবন্ধু এসে (অচডঅ) কেই ‘বাংলদেশ মহিলা সমিতি’ সরকারী অডিয়েন্স এর মাধ্যমে ঘোষণা দিলেন। এরপর বেগম সুফিয়া কামালের সাথে মহিলা পরিষদে যুক্ত ছিলাম এখন আমি এটার উপদেষ্টা। আমি বলব যে বেগম সুফিয়া কামাল, নীলিমা ইব্রাহীম ওনাদের মতো গুনি ব্যক্তিত্যের সাথে প্রায় বত্রিস বৎসর অর্থাৎ আমৃত্যু কাজ করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। আসল কথা হলো, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই সুপ্ত প্রতিভা বিদ্যমান থাকে প্রয়োজন শুধু তাকে কাজে লাগিয়ে বিকশিত করা।

মানব জীবন: একজন নারীর সফল জীবনে এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা কি হয়ে দাড়ায় বলে আপনি মনে করেন?
সেলিনা খালেক: মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বলব শিক্ষার অভাব, আর্থিক অসচ্ছলতা, আর আমার ব্যক্তিগত জীবন থেকে বলতে পারি, পরিবার যদি সহযোগিতা করে তাহলে যে কোন ক্ষেত্রেই নারীকে সফল ভাবে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়। উদাহরন স্বরূপ বলতে পারি যেমন বেগম সুফিয়া কামাল তিনি তার স্বামীর কাছ থেকে প্রচুর উৎসাহ সহযোগিতা পেয়েছেন। প্রতিভা যদিও প্রত্যেকের নিজের মধ্যে থাকে কিন্তু তাকে বিকশিত করার জন্য বাবা, স্বামী,পরিবার পরিজনের সহযোগিতা অনস্বিকার্য।
মানবজীবন: বর্তমানে নারীরা এত নির্যাতীত হচ্ছে কেন এবং প্রতিকার হিসেবে কি মনে করেন?
সেলিনা খালেক: অনেকে নারীকেই দোষ দেয়। কারন হিসেবে তারা নারীর পোশাক, কর্মক্ষেত্রে বিচরন, চলাফেরা এসবকে দায়ী মনে করে। কিন্তু আমি তাদের সাথে একমত নই। আমি এটাকে একমাত্র কারন মনে করি না। আমার মতে, আপনার পোশাক আমার পোশাক ভিন্ন হতে পারে সেটা যার যার রুচির ও ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। আসলে আগের দিনে মহিলারা সামাজিক, আর্থিক, রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে কম জড়িত থাকতো। বাইরে কম বেড়িয়ে আসতো। আর এ কারনেই হয়ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ওইভাবেই মেয়েদের কে দেখতে চায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়,স্বামীর থেকে বউ বেশি শিক্ষিত এবং বেশি টাকা উপার্যন করছে অথবা তার থেকে বউ এর সামাজিক মর্যাদার স্থান উচুঁতে সেসব ক্ষেত্রে স্বামীরা হীনমন্যতায় ভোগে এবং বউ এর উপর নির্যাতন করছে। এছাড়া প্রকৃত সু-শিক্ষার অভাবতো আমাদের সমাজে রয়েছেই। আর মেয়েদেরকেও বলব সবকিছুতেই নিজেকে মানিয়ে চলার প্রবনতা থাকতে হবে, শালিনভাবে চলতে হবে। সংসারে সন্তান থাকলে তার কথাও চিন্তা করে অনেক বিষয় সেক্রিফাইজ করতে হবে কেননা বাবা মা এর বিচেছদ অথবা বিরোধ সন্তানদের উপর গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। আমি মনে করি,এই ধরুন আমি শুধু মহিলা সংগঠন না, বিভিন্ন পুরুষ সংগঠনের সাথও জড়িত এবং সবখানেই সন্মানিত হয়েছি কারন আধুনিকতার নামে উগ্রতা কখনই আমাকে গ্রাস করতে পারে নাই। এছাড়া আগে মিডিয়ার এত ছড়াছড়ি ছিল না। এখন কোথাও কোন ঘটনা ঘটা মাত্রই আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে তৎক্ষনাৎ জানতে পারছি। নির্যাতীত বা ধর্ষিত নারীরা থানায় যাচ্ছে আইনের আশ্রয় নিচেছ যা পূর্বে নারীরা কম করত। কারন পরিবারই তাদেরকে কিছু বদ্ধমূল ধারনা দিয়ে দিত যে স্বামী যতই নির্যাতন করুক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্বামীর ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। অথবা ধর্ষন হলেও সমাজের লোকচক্ষুর নিন্দার ভয়ে প্রকাশ করত না। কিন্তু এখন ধর্ষিত নারীই বিচার চাচ্ছে আইনের কাছে,সমাজের কাছে। বর্তমানে বাবা মায়েরা ও চান না মেয়েরা মর্যাদাহানি হোক স্বামীর সংসারে। আর মেয়েরাও তাদের অধিকার সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তাদের শিক্ষার হার বাড়ছে। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে আজ যেন বদ্ধ পরিকর। এ বিষয়ে পরিশেষে বলব, আমাদের ধর্মেও আছে, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উচিত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে।

মানবজীবন: নৈতিক, মানবিক গুণাবলিসহ সন্তানদের কে আদর্শরূপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একজন মায়ের ভূমিকা কি হওয়া উচিত। আপনার অভিমত কি?
সেলিনা খালেক: অবস্যই সন্তানকে যথার্থ আদর্শরুপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মায়ের ভুমিকা অনস্বিকার্য। সংসারে বাবার পাশাপাশি একজন মা ই পারেন সন্তানকে প্রাথমিক জ্ঞান দিয়ে সু- শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। সন্তানকে ধর্মীয়, নৈতিক মুল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে। একজন সন্তানের সামগ্রিক চাহিদা মা যতটা বুজতে পারে বাবা সেটা বুজতে পারে না। এটা হয়তো সহজাত একটা বিষয়। তাই বলব মায়েরা তাদের সন্তানদের প্রতি অধিক মনোনিবেশ করবেন । সন্তান কোথায় যাচেছ, কি করছে, কার সাথে মিশছে ? এসব ব্যপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ধর্মীয় একটা বিষয় বলতে পারি,“ একজন সাহাবী ,রাসুল (সা:) কে জিগ্যেস করেছিল ,আমি কাকে সবচেয়ে বেশি সম্মান করব? তখন রাসূল (সা:) উত্তর দিয়েছিলেন ‘মা’কে। এভাবে তিনবার ই জিগ্যেস করলে উত্তর দিয়েছিলেন ‘মা’ কে এবং ৪র্থ বার উত্তর দিয়েছিলেন ‘বাবা’কে।” ইসলাম ধর্মে মা কেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। হাদীসে আছে, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত’। সুতরাং বাবার থেকেও মায়ের ভূমিকা সন্তান আদর্শরূপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য।
মানবজীবন: বর্তমানে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি যে নৈতিক অবক্ষয় চলছে এই অবক্ষয়রোধে আমাদের কি করনীয় বলে আপনি মনে করেন?
সেলিনা খালেক: প্রথমত বলব বিজ্ঞানের অবদানের ক্ষেত্রে সূফল যেমন আছে কূফল ও তেমনি আছে । আর এ বিষয়ে আমাদেরকে সঠিক ভাবে অনুধাবন করতে হবে। যেমন মোবাইল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। তবে বাচ্চাদেরকে মোবাইল ব্যবহার থেকে দুরে রাখা উচিত কেননা এটা ব্যবহারের ফলে একটি বাচ্চার সুফলের চেয়ে নৈতিক স্খলন এর সম্ভাবনাই বেশি। কৈশর পার না হতেই একটি বাচ্চাকে কম্পিউটার না দেওয়াই ভালো কেননা এটিতে সে যতটুকু উপকৃত হবে তার থেকে ক্ষতির সম্ভাবনাই থাকে । সে এর থেকে গেইম এ আসক্ত হতে পারে। ফলে দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেলবে।
মানবজীবন: আপনি মুলত নারী বিষয়ে বেশি লিখেছেন তাই বলব বর্তমানে নারী ও শিশুদের ব্যপারে আপনার কি ম্যাসেজ থাকবে?
সেলিনা খালেক: আমি মনে করি যার যার অবস্থানে প্রত্যেকেই যদি হিন্দু, খ্রীষ্ঠান, বৌদ্ধ অথবা মুসলিম নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে উপলব্দি করতে পারে এবং সে অনুযাই জীবন পরিচালনা করতে পারে তবেই সে ন্বার্থক জীবনে উপবিষ্ট হতে সক্ষম হবে। এছাড়া নীতিবোধ, মুল্যবোধ, সততা, সময়ানুবর্তিতা এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ থাকতে হবে।
মানবজীবন: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন?
সেলিনা খালেক: আমার বিশেষ কোন পরিকল্পনা নাই। বাকিটা জীবন যেন আপনাদের দোয়ায় সুস্থ অবস্থায় বেঁেচ থাকি এবং সক্রিয়ভাবে সকল প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যেতে পারি।
মানবজীবন: আপনার ব্যস্ততম সময়ের মধ্যে আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আমরা আনন্দিত।
সেলিনা খালেক: আপনাদের সাথে আলাপচারিতা করতে পেরে আমার ভালো লেগেছে। প্রতিটি দিন হোক সবার জন্য সুন্দর ও কল্যাণময় ধন্যবাদ।

মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনের সমর্থনে সভা অনুষ্ঠিত খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে —মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারী

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর হাফিজ মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারী বলেছেন, খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উলামায়ে কেরামকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন কে আরো বেগবান করতে নিজের অবস্থানে থেকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে হবে।ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আগামী সংসদ নির্বাচনে আলেমদের সংসদে পাঠাতে আমাদের সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।তিনি আগামী ২০ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশ সফল করতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
তিনি আজ ৮ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে দলীয় প্রার্থী দলের যুগ্মমহাসচিব জননেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনের এর সমর্থনে ভৈরব উপজেলার উদ্যোগে উলামায়ে কেরামের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে দলীয় প্রার্থী দলের যুগ্মমহাসচিব জননেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
ভৈরব শহরস্থ মসজিদে মামুর কমপ্লেক্সে শাখা সাধারণ সম্পাদক ও ভৈরব ইমাম ও উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আল আমীনের সভাপতিত্বে ও কিশোরগঞ্জ জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা উসমান গণির পরিচালনায় মতবিনিময়ে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান,শায়খুল ইসলাম আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী রহঃ এর বিশিষ্ট খলিফা আল্লামা আমিনুল হক মাহমুদী রহঃ এর সাহেবজাদা মাওলনা জাকারিয়া আমিনী,শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুল আহাদ,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর সহ-বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আমানুল্লাহ।অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভৈরব উপজেলার সহ সভাপতি মাওলানা এনায়েতুল্লাহ ভৈরবী, মাওলানা মুখতার হোসেন রায়পুরী, মাওলানা ইসমাঈল,মাওলানা সাদ উল্লাহ,মুফতী আবু মুসা,সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আলী,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুর রহমান,প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা জহির বিন রুহুল,কুলিয়ারচর উপজেলার পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মুফতী নাসির উদ্দীন,মাওলানা ইসমাইল হোসাইন,মাওলানা আব্দুর রহমান।এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী জননেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেছেন,সন্ত্রাস ও দুর্নীতি ইনসাফপূর্ন আদর্শ সমাজ গঠনে আমাদের সবাইকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে ।তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে তাহাকে নির্বাচিত করতে সকলের প্রতি আহবান জানান।

কাজী শফিক হজ গ্রুপের আয়োজনে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: গতকাল শনিবার কাজী হজ গ্রæপের আয়োজনে পৌর শহরের মুক্তার পাড়ায় অফিসে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর আমীর ও সিলেট কাজির বাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে । ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের সহ-সভাপতি হাফেজ জয়নাল আবেদীন এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাজী শফিক গ্রুপের পরিচালক কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম । প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রিন্সিপাল মাওলানা আলীনুর । অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক মাওলানা আবুতাহের মোহাম্মদ খালিদ, মাওলানা মফিজুর রহমান, মুহতামিম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন,আলহাজ¦ হাফেজ হারুনুর রশীদ । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষক মোহাম্মদ আমিনুল হক, সাংবাদিক রেজাউল করিম, মো: আব্দুল আমীন চৌধুরী,কাজী মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম, মাহবুবুল ইসলাম, সেলিম আহমেদ, রফিকুল ইসলাম । দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ আতাউর রহমান লস্কর । উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার তিবাগত রাতে মরহুম মাওলানা হাবিবুর রহমান সিরেটের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন । লাখো মুসল্লিদের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে সিলেট সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাযার নামায শেষে কাজিরবাজার মাদ্রাসা সংলগ্ন দাফন সম্পন্ন হয়।

মনোনয়ন পেলে খেলাফত কায়েমে কাজ করবো: আতাউল্লহ আমীন

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভৈরব শাখার আয়োজনে মতিবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভৈরবের কমলপুরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব কুলিয়ারচর) আসনে সম্মিলিত জোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, আমাকে জোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে এদেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠান জন্য কাজ করে যাব ইনশা আল্লাহ।

তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। আপনারা জানেন পাক ভারত বাংলাদেশ ইতিহাসে জাতীয় রাজনীতিতে যে মহান ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি হলেন মাওলা আতহার আলী রাহ.। তিলি সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও কর্ম জীবন কাটিয়েছেন আমাদের কিশোরগঞ্জের মাটিতে। যার নেতৃত্বে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে
৩৬ জন সংসদ সদস্য ছিল।

তিনি বলেন, এদেশের উলামায়ে কেরামকে জাতীয় সংসদে নেয়ার যে অবদান ছিল তাঁর এচেয়ে বড় আবদান আর কারোর নেই। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর হাফেজ্জী হুজুর রাহ সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, সে আন্দোলকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য তারই হাতে গড়া শিষ্য আমাদের প্রান প্রিয় রাহবার আল্লামা শাইখুল হাদীস রাহ. আজীবন মেহনত করেছেন।

তিনি এমন একজন নেতা যিনি নিজস্ব গতিতে বাংলাদেশের সংসদে একজন আলেমকে প্রেরণ করতে পেরেছিলেন। তিলি হলেন, আমাদের নেতা খেলাফত মজলিসের অবিভাবক পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা উবাইদুল হক উজিরপুরী রহ.।

তিনি আরও বলনে. আমি নির্বাচন করতে অনেকটা ভয়ে ছিলাম কিন্ত আমাকে আল্লামা যোবায়ের আহমদ আনসারী সাহেব অভয়ের বাণী শোনালেন। আমি প্রস্তুত হয়ে গেলাম নির্বাচনের জন্য।

আপনারা জানেন ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রস্ততি শুরু হয়েছে, আমি আশা করি আমাকে সম্মিলিত জোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে আপনারা সার্বিক সহযোগিতায় থাকবেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর আল্লামা যুবায়ের আহমদ আনসারী।

তিনি বলেন, এখন বক্তৃতা নয় মাঠে কাজ করার সময়। আমেরিকা ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলাফত মজলিসের কার্যক্রক খুব গোছালোভাবে চলছে৷ আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা৷

তিনি আরও বলেন, আমি খেলাফত মজলিসে ১৯৯৫ সালে যোগদান করে ৯৬ সালেই নাসীরনগর থেকে এমপি নির্বাচন করেছি। নির্বাচন করার মতো অর্থ ছিল না তবুও করেছিলাম আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই।

যদিও তখন আমি পাশ করতে পারিনি কিন্তু দমে যাইনি৷ আলহামদুলিল্লাহ আজও খেলাফত মজলিসের প্রভাব আমার নাসিরনগরে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।

এ ছাড়াও উক্ত মতবিনিময় আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা জাকারিয়া আমিনী, মাওলানা মুখতার হুসাইন রায়পুরী, মাওলানা ইসমাইল সরদার, মাওলনা এনায়েতুল্লাহ ভৈরবী, মুফতি নাসিরুদ্দিন,
মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা মনির বিন রুহুল, মাওলানা আব্দুস সালাম প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় ভৈরব, কুলিয়ারচর থেকে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী যোগদান করেন।

শিবপুরে নূরনগর অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন নবীনগর উপজেলার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) আসনের কাজী নাজমুল হোসেন তাপস।

 মোহাম্মদ হেদায়েতুল্লাহ্ নবীনগর থেকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা শিবপুর নূরনগর অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয়ে গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নবীনগর উপজেলার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) আসনের কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। অনুষ্ঠানে নূরনগর অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হেবজুল বাহার এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন এর সঞ্চালনায় এসময় কাজী নাজমুল হোসেন তাপস বলেন আমার বাবা নবীনগর পূর্বাঞ্চলের মানুষের সুখে দুঃখে দীর্ঘ দিন কাজ করে গেছেন আমিও আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই, আগামীদিনে আমাদের পূর্ব ছয় ইউনিয়নের সকল নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে নূরনগর উপজেলা বাস্তবায়নে কাজ করে যাব। মতবিনিময়েরর আগে তিনি শিবপুর হাই স্কুল মাঠে বিশাল ইসলামী মহা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন নবীনগর পৌরসভার মেয়র মাঈন উদ্দীন মাঈনু, শিবপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান হাজ্বী শামসুল হক, নবীনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ হেদায়েত উল্লাহ, নূরনগর অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সহসভাপতি আবু সুফী ফতেহ আলী, অর্থ সম্পাদক জুয়েল রানা, তথ্য সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহমার আল জামি, মহসিন আহাম্মেদ, মাহমুদুর রহমান, মোঃ মনিরুজ্জামান, যুবদল নেতা শাহীন বিশ্বাস, আতিকুল ইসলাম, প্রমুখ।

সদ্যজাত সন্তানকে নিয়েই হাসপাতাল থেকে ঝাপিয়ে জীবন দিলেন প্রসূতি

 

এইচ.এম. সিরাজ, স্টাফ রিপোর্টার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রবাসীর স্ত্রী সীমা অাক্তার। মাত্র চারদিন অাগেই করলেন পুত্র সন্তান প্রসব। সন্তানসমেত রয়েছেন হাসপাতালেই। মোবাইলে কথোপকথন হয় স্বামীর সাথে। পারাবারিক বিষয়াসয় নিয়ে উভয়ের মাঝে হয় তর্কবিতর্ক। অাবার হাসপাতালের বিল নিয়েও তর্কবিতর্ক হয় তার মায়ের সাথে। এসবের জেরে সদ্যজাত পুত্র সন্তানকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী চারতলা ভবনের ছাদে যান ওই প্রসূতি। অার সেখান থেকে সন্তানসমেত ঝাপিয়ে পড়ে করলেন অাত্মহত্যা। রহস্যঘেরা ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের।

১৯ অক্টোবর শুক্রবার সকাল সাড়ে অাটটার দিকে জেলা শহরের পুরাতন জেল রোডস্থ ‘দি ল্যাব এইড স্পেশাইজড হাসপাতাল’র চারতলা ভবনের ছাদে ঘটলো এই হৃদয়বিধারকতা।নিহত সীমা অাক্তার (২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ঘাটিয়ারা ফুলচং গ্রামের মনির মিয়ার স্ত্রী। মনির মধ্যপ্রাচ্যের লেবানন প্রবাসী। গত এক বছর আগে পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়েছিলো। গত চারদিন অাগে লাইফ কেয়ার শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে পুত্র সন্তান প্রসব করেছিলেন ওই প্রসূতি সীমা অাক্তার।

নিহতের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে প্রসব ব্যথা নিয়ে সীমা অাক্তার শহরের পুরাতন জেলরোডস্থ লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ৩০২ নম্বর বেডে ভর্তি হন। সেদিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সীমা। বৃহস্পতিবার রাতে প্রবাসী স্বামীর সাথে মোবাইলে কথোপকথন হয় সীমার। ওই সময় পারিবারিক বিষয়াসয় নিয়ে তর্কবিতর্কও হয়। তাছাড়া হাসপাতালের বিল নিয়ে তার মায়ের সাথেও হয় তর্কবিতর্ক। শুক্রবার সকাল দশটার দিকে হাসপাতাল থেকে তাদের ছাড়পত্র পাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এর অাগেই সকাল সাড়ে অাটটার দিকে রহস্যজনক কারণে লাইফ কেয়ার হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এণ্ড স্পেশালাইজড হাসপাতালের ছাদ থেকে সীমা প্রথমে তার নবজাতককে ছুঁড়ে ফেলে দেনে। এরপর তিনি নিজেও নিচে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।

জসিম মিয়া নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি ল্যাব এইড হাসপাতালের উল্টো দিকে একটি রেস্টুরেন্ট নাস্তার অর্ডার দিয়ে বসেছিলাম। হঠাৎ দেখি হাসপাতালের ছাদ থেকে এক মহিলা তার নবজাতককে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই নবজতাকটির মৃত্যু হয়। এরপর ওই মহিলাও যখন লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করছিলো আমরা তখন লাফ দিতে মানা করছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা না শুনে কয়েক মিনিটের মধ্যে ওই মহিলাও নিচে লাফিয়ে পড়েন। লাইফ কেয়ার হাসপাতালে সীমার পাশের বেডের (৩০৩) এক রোগীর স্বজন ফরিদা খাতুন বলেন, সারারাত বাচ্চাটি দুধের জন্য কান্নাকাটি করছিলো। সীমা ফোনে কারো সঙ্গে ঝগড়া করছিলো। ফোনে সে বলছিলো ‘বাচ্চাকে দুধ দিতে হবে না, সকালে দেখবা আমি কি করি’। তবে হাসপাতালে উপস্থিত সীমার মা রেহানা বেগম কী কারণে নবজাতককে নিয়ে তার মেয়ে লাফিয়ে পড়েছেন সেটি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি। তার দাবী, ঘটনার সময় তিনি হাসপাতাল থেকে নেমে গিয়েছিলেন নাস্তা অানতে। ফিরে এসে মেয়ে সীমা ও তার নবজাতককে বিছানায় পাননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ১নং ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) উসমান গণি বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘স্বামীর সাথে সীমার কোনো বিষয়ে কলহ চলছিল কি-না সেটি আমরা এখনো জানতে পারিনি। কী কারণে তিনি ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছেন সেটিও স্পষ্ট নয়। তদন্তের পর জানা যাবে।’

Play
Play
previous arrow
next arrow
Slider

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এই ধারার কারণে বহু সাংবাদিককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। অনেককে কারাগারেও যেতে...

    ১৭ই মার্চ, ১৯২০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান এবং সায়রা বেগমের ঘরে জন্ম নেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। গোপালগঞ্জ...

previous arrow
next arrow
ArrowArrow
Slider

  অত্যন্ত মিষ্টিভাষী ও উদারমনা সমাজসেবী মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল। পিতা-(মৃত তোজাম্মেল হোসেন) টাংগাইল জেলার গোপালপুর থানার হেমনগর শিমলাপাড়া গ্রামে ১৯৮৩ সালে এই অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দুইবার...

L0go

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি