সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সর্বশেষ সংবাদ
  • রাত ১:২০ | ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং , ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Monthly Archive :ডিসেম্বর ২০১৮

এক লাখ লোক মরবে

ভোলা-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এতো নিষ্ঠুর এই বিএনপি। ওরা যদি আবার ক্ষমতার সাদ পায় এক লাখ লোক প্রথম দিনেই হত্যা করবে।

বুধবার গাজীপুর রোডের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

তোফায়েল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে। বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক বিশ্বে মর্যাদাশীল দেশ। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। মানুষ অবাক হয় বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

ইসি খুব প্যারা দিল

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) দুদফা প্রার্থিতা বাতিল করায় বিরক্ত হিরো আলম বলেছেন, ইসি আমায় খুব প্যারা দিল। শুনানিতে যখন ইসি আমাকে বাদ দিল, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম লড়াই করব প্রার্থিতা ফিরে পেতে।বহুত লোকের কটু কথা সহ্য করে এই পর্যন্ত এসেছি। থেমে থাকার পাত্র আমি নই। হাইকোর্টে যেতে হবে। শেষমেশ তো ইসিকে হাইকোর্ট দেখিয়েই ছাড়লাম।

অভ্যর্থনা ডেস্কের কর্মকর্তা হিরো আলমের রায়ের কপি যাচাই-বাছাই করেন। তিনি এ কপি জমা নেননি। তাকে ওপরে গিয়ে জমা দিতে বলেন।

হিরো আলম মাথা ঠাণ্ডা রেখে দ্বিতীয় তলায় যান। সেখানে ইসির কর্মকর্তারা হিরো আলমকে অভিনন্দন জানান প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য।

এক কর্মকর্তা বলে ওঠেন, আরে হিরো আলম ভাই, আপনি এলে লোকজন ভিড় করেন, অথচ অন্যরা এলে এত লোক হয় না। আপনি সত্যিকারের হিরো ভাই।

কিছুটা মৃদু হেসে সহজ-সরল হিরো আলম বলেন, ‘এসবই আপনাদের ভালোবাসা ভাই। কাগজপত্র বুঝে লেন (নেন), ভালো করে দেখেশুনে সই করে লেন! আমাকে যেন আর না আসতে হয়।’

এ সময় ইসির আরেক কর্মকর্তা কিছুটা টিপ্পনি মেরে বলে ওঠেন, ‘আপনার সাহস আছে ভাই, আপনি পারেন।’

উত্তরে হিরো আলম দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘সাহস আছে বলেই তো ইসি আমাকে সিংহ মার্কা দিল। এখনই মরে গেলেও আমার আর কোনো কষ্ট থাকবে না। জীবনে যা পাওয়ার, সবই পাইছি। বাকি জীবন বাঁচব শুধু মানুষের জন্য।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) রাতেই বগুড়ায় চলে যাব। বুধবার থেকে প্রচার শুরু করব। আমার আর তর সইতেছে না।’

হিরো আলম বলেন, বগুড়ায় ফিরে প্রথমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে পছন্দের সিংহ প্রতীক নেব। এরপর নন্দীগ্রাম উপজেলা ও পরে কাহালু উপজেলায় মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করব।

বগুড়া-৪ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন হিরো আলম। কিন্তু পাননি। এর পর স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। জেলা রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন বাতিল করেন। ইসিতে আপিল করেন হিরো আলম।

এরপর ৬ ডিসেম্বর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে হিরো আলমের আপিল নামঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। ইসিতে ব্যর্থ হয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেন হিরো আলম।

গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার হিরো আলমের মনোনয়ন গ্রহণের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ইউটিউবে বিচিত্র অভিনয়, গান আর নাচ দেখিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন হিরো আলম। তার প্রকৃত নাম আশরাফুল আলম। তিনি এর আগেও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত এই ‘হিরো’।

মানব-সূর্য মোহাম্মদ

খান লিপিকা:

মানব-সূর্য মোহাম্মদ

ভুবনের যত গ্লানী যত অবসাদ করিতে নির্মূল,
কালিমা ঘোচাতে শ্রেষ্ঠ দিশারী ফুটেছিলেন ফুল।
দর্শনে পুষ্ফটিত ফুল যেন প্রফুল্ল মম হিয়া,
জীবন বারতা পুষ্পেরই ন্যায় উঠে বিকশিয়া।
ইসলামে বৈরাগ্য নেই হৃদয়ে এই গুন যার,
সমাজ জীবন সফল তার সব হতে সার।
ও মোর প্রানের নবী সত্যময় আদর্শে মহিয়ান,
সকলই দিয়ে শুন্য হাতে করেছেন নিজেকে দান।

রাখিয়া ‘তাওহীদ’ ‘রব’ হৃদয়ের পিঞ্জরে বন্দী,
সেখানে দেননি ঠাঁই কখনও বিভেদ,শর্ত-সন্ধি।
দিয়েছেন শিক্ষা প্রতিটি সময়ের পরতে পরতে,
তবু ঈমানী দুর্বলতায় দিশেহারা জীবন রচিতে।
আপনার সু-মহান আদর্শ সংযমতা দিয়ে জলাঞ্জলী,
ধর্মের নামে চলে অপব্যাখ্যার কুরুচী আর ভন্ডামী।
এ ধরার মালিকানা জগৎ এর অসীম অনন্ত শ্রষ্টার,
শিখাইলেন মানুষেরে গনতন্ত্রে সততা,সাম্য অধিকার।

অজ্ঞতারে আলো দিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন জীহাদ,
মরনমূখী মনুষ্যত্বে উত্তরনে তব অন্যায়ের প্রতিবাদ,
সাদা-কালো,উচ্চ-নীচ বেধেঁছিলেন একই ডোরে,
বিভেদ নেই কোন বংশে জন্ম, কোন সে ঔরষে।
সদিচ্ছার অন্তরালে উৎসারিত সৎ কর্ম যাহা,
জগৎ সংসারে বুঝিয়েছেন তাহাই মানবতা।
অধর্মে চপটাঘাত এর তরে জ্বালিয়েছেন বাতি,
এক শ্রষ্টা,এক সৃষ্টি,এক বিশ্ব,এক মুসলিম জাতি।

তাকওয়ার পোশাক বা ইসলামী পোষাক

 

খান লিপিকা:  আপনি বলবেন কোর্ট-টাই খৃষ্টান ইহুদীদের পোশাক। আমি বলব, পাগড়ী শিখদের পোশাক, গুরু নানকের পোশাক, নরেন্দ্র মোদির পোশাক। টুপি জওহর লাল নেহেরুর পোশাক, গান্ধিজীর পোশাক!
হালের নাস্তিক আব্দুল্লাহ মাসুদ নাস্তিক হওয়ার পরও পায়জামা পাঞ্জাবী পড়ে, টুপি মাথায় দেয়; তারপর মনে যা আসে উল্টা পাল্টা কোরআন ও হাদীছের অপব্যাখ্যা করে। অর্থাৎ সুন্নাতী পোশাক পড়ার পরও সে নাস্তিক, নাস্তিক-ই রয়ে যায়।
মূলত পোশাকের সাথে ইসলামের ইবাদতগত কোন সম্পর্ক নেই। তাইতো রাসুল (ﷺ) এর পোশাক পড়ার ধরনকে ইবাদতগত সুন্নাত নয়,বরং অভ্যাসগত সুন্নাত বলা হয়। আবু জাহেল, আবু লাহাব যেই ধরনের পোশাক পরিধান করতো, রসুল (ﷺ) ও সেই ধরনের পোশাক পরিধান করতেন। শর্ত হলো পোশাক ঢিলে-ঢালা এবং শালিন যেন হয়। আর পোশাক যেন অন্য ধর্মাল ধর্মালম্বীদের সাদৃশ্য না হয়, যেমনঃ ঠাকুর , পপ, ফাদার & মাদার ইত্যাদি।

মহান আল্লাহ বলেনঃ
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْءَاتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَىَ ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ
-হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
[সূরা আল আ’রাফ ২৬]
.
সুতরাং শুধুই সুন্নাতী লেবাশ পরিধান করলেই কেউ সত্যিকারের মুসলিম হতে পারে না। সত্যিকারের মুসলিম হতে হয় আক্বীদা ও বিশ্বাসে, আমল ও কর্মে রাসুল (ﷺ) এর পরিপূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমে!
ইসলামে সুন্নতী পোষাক কোনটি?
======================
শরীয়তে ‘সুন্নতী পোষাক’ বলতে কোন কিছু নাই। বরং পোষাকের ক্ষেত্রে ইসলামের কতিপয় মূলনীতি আছে সেগুলো ঠিক রেখে একজন মুসলিম যে কোন পোষাক পরতে পারে। ইসলাম তার অনুমোদন দিয়েছে। যেমন-
১) পুরুষদের টাখনুর নিচে পরা যাবে না।
২) বিপরীত লিঙ্গের পোষাক পরিধান করা যাবে না।
৩) খুব পাতলা বা আঁটোসাঁটো হওয়া যাবে না। যাতে উচু-নিচু স্থানগুলো (লজ্জাস্হান) ফুটে না উঠে।
৪) বিধর্মীদের ধর্মীয় পোষাকের মত হবে না (যেমন, বৌদ্ধদের বিশেষ কালারের পোষাক)।
৫) সমাজে প্রচলিত নয় এমন অদ্ভুত ডিজাইন, কালার পোষাক পরিধান করা যাবে না যাকে হাদীসে ‘লিবাসুস শুহরাহ’ বলা হয়েছে।

এই শর্তগুলো ঠিক রেখে মুসলিমগণ নিজ নিজে দেশে প্রচলিত পোষাক পরিধান করতে পারে। শরীয়ত তাতে বাধা দেয় না।
জুব্বা, পাঞ্জাবী, গোলজামা, আলখাল্লা, পাগড়ি এসব আঞ্চলিক পোষাক। এগুলোকে সুন্নতী পোষাক বলা ঠিক নয়।
আরব বিশ্বে মুসলিম-খৃষ্টান নির্বিশেষে জুব্বা বা আলখাল্লা পরিধান করত; এখনো পরে।
ভারতের পাঞ্জাব এলাকার লোকেরা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে পাঞ্জাবী পরিধান করে। সেটা পরবর্তীতে আমাদের দেশ সহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

পাগড়ি আরব সহ আরও কিছু এলাকার আঞ্চলিক কালচার। আবু জাহেলও পাগড়ি পরত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও পরতেন। এটা ছিলো সমাজে প্রচলিত পোষাকের অন্তর্ভূক্ত। তবে ইচ্ছে করলে মুসলিমগনও পাগড়ি পরতে পারে। এতে আলাদা ফযিলত সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। এ মর্মে কিছু হাদীস বর্ণিত হলেও সেগুলো কতিপয় বানোয়াট, মুনকার ও অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ের।

অনুরূপভাবে টাইও খৃষ্টানদের ‘ক্রসের চিহ্ন’ এমন কোন কথা ঐতিহাসিকভাবে বা কোন প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাই একজন মুসলিম টাইও পরতে পারে দেশে প্রচলিত পোষাক হিসেবে।

উল্লেখ্য যে, কুরআনে বর্ণিত, ‘লিবাসুত তাকওয়া’ দ্বারা বাহ্যিক কোন পোষাক উদ্দেশ্য নয় বরং উদ্দেশ্য হল, তাওকয়া অবলম্বন করা, ঈমান ও আমলে সালিহ।

আল্লাহ তাআলা বলেন: يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا ۖ وَلِبَاسُ التَّقْوَىٰ ذَٰلِكَ خَيْرٌ ۚ ذَٰلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّـهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ
“হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোষাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র। তাকওয়ার পোষাক; এটি সর্বোত্তম।” সূরা আরাফ: ২৬)
এর ব্যাখ্যায়
কাতাদাহ ও ইবনে জুরাইজ, সুদ্দী বলেন, লিবাসুত তাকওয়া অর্থ: ঈমান
ইবনে আব্বাস রা. বলেন: নেক আমল।
উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর বলেন: আল্লাহর ভয়।
(দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর )
আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।

যে সমস্ত ভাইয়েরা নিজেদের ঈমান-আক্বিদা, আমলে কুফরী, শির্ক,বিদ’আতের মধ্যে নিমজ্জিত থেকে লম্বা জুব্বা, পাগড়ী জড়িয়ে নিজেদেরকে পাক্কা মুসলিম দাবি করে অথচ শার্ট-প্যান্ট পড়িহিত, শির্ক বিদ’আত মুক্ত,নামাজী মুসলিম ভাইদের তাদের সস্তা ফতোয়া “কাফের ” ছুড়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করে না!

প্রার্থিতার বিষয়টি ঝুলেই রইল

চলমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রার্থিতার বিষয়টি ঝুলেই রইল। আজ বুধবারও এর সমাধান হয়নি। খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি না লেখায় তৃতীয় বেঞ্চ গঠন না করেই সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ফেরত পাঠান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বুধবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাইকোর্ট বেঞ্চের দুই বিচারকের মতামত স্পষ্টভাবে ফাইলে আসেনি। এ কারণে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিষয়টি স্পষ্ট করতে বেঞ্চে পাঠিয়েছেন। হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে ফাইল পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দিলে সেখানেই খালেদা জিয়ার রিটের নিষ্পত্তি হবে।

এর আগে মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য শুনে বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন এবং খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না যা জানতে রুল জারি করেন। কিন্তু বেঞ্চের অপর বিচারপতি (কনিষ্ঠ) খালেদা জিয়র প্রার্থিতা বাতিল করেন।’

গত ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির পর সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত দেন।

শুনানিতে প্রার্থিতা বহালের পক্ষে মত দেন মাহবুব তালুকদার। এর বিপক্ষে মত দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও তিন কমিশনার।

পরে প্রার্থিতা বাতিল করা রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার পক্ষে গত ৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিনটি রিট দায়ের করা হয়।

খালেদা জিয়া বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার মনোনয়নগুলো বাতিল করে দেন।

এটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা

শুরু করা যাক জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে একজন মহিলা এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের কথা দিয়ে। তিনি বলছিলেন, তার পুরুষ সহকর্মীরা নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে সভায় ও সংসদে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু যখন দেখেন এই নারীদের কারণে প্রতিযোগিতায় পড়ে গেছেন তখনই তারা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান। তার ভাষায়, “এটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা।”

মিজ আক্তার যুব মহিলা লীগের একজন নেত্রী। ঢাকা মহানগরের প্রেসিডেন্ট তিনি। ছাত্রাবস্থা থেকে রাজনীতি করে আসছেন। জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু।

এবারের নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। এই আসনে তার মতো আরো ১৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন দল থেকে। তাদের মাত্র দু’জন নারী।

সাবিনা আক্তার তুহিন বলেন, “স্বপ্ন ছিল রাজনীতির মাঠে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে আসা।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তার সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম কী কারণে মনোনয়ন পাননি বলে তিনি মনে করছেন?

“নারীর জন্যে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো তিনি একজন নারী,” আক্ষেপের সুর ছিল তার কণ্ঠে, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান নারীদের ক্ষমতায় নিয়ে আসতে। কিন্তু তার চারপাশে তো সবাই পুরুষ। রাজনীতি তো এই পুরুষতন্ত্রের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।”

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের মাত্র পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ নারী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোট থেকে ২০ জন এবং বিএনপির জোট থেকে ১৪ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

ছোটখাটো অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর নারী প্রার্থীর সংখ্যাও এর চেয়ে খুব একটা বেশি নয়। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল কমবেশি এরকমই।

যুবলীগের নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিনের মতো বেশিরভাগ রাজনীতিকেরই হাতেখড়ি হয় ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে। যেসব ছাত্র সংগঠন দিয়ে তাদের কেরিয়ারের সূচনা হয় সেখানেও প্রচুর নারী সদস্য থাকা সত্ত্বেও তাদের নেতৃত্বে উঠে আসা বিরল ঘটনা।

তাদেরই একজন শিরীন আখতার। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। বর্তমানে জাতীয় সংসদের একজন এমপি এবং জাসদের সাধারণ সম্পাদক। তার গল্পটা ব্যতিক্রম। তিনিও বলছিলেন, পুরুষতান্ত্রিকতার বাধা ডিঙ্গিয়ে তাকে এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে।

আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন শিরীন আখতার। তিনি বলেন, প্রথমবার তিনি যখন সাধারণ সম্পাদক হতে চেয়েছিলেন তখনও নারী নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

“আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে নারী নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসা হবে। কিন্তু কাউন্সিলে গিয়ে দেখলাম সবাই একেবারে উল্টো কথাটা বলছে। আগের দিন তারা যা বলেছিল সেরকম বলছে না। তার পরের বছর যখন সভাপতি হতে চাইলাম তখনও সারা দেশ থেকে আসা কর্মীরা সেই একই প্রশ্ন তুললো- ছাত্রলীগের মতো একটি সংগঠনকে কিভাবে একজন নারী পরিচালনা করবে!” বলেন তিনি।

শিরীন আখতার বলেন, সেসময়ে তার আশেপাশে আরো যেসব নারী ছিলেন তারাও কোন এক সময়ে রাজনীতি থেকে ঝড়ে পড়েছে। “তখন মাত্র এক ঘণ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের দুটো হল থেকে পাঁচশোর মতো মেয়ে মিছিলে চলে আসতো। কিন্তু তাদের কাউকে আমি এখন আর রাজনীতিতে দেখতে পাই না।”

বিএনপির কমিটিতে রয়েছেন অনেক নারী রাজনীতিবিদ।

ছাত্র রাজনীতিতে যেমন বহু নারী সক্রিয় থাকেন, তেমনি ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সংরক্ষিত ও সরাসরি ভোটে অনেক নারীকে অংশ নিতে দেখা যায়। কিন্তু এর পরে জাতীয় নির্বাচনে এই নারীদেরকেই আর চোখে পড়ে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক, সমাজ বিজ্ঞানী ড. সানজিদা আখতার বলছেন, বৃহত্তর পর্যায়ে নারীরা পুরুষদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না।

“নারীবান্ধব তো কতো কিছু হচ্ছে। এখন নারীবান্ধব রাজনীতির বিষয়টাও ভাববার বিষয়। যে পুরুষ চরিত্র দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হয়, তার মধ্যে নারীরা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে না,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর মাইন্ডসেট তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন ভোটের সময় আসে, নমিনেশন দেওয়ার বিষয় আসে, তখন যে রাজনৈতিক দলই হোক না কেন, তারা তাকেই নমিনেশন দেবে যার জিতে আসার সম্ভাবনা নিশ্চিত।”

যুব মহিলা লীগের নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিনও বলেছেন একই কথা। তার মতে, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন স্থানে নারীদের বসিয়েছেন। একজন নারীকে তিনি সংসদের স্পিকারও বানিয়েছেন। কিন্তু তার চারপাশে সবাই পুরুষ। একটা জায়গায় গিয়ে তারা নারীর ক্ষমতায়ন মেনে নিতে পারেন না, প্রধানমন্ত্রী একা চাইলে হবে না। চারপাশে এখনও পুরুষদের শাসন।”

সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

স্ট্রাসবার্গ বন্দুক হামলার পর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।সন্দেহভাজনকে হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফরাসি পুলিশ কর্তৃপক্ষ। উগ্রবাদী তৎপরতার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা করছে তারা। সীমান্ত ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর স্ট্রাসবার্গে নিরাপত্তা জারির পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন,  তল্লাশি অভিযানে অংশ নিয়েছেন ৩৫০ জন পুলিশ।  তবে উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী এরইমধ্যে দেশ ছেড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

.

 স্ট্রাসবার্গের বিখ্যাত ক্রিসমাস মার্কেটের কাছে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রাণ হারান তিনজন। আহত হন আরও অন্তত ১৩ জন।২৯ বছর বয়সী ওই বন্দুকধারীকে উগ্রবাদী বিবেচনা করছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, আহত অবস্থায় পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। ফ্রান্সের কাউন্টার টেরোরিজম থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী পেটার ফ্রিৎজ বিবিসিকে বলেছেন, তিনি বন্দুকের গুলির শব্দ শুনেছেন আর গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে সেতুর ওপর পড়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি ওই ব্যক্তির জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করলেও তার আগেই লোকটি মারা যায়।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফ কাস্টনার বলেন, তারা জরুরি হামলা সতর্ক জারি করেছেন। এতে করে পুলিশ তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহারের এখতিয়ার পাবে। এছাড়া সীমান্তে নিরাপত্তাও জরুরি করা হয়েছে।

বড়দিন উপলক্ষ্যে সব বাজারেও নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। স্ট্রাসবার্গের মেয়র রোল্যান্ড রাইস বলেন, বুধবার বড়দিনের বাজার বন্ধ থাকবে এবং স্থানীয় টাউনহলে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

এর আগে ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিস শহরে বাস্তিল দিবস উদযাপন সমবেতদের ওপর ট্রাক চালিয়ে দেওয়া হলে ৮০ জনেরও বেশি নিগত হয়। এছাড়া ২০১৫ সালে প্যারিসে কয়েকটি সংঘবদ্ধ হামলায় নিহত গয় ১৩০ জন। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এসব হামলার দায় স্বীকার করে।

তিনি কিছুই করতে পারছেন না

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা অসহায় ও বিব্রত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি তিনি (সিইসি) অসহায় ও বিব্রতবোধ করছেন। কারণ, তিনি কিছুই করতে পারছেন না। তবু আশা রাখি তিনি যদি সঠিকভাবে পদক্ষেপ নেন তাহলে আমরা এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে প্রমাণ করতে পারবো। ’
বুধবার (১২ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
.

সিইসি’র কাছে বিএনপির অভিযোগের চিঠিসেলিমা রহমান বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই আমাদের মহাসচিবের গাড়ি বহরে আক্রমণ করা হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদের প্রচারণায় বারবার হামলা করা হচ্ছে। মঈন খানের এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী ও যুবলীগ মিলে এই হামলা করছে। যারা জামিনে আছেন তাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। আবার যারা গ্রেফতার হচ্ছেন তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আজ সকালে ভাটারা থানার একজন কর্মীকে পুলিশ ধাওয়া করে ছাদের ওপর থেকে ফেলে দিলে তার মৃত্যু হয়। এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। নাটোরে জামিনে থাকা সত্ত্বেও বিএনপি নেতা দুলুকে আটক করা হয়েছে।’
সেলিমা রহমান বলেন, ‘সরকার চাইছে আমরা যেন নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে না পারি, নির্বাচন যেন না করতে পারি। তারা যেন একতরফাভাবে নির্বাচন করতে পারে। সে কারণে এখন ভয়ভীতি, হামলা, মামলাসহ বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করছে। এবং প্রার্থীদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করা হচ্ছে। এই ঘটনাগুলো জানাতে আজ আমরা এসেছি। কারণ, তিনি বলেছিলেন আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেবো। সবাই সমান সুযোগ পাবে।’.”সিইসি’র কাছে বিএনপির অভিযোগের চিঠি
সেলিমা রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা এখন পলাতক। আমরা বলতে পারছি না কোনও কোনও জায়গায় নির্বাচনের জন্য এজেন্ট খুঁজে পাবো কিনা। কারণ, পুলিশের ভয়ে অনেকে পলাতক রয়েছেন। এই বিষয়গুলো আমরা কমিশনকে জানালাম।’

সিইসি বিব্রত দাবি করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিইসি জানিয়েছেন তিনি চেষ্টা করছেন। কিন্তু পুলিশ তাদের বলছে, আগে থেকে যাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে. তাদের আমরা ধরছি। পুলিশ বলছে তাদের নামে সুনির্দিষ্ট কেস আছে। সিইসি বলছেন, সেই সুনির্দিষ্ট কেস কী সেটা তিনি কী করে জানবেন। তিনি চেষ্টা করছেন, চেষ্টা করবেন।’

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্বাচন কেন্দ্রে যেকোনও ধরনের হামলা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।’

বুধবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে ব্যবসায়ী পেশাজীবীদের সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন৷

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে  আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সমর্থনে ‘কাওরান বাজার ব্যবসায়ী- পেশাজীবী- জনতা’ এই সমাবেশের আয়োজন করে।

নির্বাচন কেন্দ্রে বড় ধরনের কোনও নাশতকা বা হামলার আশঙ্কা আছে কিনা, জানতে চাইলে স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। তাদের কাছে কোনও চ্যালেঞ্জই চ্যালেঞ্জ নয়। অতীতেও তারা জঙ্গি-সন্ত্রাস খুব দক্ষতার সঙ্গে নির্মূল করেছেন। তারা যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।’

নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় দেশব্যাপী হামলা হচ্ছে, এতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার পদক্ষেপ কী, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হত্যার রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না। যারা হত্যার রাজনীতি করে তারা অতীতেও (২০১৪ সালে) জ্বালাও-পোড়াও করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। তারাই  আজ  এসব হামলা চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ। তারা যেকোনও হামলা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। এসব হামলার ঘটনায় যারাই দায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। আর জনগণই সন্ত্রাসীদের রুখে দেবে। ক্ষমতা বদল হয় জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে। আমরা ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছি। আগে দেশে কী ছিল, আর এখন কী আছে— সেটি আপনারাই ভালো জানেন, ভালো বলতে পারবেন।’

কাওরান বাজার একসময় ছিল সন্ত্রাসের দখলে, হত্যা ও চাঁদাবাজিও ছিল। গত ১০ বছরে আমরা এটি নির্মূল করেছি। অনেক সন্ত্রাসীকে আমরা আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করেছি। আর কিছু কিছু সন্ত্রাসী ভয়ে দেশ ছেড়ে বিদেশ পালিয়ে গেছে। এখন কাওরান বাজারে কোনও সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নেই।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ব্যবসায়ীরা যারা আছেন, তাদের উপযুক্ত জায়গাতে স্থানান্তর করা হবে। এর আগে কেউ এখান থেকে যাবেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও যদি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হতে পারি, তবে যথাযোগ্যভাবে কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীদের স্থানান্তর করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও  বলেন, ‘আমরা একটা আলোকিত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছি, এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। এর জন্য দেশের জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করার জন্য আহ্বান জানাই।’

আমরা বিব্রত হয়েছি

নির্বাচন প্রচার কাজ শুরুর দ্বিতীয় দিনে দু’জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং বিএনপি মহাসচিবের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় বিব্রত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, এ দুই ঘটনায় আমরা বিব্রত হয়েছি।

নির্বাচন ভবনে বিচারিক হাকিমদের ব্রিফিংয়ে বুধবার (১২ ডিসেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন।

নূরুল হুদা বলেন, গতকালকে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলেছিলাম যে, সারাদেশে নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো অঘটন ঘটেনি। কিন্তু গতকালকেই দু’টো ঘটনা ঘটেছে। যেটা আমাদের বিব্রত করেছে, মর্মাহত করেছে। নিহত হওয়ার ঘটনায় আমাদের অত্যন্ত বিব্রত করেছে, ব্যথা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিবের গাড়িতে হামলা হয়েছে। যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আমরা কিন্তু বিব্রত। এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। একটা মানুষের জীবন সমস্ত নির্বাচনের চেয়ে মূল্যবান। সারাদেশে যে ৩০০টি আসনে নির্বাচন হবে। সেটার যে মূল্য, আমরা মনে করি একটা মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে বেশি। সহিংসতার কারণে সেই জীবন চলে গেলো এটা কারো কাম্য হতে পারে না। এ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে  হবে।

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা, কর্মী, প্রার্থী, ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষি, সবার প্রতি অনুরোধ করতে চাই- আপনারা ধৈর্যশীল আচরণ করবেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন, কারো নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না, একে অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকার, মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবেন। যেকোনো উত্তেজনাকর, উদ্বেগজনক নির্বাচন পরিপন্থি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম পরিহার করবেন এবং নিজেরাই তার প্রতিহত করবেন।

এসময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল  ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

১০ ডিসেম্বর প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা প্রচার কাজে নামেন। সিইসি ১১ ডিসেম্বর বলেন, নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে কিন্তু সেটা যেন উত্তপ্ত না করে। এদিন বিকেলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রার্থী সমর্থকদের সহিংসতার পথ পরিহার করার আহ্বান জানান।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Play
Play
previous arrow
next arrow
Slider

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এই ধারার কারণে বহু সাংবাদিককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। অনেককে কারাগারেও যেতে...

 প্রখ্যাত লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। রোববার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়...

previous arrow
next arrow
ArrowArrow
Slider

  ফারা মাহমুদা চৌধুরী (শিল্পী) মানবদরদী ও মানবহিতৈষি ব্যক্তিত্ব হিসেবে অতিথিদের হাত থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করছেন।   ইমদাদুল হক তৈয়বঃ ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই নৈতিকতাবোধ থেকেই বুকে নীতি আদর্শ...

Archives

Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Nov0 Posts
L0go

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি