সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
সর্বশেষ সংবাদ
  • রাত ১:৪৭ | ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং , ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Monthly Archive :২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্রমিকবাহী বাস খাদে : ২৮ জন আহত

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: অর্ধশতাধিক শ্রমিকবাহী ‘সোনার বাংলা পরিবহন’র বাস। রংপুর থেকে যাচ্ছিলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। কুমিল্লা- সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন। তাদর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

গতকাল শুক্রবার (১৪.০৬) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উড়শিউড়া এলাকায় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তিসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

আহতদের সকলেই নির্মাণ শ্রমিক। তারা রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি উপজেলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে নুরুল ইসলাম (৩০), মাসুদ অালম (২৫), মাহমুদুল হক (২৫), মমিনুল ইসলাম (২৫), সাইদুল ইসলাম (২৬), রাসেল মিয়া (১৮), সাদ্দাম হোসেন (২৫), রফিকুল ইসলাম (৬৫), জয়নাল আবেদিন (৩৬), বিল্লাল হুসেন (১৮), আব্দুল আজিজ (৪৪), ইউসুফ আলী (১৬), সাজিদুল ইসলাম (২০), আল মামুন (১৭), আরিফুল হক (১৬), রিয়াদ আহমেদ (১৫), নাইম উদ্দিন (১৭), ইমাম আলি (১৮), রাজু মিয়া (২০), দেলোয়ার হোসেন (৫০), সামিউল হক (২১), ইমন মিয়া (৩২), রফিকুল ইসলাম (৪৫) প্রমুখের নাম জানা গেছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করাসহ বাকিদের দেয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা। অপরদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মমিনুল হক ও রাসেল মিয়া নামের দুইজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নির্মাণ শ্রমিকদের সুপারভাইজার শরীফ মিয়া জানান, ১৩ জুন বৃহস্পতিবার রংপুর থেকে ৫৬ জন শ্রমিক নিয়ে ‘সোনার বাংলা পরিবহন’র একটি বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে শুক্রবার সকালে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ২৮ জন শ্রমিক আহত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা  ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মমিনুল হক ও রাসেল মিয়া নামের দু’জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়

প্রশাসনের সহযোগিতায় ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সুপার মার্কেট

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সুপার মার্কেট’। জেলার ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র পুরাতন কোর্ট রোডে অবস্থিত বহু বছরের পুরোনো-ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটিকে অবশেষে প্রশাসনের সহযোগিতাতেই ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে।

একতলা বিশিষ্ট এই ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় কয়েক বছর আগেই। যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ধসে বড় ধরণের দুর্ঘটনার অাশঙ্কা ছিলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মার্কেটের জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক শপিং মল করার উদ্যোগ নিলেও ব্যবসায়ীদের বাধায় তা হয়ে ওঠেনি। শেষতক প্রশাসনিক সহযোগিতায় বহু পুরনো অার ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩.০৬) সকাল সাতটা থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের উপস্থিতিতে দু’টি বোল্ডডোজার দিয়ে মার্কেট ভাঙার কাজ শুরু করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকটা সেকেলে মডেলের এই পৌর সুপার মার্কেট ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ছয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক শপিং মল করার উদ্যোগ নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। মার্কেটটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১২০টি দোকানের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য একাধিকবার সময় নিলেও দোকান না সরিয়ে পৌরসভার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যান। তবে মামলা-মোকদ্দমায় ব্যবসায়ীরাই হন পরাজিত। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর হস্তক্ষেপে ব্যবসায়ীরা গেল ঈদুল ফিতর পর্যন্ত সময় চেয়ে নেন। গত বুধবার সেই সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মার্কেট ভাঙার কাজ শুরু করেন পৌর কর্তৃপক্ষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও সুপার মার্কেট ভাঙা কমিটির আহ্বায়ক ফেরদৌস মিয়া সাংবাদিকদের জানান, ‘হাইকোর্ট নয় মাস আগে মার্কেটটি খালি করার রায় দিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীরা এম.পি’র সাথে কথা বলে ঈদের সাতদিন পর চলে যাবে বলে সময় নিয়েছিলেন। এই মর্মে আমাদের সাথে চুক্তিও হয়েছে। অার সেই চুক্তি মোতাবেকই আমরা মার্কেট ভাঙার কাজ শুরু করেছি।’

মার্কেট ভাঙ্গার কাজ শুরুর সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজা পারভীন,পৌরসভার সচিব আবুজর গিফারী, সদর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আতিকুর রহমান, ১নং ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. নুরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন

ভারতীয় এসকফসহ মাদক ব্যবসায়ী সুমন গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় এসকফ জাতয় মাদকসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আমিনুল হক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানা পুলিশ। গতকাল (১৫.০৬) রোববার জেলা শহরের মধ্যপাড়াস্থ ভাড়াটিয়া বাসা থেকে গ্রেপ্তারকালে উদ্ধার করা হয় ৮২ বোতল এসকফ মাদক।

পুলিশ জানায়, শহরের উত্তর শেরপুর মহল্লার বাসিন্দা অাবদুর রহিমের পুত্র আমিনুল হক সুমন (৪৫) দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপাড়ার জুবিলী রোডের মো. আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ৭৯৫(১) নং বাসার নিচতলায় ভাড়াটে হিসেবে অবস্থান করতো। এখানে থেকেই মাদক ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে আসছিলো। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশেষ অভিযান চালায়। এসময় মধ্যপাড়া জুবলী রোডের ৭৯৫(১) নং বাসার নিচতলার দক্ষিণ পাশের কক্ষ থেকে ৮২ বোতল ভারতীয় এসকফ জাতীয় মাদকসহ মাদক কারবারি আমিনুল হক সুমনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আমিনুল হক সুমনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রজুর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

বিষাক্ত শরবত খাইয়ে স্কুলছাত্রকে হত্যা মামলার ছয় আসামী জেলহাজতে

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিষাক্ত শরবত খাইয়ে স্কুলছাত্র জয়কে (১২) হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ ছয় আসামীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলমের আদালতে আসামিরা হাজির হলে বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ পোদান করেন।

আসামীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরতলী ঘাটুরা গ্রামের মৃত বজলু মিয়ার পুত্র মো. কুতুবুর রহমান, তার দুই ভাই গাউছুর রহমান ও অলিউর রহমান, জুরু হাজারীর পুত্র রিয়াদ, অলিউর রহমানের পুত্র মুন্না এবং আজিজ খন্দকারের পুত্র রুবেল। অপরদিকে নিহত স্কুলছাত্র জয় জেলা শহরের মেড্ডা মহল্লার শাহীন কবীরের পুত্র এবং বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। সে তার মায়ের সাথে শহরতলীর সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুয়ায় বসবাস করতো।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মেড্ডা মহল্লার শাহীন কবীরের দ্বিতীয় তার সন্তানদের নিয়ে শহরতলীরর ঘাটুরায় বসবাস করতেন। স্কুলছাত্র জয় প্রায়শই ঘাটুরার মিলন বাজারের কুতুবউদ্দিনের মুদিমালের দোকানে যাতায়াত করতো। ঘটনার কিছুদিন আগে জয়কে চোর বলে অপবাদ দেয়া হলে এ নিয়ে তর্কবির্তক হয়। এর জেরে গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে জয়কে বাড়ি থেকে ডেকে কুতুবুর রহমানের দোকানে নিয়ে গিয়ে শরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে পান করিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। অসুস্থ অবস্থায় জয়কে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জয়ের বড়ভাই ছানাউল্লাহ রনি বাদী হয়ে কুতুবুর রহমানকে প্রধানসহ সাতজনকে আসামি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হবার পর পুলিশ এজহারনামীয় ৪নং আসামী ঘাটুরার মৃত বজলু মিয়ার পুত্র ওসমান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। মামলার অপর ছয় আসামী উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিলে তাদেরকে নিম্ন অদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়া হয়। সে মোতাবেক ছয় অাসামী আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়।

মামলার বাদীপক্ষে নিযুক্তিয় অাইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোরজান মিয়া বলেন,’মঙ্গলবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির ছয় আসামি অাদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে ছয়জনকেই জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাচনে এলডিপি টেকাতে আ.লীগ প্রার্থীরা একাট্টা

মো: কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ সংবাদদাতা : আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চন্দনাইশ আ.লীগের সম্ভাব্য ৯ মনোনয়ন প্রত্যাশী একাট্টা হয়েছেন। তারা জানান, আ.লীগ নেতাদের মধ্য থেকে যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হবে তার পক্ষে সবাই কাজ করার জন্য একাট্টা হয়েছেন। তবে হাইব্রিড বা অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আসা সুবিধাবাদীদের মনোনয়ন না দেয়ার দাবী জানান।

বর্তমানে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী গত ২৭ জানুয়ারি প্রতিটি উপজেলা থেকে বর্ধিত সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ৩ জন প্রার্থীর তালিকা, সম্ভব হলে ১ জন করে প্রার্থীর তালিকা জেলা কমিটিতে প্রেরণের কথা ছিল। কিন্তু চন্দনাইশ উপজেলা আ.লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার কারণে বর্ধিত সভা আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। ফলে দ্বিতীয় অপশন অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জেলা কমিটি বরাবরে আবেদন করেন। চন্দনাইশে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আবেদন করেন।

১০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে এলডিপি থেকে বহিস্কৃত, পরবর্তীতে আ.লীগে যোগদানকারী, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী ছাড়া অপর ৯ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী একাট্টা হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সাথে দেখা করেন। এ সময় তারা একাট্টা হয়ে ৯ জন আ.লীগের মধ্যে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কিন্তু কোনভাবে যেন দলীয় নেতার বাইরে তথা অন্য দল থেকে যোগদানকারী কাউকে মনোনয়ন যেন দেয়া না হয়, সে দাবীই জানান। এব্যাপারে তারা দলের সভাপতি, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনের সময় সবাই কাজ করেছেন, তাই তিনি এককভাবে কারে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে এব্যাপারে কোন রকম মন্তব্য না করার নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আ.লীগের ৯ জন প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি, বরকল ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাসেম-মাহবুব উ”চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাশেম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, চন্দনাইশ উপজেলা, গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি, দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সাবেক সদস্য একেএম নাজিম উদ্দিন, উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু হেনা ফারুকী, উপজেলা আ.লীগের অর্থ সম্পাদক এসএম নুরুল হক, আইন বিষয়ক সম্পাদক, এডিশনাল জিপি এড. শিহাব উদ্দিন রতন, সাবেক কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা এম নাজিম উদ্দিন, গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন ভিপি শেখ টিপু চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মীর মো. মহি উদ্দিন।

উপজেলা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেছেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে ঢাকা এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাই তিনি এ সকল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালে যারা আ.লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যুবলীগ নেতা রমিজ হত্যা মামলার আসামী, আ.লীগ সরকারকে উৎখাতের লক্ষে নগরীর এলডিপি অফিসের বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার আসামী আবদুল জব্বার চৌধুরীকে যেন কোনভাবে মনোনয়ন দেয়া না হয়। এব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবী জানান। একইভাবে তিনি ওমরা হজ্ব পালনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনিও ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিছু লোক আ.লীগ নেতা-কর্মীদের মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে ১জন হাইব্রিড নেতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন এবং অর্থ-কড়ির লোভও দেখাচ্ছেন। যা কোনভাবে কাম্য নয়। এ ধরণের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান। এসকল বিভ্রান্তিমূলক কারণে আ.লীগ পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী বলেছেন, দলীয় পদ-পদবী থাকতে হবে এমন কোন নির্দেশনা কেন্দ্রের দেয়া চিঠিতে উল্লেখ নেই। এসব মানুষের মুখের কথা। তিনি আ.লীগের একজন হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আবেদন করেছেন।

কপি: সিটি নিউজ বিডি

বিয়ের আগে বাধ্যতামূলকভাবে রক্ত পরীক্ষা নিয়ে নীতিমালা হচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি:  আগে বিয়ের আগে বাধ্যতামূলকভাবে রক্ত পরীক্ষা করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের দেশসমূহে থ্যালাসেমিয়া নির্মূল হয়েছে। বিয়ের পূর্বে রক্ত পরীক্ষার ম্যাধ্যমে তারা সফলতা পেয়েছে। আমাদের দেশেও বিয়ের পূর্বে বাধ্যতামূলকভাবে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।’

বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশে থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশের থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া রোগীদের কল্যাণে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে কাজ করছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে আগামী বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখার চেষ্টা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া একটি ভয়াবহ রোগ। দেশের প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ এ রোগের বাহক। থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় আক্রান্ত রোগীরা অর্থের অভাবে ঠিকমত চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারে না।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। আর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় সাত হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

নিশ্চিত দুর্ঘটনার মুখ থেকে মাকে বাঁচিয়েছে বেলেঘাটা ট্রাফিক পুলিশ

ইন্দ্রানী সেনগুপ্ত, কলকাতা প্রতিনিধি: ৫ই জুন, সন্ধে। ঘড়ির কাঁটা তখন ৮.৩০ ছুঁইছুঁই। সেই সময় কলকাতা বেহালার বাইপাসের চিংড়িঘাটা ক্রসিং-এ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট অমরনাথ দাশ এবং সার্জেন্ট সন্তু পাল। হঠাৎই তাঁদের চোখে পড়ে, সিগনাল না দেখেই একজন বৃদ্ধা রাস্তা পারাপার করতে যাচ্ছেন আর উল্টোদিক থেকে একটি ট্রাক ধেয়ে আসছে তাঁরই দিকে। দ্রুত দৌড়ে গিয়ে সেই বৃদ্ধা মহিলাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে আনেন সার্জেন্ট অমরনাথ দাশ ও সন্তু পাল। সামান্য দেরি হলেই বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

ঘটনার অভিঘাতে হতচকিত হয়ে গেছিলেন সেই বৃদ্ধা মহিলাটি। প্রথমে তাঁকে ধাতস্থ করেন দুই সার্জেন্ট। তারপর পরিচয় জিজ্ঞেস করলে সেই বৃদ্ধা জানান, তাঁর নাম সুধারানী কর্মকার। বাড়ি বেহালা। কিন্তু কিছুতেই নিজের বাড়ির ঠিকানা মনে করতে পারছিলেন না তিনি। সুধারানী দেবী জানান, সেদিন সকালে ছেলের সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি রাগ করে বেরিয়ে এসেছিলেন বাড়ি থেকে। তারপর খুঁজে খুঁজে চলে এসেছিলেন সল্টলেকে এক আত্মীয়র বাড়ি। সন্ধেবেলা বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ করেই তিনি বাড়ির ঠিকানা ভুলে যান। তারপর উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরছিলেন চিংড়িঘাটা ক্রসিং-এ। সার্জেন্টদের অনেক কষ্টে ছেলের নাম আর কর্মস্থল বলতে পেরেছিলেন সুধারানী দেবী। জানিয়েছিলেন, তাঁর ছেলে দিলীপ কর্মকার বেহালা বাজারে একটি দোকানে কাজ করেন।

সমস্ত তথ্য জানার পর সার্জেন্ট অমরনাথ দাশ এবং সন্তু পাল দ্রুত খবর পাঠান বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডে। ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি ইনস্পেক্টর পল্লব হালদার এবং অ্যাডিশনাল ওসি ইনস্পেক্টর ঋত্বিক মুখার্জী। বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি যোগাযোগ করেন ডায়মন্ড হারবার ট্রাফিক গার্ডের ওসি ইনস্পেক্টর আশীষ রায়ের সাথে। সুধারানী কর্মকারের ছেলে যে দোকানে কাজ করেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই দোকানটিকে চিহ্নিত করেন ডায়মন্ড হারবার ট্রাফিক গার্ডের ওসি। অবিলম্বে যোগাযোগও করেন দিলীপ কর্মকারের সঙ্গে।

ইতিমধ্যেই, বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি সুধারানী দেবীকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দেন ডায়মন্ড হারবার ট্রাফিক গার্ডের উদ্দেশ্যে। সেখানেই অপেক্ষা করছিলেন তাঁর ছেলে দিলীপ কর্মকার। মা-কে ফিরে পেয়ে তখন দুশ্চিন্তার মেঘ কেটে গেছে তাঁর মুখ থেকে। ছেলেকে দেখে সকালের রাগ ভুলে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল সুধারানী দেবীর মুখও। দুর্ঘটনার মুখ থেকে বাঁচিয়ে মাত্র ২ ঘন্টার মধ্যেই ছেলের কাছে সুধারানী দেবীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের অফিসাররা। সাথেই ধন্যবাদ প্রাপ্য ডায়মন্ড হারবার ট্রাফিক গার্ডের ওসিরও।

ছবি ও তথ্যসূত্র : সোস্যাল মিডিয়া।

টানা ছ’দিন পর সচল আখাউড়া স্থলবন্দর

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: টানা ছ’দিন পর সচল হলো আখাউড়া স্থলবন্দর। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বন্ধ থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। গতকাল সোমবার (১০ জুন) সকাল থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্য রপ্তানি শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে গত ৪ জুন মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে ৯ জুন রোববার পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আখাউড়া- আগরতলা আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ- ভারতের বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার ছিলো স্বাভাবিক।

আখাউড়া আমাদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটি শেষে সোমবার থেকে পুনরায় স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে।

প্রকাশ, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত সাতটি প্রদেশে মাছ, পাথরসহ নানাবিধ পণ্য রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ‘খ্রীস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে’ ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি পারভীন বেগমের (২৮) মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা নিশ্চিত করেছেন।

জেলার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হুমায়ূন কবিরকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন- জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. ফৌজিয়া আখতার এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. এষণা পাল। তদন্ত কমিটিকে প্রসূতি পারভীন বরগমের মৃত্যুর অভিযোগসহ অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতালের সামগ্রিক বিষয়াসয় তদন্ত করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন শনিবার বিকেলে জেলা শহরের মুন্সেফপাড়াস্থ খ্রীস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক ডা. ডিউক চৌধুরীর ভুল চিকিৎসায় পারভীন বেগম মারা যান বলে তার স্বজনেরা অভিযোগ করেন। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিহত গৃহবধূ পারভীন বেগম জেলার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের বড়াইল গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।

গুরুদাসপুরে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসুচীর নামে পুকুর চুরি


নিজস্ব প্রতিনিধি: গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের অর্ন্তগত ২০১৮/’১৯ অর্থ বছরের ২য় পর্যায়ের অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসুচীর চলমান কাজে নিয়োজিত কম শ্রমিকদের বেশি দেখিয়ে ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিদের বিরুদ্ধে। গত ২৭ মে রবিবার সরেজমিনে গেলে তার সত্যতা পাওয়া যায়। জানা গেছে খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের কালা কান্দর, পিপলা ও বিলশায় তিনটি প্রকল্প চলমান। তিনটি প্রকল্পে ১৬৭ জন শ্রমিকের কাজে ৭৩ জন কম নিয়োগ করে তাদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিদের বিরুদ্ধে। গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসসুত্রে জানাগেছে, ২০১৮/’১৯ অর্থ বছরে সরকার অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১ কোটি ২১ লক্ষ ২৮ হাজার টার বিনিময়ে ২১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। যে কাজে ১ হাজার ৫১৬ জন শ্রমিক প্রতিদিন ২০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবেন।
গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা মেইন রাস্তা রশিদের বাড়ি থেকে আতার হাজীর বাড়ি অভিমুখের রাস্তা সংস্কার কাজের প্রকল্প সভাপতি মহিলা ইউপি সদস্য মোছা মুক্তা সরকার। ১২টা ১৮ মিনিটে ওই প্রকল্পে সরেজমিনে গেলে ৫৫জনের স্থলে শ্রমিক হাজিরা খাতায় ২০ জনের উপস্থিতি থাকলেও দেখা মেলে ১৩ জন শ্রমিকের। ওই প্রকল্পে ২০জনের উপস্থিতি ধরা হলেও ৩৫ জন শ্রমিক কম থাকার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ তিনি প্রতিদিন গড়ে ৩৫ জন অনুপস্থিত শ্রমিককে উপস্থিত দেখিয়ে সরকারী ৭ হাজার টাকা আত্মসাত করছেন। প্রকল্প সভাপতি মহিলা ইউপি সদস্য মোছা মুক্তা সরকার জানালেন,গরম আবহাওয়ার কারনে শ্রমিকরা অন্যখানে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তবে তার বক্তব্যের কোন সত্যতা মেলেনি।
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে খুবজীপুর ইউনিয়নের কালাকান্দর মেইন রাস্তা ওহাবের জমি থেকে ইমানের জমি অভিমুখে রাস্তা সংস্কার কাজ পরিদর্শনে গেলে সাইনবোর্ড,কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার কিংবা প্রকল্প সভাপতির দেখা মেলেনি। প্রকল্পে ১৯ জন পুরুষ ও ৩৬ জন মহিলা মোট ৫৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও প্রথমে ২১ জনকে( ৬ জন পুরুষ ও ১৫ জন মহিলাকে) কাজের সাইডে দেখা যায়। ওই প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ বাবুল আক্তারের সাথে মুঠোফোনে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দ্রুত প্রকল্পস্থলে এসে আশপাশ থেকে কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্রমিক জড়ো করে ওই প্রকল্পের শ্রমিক বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। সেটাও সর্বসাকুল্যে মহিলা ২৮ ও পুরুষ ৯ জন মিলিয়ে ৩৭ জন। সে হিসাবেও তার প্রকল্পে ১৮ জন শ্রমিক কম থাকার অভিযোগ প্রমানিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ তিনি প্রতিদিন গড়ে ১৮ জন অনুপস্থিত শ্রমিককে উপস্থিত দেখিয়ে সরকারী ৩ হাজার ৬০০টাকা আত্মসাত করছেন।
একই ইউনিয়নের পিপলা নদী হতে সামাদ মেম্বারের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ। ১১ টা ৪০ মিনিটে সরেজমিনে গেলে সেখানেও কম শ্রমিক নিয়োজিত থাকার সত্যতা মেলে। ওই প্রকল্পেও দেখা মেলেনি কোন সাইন বোর্ড,সুপারভাইজার কিংবা প্রকল্প সভাপতির। প্রকল্পে ৫৭ জন শ্রমিকের স্থলে মহিলা ২৭ পুরুষ ১০ মোট ৩৭ জন শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা যায়। সেখানে ২০জন শ্রমিক কম থাকার অভিযোগের সত্যতা মেলে। প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ কিছু শ্রমিক কম থাকার বিষয় স্বীকার করে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।
তিনটি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক জনসাধারন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন,কম শ্রমিককে বেশি দেখিয়ে প্রকল্প সভাপতি অর্থাৎ ইউপি সদস্যগন অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারী বরাদ্দের টাকা নিজের পকেটে ভরছেন। পুকুর চুরি নয় এটা একধরনের ডাকাতি। খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম তার ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসুচীর চলমান কাজে নিয়োজিত কম শ্রমিকদের নিয়োজিত থাকার বিষয়টি অস্বিকার করে বলেন, নিয়মনীতি অনুসরন করেই কাজ চলছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান জানান,জনবল সংকটের কারনে সব প্রকল্পে প্রতিদিন যাওয়া সম্ভব হয়না। শ্রমিক কম কাজ করলে কম বিল হবে।অর্থাৎ যে কয়জন শ্রমিক কাজ করবে সে ক’জনেরই বিল পাবে প্রকল্প সভাপতি। । উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান জানান,উপজেলার প্রতিটি প্রকল্প,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নেতৃত্বে কাজ মনিটরিং হচ্ছে। আমি নিজেও বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। যেদিন যে ক’জন শ্রমিক কাজে নিয়োজিত থাকবে সে ক’জনই পারিশ্রমিক পাবেন। বেশি নেয়ার সুযোগ নেই।

Play
Play
previous arrow
next arrow
Slider

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এই ধারার কারণে বহু সাংবাদিককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। অনেককে কারাগারেও যেতে...

 প্রখ্যাত লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। রোববার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়...

previous arrow
next arrow
ArrowArrow
Slider

  ফারা মাহমুদা চৌধুরী (শিল্পী) মানবদরদী ও মানবহিতৈষি ব্যক্তিত্ব হিসেবে অতিথিদের হাত থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করছেন।   ইমদাদুল হক তৈয়বঃ ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই নৈতিকতাবোধ থেকেই বুকে নীতি আদর্শ...

Archives

Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Nov0 Posts
L0go

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি