সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন: ০১৭১১৫৭৬৬০৩

Monthly Archive :জানুয়ারি ২০১৯

পর্দা করার পরও ধর্ষণের শিকার হচ্ছি তাহলে পর্দার কি দরকার

আল্লাহ কুরআনে আগে পুরুষদের বলেছেন— ”মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।’ Al-Quran (An-Noor No24 Verse No: 30) তারপরের আয়াতেই আল্লাহ নারীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন—”আর মুমিন নারীদেরকে বল, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’

Al-Quran (An-Noor No24 Verse No: 31) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন — ”হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, তোমার কন্যাদেরকে আর মু’মিনদের নারীদেরকে বলে দাও- তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয় (যখন তারা বাড়ীর বাইরে যায়), এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে এবং তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

Al-Quran (Al-Ahzaab No33 Verse No: 59) আল্লাহ কুরআনে পুরুষ-নারী উভয়কেই দৃষ্টি সংযত করতে বলেছেন ৷ শুধু এক পক্ষকে বলেছেন আরেক পক্ষকে বলেন নি এমনটি নয় ৷ কিছু যুক্তি শুনি যে— একজন পুরুষের খারাপ দৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য কেন আমি নিজেকে আবৃত করব ? কেন আমি আমার সৌন্দর্য আবৃত করব? দোষ তো আমার নয়, দোষ তো সে পুরুষের যে আমার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকিয়েছে ৷ অতএব পর্দা বিরোধী আন্দোলনে নামতে হবে এবং প্রচার করতে হবে যে— ধর্ম বলছে পর্দা করলে উত্যক্ত করা হবে না, কিন্তু এরপরও উত্যক্ত করা হয় ৷ অতএব পর্দার বিধান অকার্যকর (প্রমাণিত)
যদি যুক্তি এমনটাই হয় তাহলে সন্ত্রাসীর ভয়ে নিরাপত্তাবাহিনী তৈরী করেছেন কেন??
কেন ঘর তৈরীর সময় দরজা দিয়েছেন??
দরজায় তালা দিয়েছেন??
কেন বারান্দায়, জানালায় লোহা দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরী করেছেন??
কেন মোবাইলে সিকিউরিটি সিস্টেম দিয়েছেন??
কেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সাধারণ মোবাইল ব্যবহার করতে পারে না, কেন তারা জন্য আলাদা সিকিউরিটি সিস্টেম সংবলিত মোবাইল তৈরী করা হয়??
কেন আপনি ব্যাংকে লকার তৈরী করেছেন?
কার ভয়ে??
কার ভয়ে আপনি এতো অর্থ খরচ করছেন??
নিজের স্বাধীনতা কে আবদ্ধ করছেন??
***উত্তর একটাই—
নিজেকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ৷ কারণ আপনার এতটুকু জ্ঞান আছে যে এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরী না করলে আপনার সম্পদ রক্ষা হবে না ৷ পর্দার বিধানটাও একই কারণে দেয়া হয়েছে ৷ কিন্তু এরপরও তো চুরি, ডাকাতির ঘটনা ঘটছে ৷ কই কখনো তো বলেন নি—এতো কিছু করলাম তারপরেও তো ক্ষতি হল অতএব এসবের পিছনে পরিশ্রম করে লাভ নেই, অর্থ ঢেলে লাভ নেই ৷ শুধু পর্দার ক্ষেত্রেই আপনারা এই যুক্তি দেন ৷ এবার একবার নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান ৷ আপনি কি প্রকৃতপক্ষেই পর্দা করেন?? নাকি আপনি চান শরীর ঢাকায় জন্য যে বস্ত্র ব্যবহার করছি সেটাকে আরও আকর্ষণীয় করতে? যাতে সবাই আমার দিকে তাকায়?? আপনাদের কে কি দেখা যায় না বিপনী বিতান বা রাস্তাঘাটে অযথা উচ্চস্বরে অট্টহাসি দিতে?? পারফিউম দিয়ে সুগন্ধি ছড়াতে?? কার জন্য করছেন এসব? কাকে আকৃষ্ট করতে?? হাতাকাটা জামা পরে ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে অযথা বারবার ওড়না শরীর ঢাকার চেষ্টা করে আপনি কোন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিচ্ছেন?? এসব করছেন কার জন্য?? ঐ ওড়নাটাই রিকশার চাকায় পেঁচিয়ে কেউ মারা যায়, কেউ আহত হয় ৷ তারপর বলবেন এটা ওড়না ব্যবহারের কুফল ৷ কোন দিন তো শুনলাম না, চাকায় বোরখা পেঁচিয়ে কেউ মারা গেছে?? আপনার এক ওড়নাই কি হিজাবের শর্ত পূরণে সক্ষম?? নাকি সেটা ফ্যাশনের একটা অংশ??
আপনার সৌন্দর্য আপনার স্বামীর জন্য ৷ সকল পুরুষকে (যাদের সাথে বিবাহ বৈধ) নিজের স্বামীর স্থানে বসাবেন না ৷
আর সব পুরুষ ধার্মিক নয় যে আপনাকে দেখে দৃষ্টিকে সংযত করবে ৷ সবাই ভাল হলে পৃথিবীতে কোন অন্যায় – অপরাধ থাকত না ৷

পরীমণির উত্তাপ

 আলোচনা যেন শেষই হচ্ছে না ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি কে নিয়ে। তার উপরে প্রেমিক তামিম হাসানকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার পর সে আলোচনা আরো তীব্র হয়েছে। প্রতিদিনই তাদের নতুন নতুন ছবি উত্তাপ ছড়াচ্ছে ফেসবুকে।

তারই ধারাবাহিকতায় ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার ভিন্নধর্মী কিছু ছবি পোস্ট করে বন্ধু ও অনুসারীদের তাক লাগিয়ে দেন ‘স্বপ্নজাল’ খ্যাত এ অভিনেত্রী। প্রথম ঝলকে ছবিগুলো দেখে মনে হতে পারে ইন্দোনেশিয়ার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মাটি থেকে বোধহয় আকাশে চলে গেছে।

কারণ চোখে ধাঁধা লাগানো ওই সব ছবিতে প্রেমিকের সঙ্গে ‘উল্টোভাবে’ থাকতে দেখা যায় পরীকে। অর্থাৎ তাদের পা বাসার ছাদে, আর মাথা মেঝেতে।

কিন্তু মূল ঘটনা হচ্ছে, ওই ছবিগুলো যেখানে তোলা হয়েছে সেই বাড়ির কক্ষের ইন্টেরিয়র ডিজাইনগুলো অনেকটা গোলক ধাঁধার মতো। ইন্দোনেশিয়ায় মতো পৃথিবীর অনেক দেশেই দর্শনার্থীদের জন্য এ ধরনের আপসাইড ডাউন হাউজ রয়েছে।

এ ধরনের বাড়িতে ঢোকার পর প্রথমেই মনে হবে পৃথিবী দুলছে! এমন বাড়ি দেখলে আনন্দের আত্মহারা হবেন যে কেউই।

এই ছবিগুলোই ফেসবুকে পোস্ট করার পর অনেকেই অবাক হয়েছে। কিন্তু সত্য ঘটনা হলো, ছবিগুলো পোস্ট করা হয়েছে উল্টিয়ে।

নতুন বছরের প্রথম মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রেমিক তামিম হাসানকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে উড়াল দিয়েছেন এ লাস্যময়ী অভিনেত্রী। সেখানে গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে তোলা অন্তরঙ্গ ও খুনসুটি করা বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন নিজেই।

কয়েকদিন আগে বালির সমুদ্র ও সুমিংপুলে তোলা কিছু আবেদনময়ী ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নজর কেড়েছেন পরী। আলোচনার পাশাপাশি সেসব ছবি সমালোচিতও হয়েছে।

সুন্দরী নায়িকা পরীমণির বাংলা সিনেমায় আবির্ভাব হয়েছিল একটু ভিন্ন ভাবেই। কোনো ছবির মুক্তির আগেই ২৩টি চলচ্চিত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের আর কোনো নায়িকার এ ধরনের রেকর্ড নেই।

এরপর একের পর এক প্রায় দেড় ডজন ছবি মুক্তি পায় তার। গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মুক্তি পায় পরীমণি অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘প্রীতি’।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি ইন্দোনেশিয়া থেকে বেশকিছু ছবিফেসবুকে আপলোড করেন পরীমণি। সেসব ছবিতে তাকে বেশ আবেদনময়ী ও খোলামেলা দেখা গেছে। অনেক ছবিতে বিকিনি পরেই পোজ দিয়েছেন পরী। ধারণা করা হচ্ছে সঙ্গে থাকা প্রেমিকই সেসব ছবি তুলেছেন।

এসব ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হতেই সমালোচনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। আরেফনি হুমাশ নামের একজন লিখেছেন, ‘যুবসমাজকে ধংশ করার জন্য এই নারীগুলোই যথেষ্ট! ভুলে যাবেন না একদিন মৃত্যুর মুখামুখি হতে হবে। এরকম বিশ্বকাপানো হাজারো সুন্দরী রমণীর হাড় পোকামাকড়, হিংস্র জিব জানোয়ার খাচ্ছে! এই রূপ লাবন্য আর নোংরামি বেশিদিন টিকবেনা। আপনার এই সময় আসবে।সময় থাকতে তাওবা করে ভাল হয়ে জান। নিজে ভাল না হলে অন্তত অন্যকে খারাপ বানাবেন না।

টাকা পাচারে ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, অর্থপাচার দেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের বিষয়টি সরকারের নজরদারিতে আছে। তবে অর্থপাচার ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, দুদকের মত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্ট্রিগ্রেটি-জিএফআই এর প্রতিবেদন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সোমবার ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি(জিএফআই) এর প্রতিবেদনে এ জানানো হয়, বিদেশে টাকা পাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে এখন বাংলাদেশ। এক নম্বরে আছে ভারত। কেবল ২০১৫ সালেই বাংলাদেশ থেকে চার প্রক্রিয়ায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। যা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার সমান। এ টাকার বেশিরভাগ বৈদেশিক বাণিজ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে পাচার করা হয়। একই পদ্ধতিতে একই বছর দেশে ঢুকেছে ২ শ’ ৩৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ।

বিদেশে টাকা পাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। জিএফআই’র মতে, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশই কোনো না কোনোভাবেই পাচার হচ্ছে।

জিএফআই’র প্রতিবেদনে ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৪৮টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থ পাচারের তথ্য উঠেছে। এ সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

২০১৫ সালে টাকা পাচারে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। ওই দেশ থেকে পাচার হয়েছে ৪ হাজার ২৯০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে ৩ হাজার ৩৭০ কোটি ছাড়াও ভিয়েতনাম থেকে ২ হাজার ২৫০ কোটি, থাইল্যান্ড ২ হাজার ৯০ কোটি, পানামা ১ হাজার ৮৩০ কোটি এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ১ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে।

বয়স ৩০ এর ওপরে হলে ভোটার ও প্রার্থীতা বাতিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের গঠনতন্ত্র সংশোধনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এতে যারা প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে অনার্স, মাস্টার্স, এমফিলে অধ্যয়নরত তারাই কেবল ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন। এক্ষেত্রে কারও বয়স ৩০ বছরের ওপরে হলে তারা ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন না।

এছাড়া সান্ধ্যকালীন বিভিন্ন কোর্স, প্রোগ্রাম, প্রফেশনাল এক্সিকিউটিভ, স্পেশাল মাস্টার্স, ডিপ্লোমা, এমএড, পিএইচডি, ডিবিএ, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স, সার্টিফিকেট কোর্স অথবা এ ধরনের কোর্সে অধ্যয়নরতরা ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। প্রত্যেক হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে কয়েকটি সম্পাদকীয় পোস্ট বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে এ ঘোষণা দেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান।

উল্লেখ্য, আগামী ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ বুধবার বিকেলে। এদিন বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। এদিন থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হবে। বিএনপি ও গণফোরামের আট সংসদ সদস্যকে বাইরে রেখেই এ অধিবেশন বসছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘৩০ জানুয়ারি থেকে একাদশ সংসদের মেয়াদ শুরু হচ্ছে, শেষ হবে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। এই সংসদের সরকার ও বিরোধী দলের সব সদস্যকে অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম দিন ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এর পর নতুন স্পিকার শপথ নিয়ে মুলতবি অধিবেশন শুরু করবেন।’

অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। ওই ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আগামীতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ০.৩ শতাংশ কমিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৬.৫ শতাংশ নির্ধারণ করে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ছিল ১৬.৮ শতাংশ। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে, এবার অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের বেসরকারি খাতের যে ঋণ প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।

কেন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি তার ব্যাখ্যায় গভর্নর জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে, নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মামলা দায়ের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বলেন, ৩০শে জানুয়ারির মধ্যে মামলা দায়ের করা হবে বলে এরই মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে, কার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে এবং কত টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হবে তা শিগগিরই জানানো হবে।।

প্রকল্প অনুমোদন

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন সমপ্রসারণের লক্ষ্যে একই ধরনের দুটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ২১৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে  ৪ লাখ ১৫ হাজার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এই দুই প্রকল্পসহ মোট ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। একনেক সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সভায় ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৪৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬২০ কোটি ২৭ লাখ টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করবে। বাকি ২ লাখ ৫২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে।৯ প্রকল্পের মধ্যে ৫টি নতুন এবং ৪টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শিল্প ও কৃষিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের নিশ্চিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে একটি জাতীয় নীতি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে বলেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সব মিটার গেজ রেলওয়ে লাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তরের পরিকল্পনা তৈরিরও নির্দেশনা দেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রেল, সড়ক ও নৌ পরিবহনের জন্য একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে এক টিকিটে সকল পরিবহনে যাতায়াত করা যায়। উন্নত দেশে এমন ব্যবস্থা চালু আছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংযোগ সমপ্রসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কার্যক্রমে ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ সমপ্রসারণের লক্ষে গৃহীত দুই প্রকল্প ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে প্রকল্প এলাকায় শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় চলে আসবে। আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের প্রতিটি মানুষ নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ পরিসেবা পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রংপুর বিভাগ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র সমপ্রসারণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রংপুর উপকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতা ২২০ মেগাওয়াট বৃদ্ধি পাবে এবং রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন সংযোগ দেয়া হবে।

এছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণের লক্ষে অনুমোদিত অপর প্রকল্প ‘রাজশাহী বিভাগ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র সমপ্রসারণ এবং পুনর্বাসন’। এতে খরচ হবে ১ হাজার ৯১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে রাজশাহী উপকেন্দ্রের ৪৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি রংপুর বিভাগে ২ লাখ ৩৫ হাজার নতুন সংযোগ দেয়া হবে।

এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল কানেকটিভিটি শক্তিশালীকরণে সুইচিং ও ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘সৈয়দপুর ১৫০ মেগাওয়াট ১০ শতাংশ সিম্পল সাইকেল (এইচএসডি ভিত্তিক) বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন সমপ্রসারণের মাধ্যমে ১৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ (১৯.৫ লাখ গ্রাহক সংযোগের সংস্থানসহ-১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সাড়ে ১৯ লাখ নতুন সংযোগ আমরা দিতে পারবো। এক সংযোগে পাঁচজন করে মানুষ ধরলেও গড়ে প্রায় এক কোটি মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পাবেন।

অনুমোদন পাওয়া অপর প্রকল্পসমূহ হলো- রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘৭০টি মিটার গেজ (এমজি) ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভ সংগ্রহ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানকল্পে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড স্থাপন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘কক্সবাজারের লিংক রোড-লাবণী মোড় সড়ক (এন-১১০) চারলেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘আরিচা (বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলতপুর-টাঙ্গাইল সড়কের ৬ষ্ঠ কিলোমিটারে ১০৩.৪৩ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।

প্রবৃদ্ধি-উৎপাদন বাড়ায় টাকা পাচার বেড়েছে: দেশে প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ায় টাকা পাচারের পরিমাণও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গতকাল একনেক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যেহেতু আমাদের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে, উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, টাকাও প্রচুর বেশি আগের তুলনায়। টাকা পাচারও বৃদ্ধি পেয়েছে লজিক্যালি আমার মনে হয়। এটা আমাদের নজরে আছে। আমার মনে হয়, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী চিন্তাভাবনা করছেন এটা নিয়ে। ব্যাংকগুলোর ওপরও নির্দেশনা আছে। নানাভাবে আমরা কাজ করছি।

বিএনপির মানববন্ধন

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পর গত ৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই অধিবেশন আহ্বান করেন।গত ২৮ জানুয়ারি শেষ হয়েছে দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ।নির্বাচনে নজিরবিহীন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ক্ষমতাসীন মহাজোট।ভোট হওয়া ২৯৯ আসনের মধ্যে জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন।অন্যদিকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে মাত্র আটটি আসন পেয়েছে।দলগতভাবে বিএনপি পায় মাত্র ৬টি আসন আর ড. কামালের গণফোরাম পায় মাত্র দুটি আসন।এই নির্বাচনে জামায়াত সহ বিশ দলের বাকি শরিকরা কোন আসনই লাভ করতে পারেনি।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসার আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছে বিএনপি।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জহিরউদ্দিন স্বপন, আবদুস সালাম আজাদসহ নেতা-কর্মীরা বুধবার বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টার এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতে সারি বেঁধে দাঁড়ানো মহানগর বিএনপি, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ কর্মসূচিতে তাদের কারাবন্দি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দিচ্ছেন।

বিএনপির এ কর্মসূচি ঘিরে প্রেস ক্লাবের বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ‘প্রহসন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন’ অভিহিত করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের অভিযোগ করেছে, ‘অনিয়ম’ ও ‘ভোট কারচুপি’ করে জিতেছে ক্ষমতাসীনরা। একই সঙ্গে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবিও জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপির বিজয়ীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নবগঠিত একাদশ সংসদকে ‘ভুয়া ভোটের সংসদ’ অভিহিত করে এর প্রতিবাদে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের সব কারাবন্দি নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, বুধবার (আজ) ভুয়া ভোটের সংসদ বসছে। এ সংসদ গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রেতাত্মা। এ সংসদ গণবিরোধী।

এ সংসদ নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শনকারী গণশত্রুদের আড্ডাঘর। ভুয়া ভোটের সংসদের প্রতিবাদে আজ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন হবে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি হাজার হাজার নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে আমরা চিঠি দিয়েছি। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি তার কারাভোগের এক বছর পূর্ণ হবে।

রিজভী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মহাতামাশার নির্বাচন। চরম মিথ্যাচার, অনুশোচনাহীনতা ও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্লজ্জভাবে ম্যানুফ্যাকচার্ড ভোটের ফলাফল ঘোষণা করে নিজেরা আত্মপ্রসাদ লাভ করলেও জনগণকে বোকা বানানো যায়নি।

মহাভোট ডাকাতির মহাসমারোহ জনগণ দিব্যচোখে অবলোকন করেছে। ভুয়া ভোটের মিথ্যা জয়ের অহংকারে ধানের শীষের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ গরিব মানুষের বাড়িঘর, দোকান, বাজার ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মূলত রক্তাক্ত মূর্তি নিয়েই তারা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার আত্মসাৎ করে।

এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি পারভেজ আহমেদ জামিনলাভের পরও জেলগেট থেকে পুনরায় গোয়েন্দা পুলিশের গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা নুরী আরা সাফা, সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।

ভয়ংকর প্রতারণা

চাকরি করেছেন সৈনিক হিসেবে, তাও ৪৭ বছর আগে। কিন্তু চলনে-বলনে পুরোপুরি কর্মকর্তা। নিজেকে পরিচয় দেন ‘মেজর’ বলে। এই পরিচয়ের বিস্তারও ঘটান। শুরু করেন এক ভয়ংকর প্রতারণা। চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন কোটি টাকা।

এই ব্যক্তির নাম সৈয়দ আবু জাফর। র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর তিনি এখন কারাগারে। একই কাজে জড়িয়ে পড়ায় জাফরের স্ত্রী শিল্পী আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‍্যাব-২-এর মোহাম্মদপুর ক্যাম্প ১৯ জানুয়ারি মোহাম্মদপুরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পাবনা ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত এক গাড়িচালক ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ৭৯ লাখ টাকা এবং আরও ছয় চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে অন্তত ৭২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, সৈয়দ আবু জাফরের নেতৃত্ব এই প্রতারক চক্রে তাঁর স্ত্রী বাদে আরও ছয়জন আছেন। আতাউর রহমান খান নামের আরেক ব্যক্তি আবু জাফরের ডান হাত হিসেবে কাজ করেন। চাকরিপ্রত্যাশীদের ফাঁদে ফেলাই তাঁদের কাজ। প্রাথমিকভাবে আবু জাফরের দেড় কোটি টাকা প্রতারণার তথ্য পেলেও এই সংখ্যাটি আরও বড় বলে তাঁরা মনে করছেন। মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লায় তাঁর সাড়ে চার কাঠা, দারুস সালাম এলাকায় ছয় কাঠা জমি আছে।

সৈয়দ আবু জাফরের এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন পাবনা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্বজন।  তিনি বলেন, আবু জাফরের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইউনুস ছিলেন তাঁর দূরসম্পর্কের আত্মীয়। নিজের ছোট ভাইয়ের জন্য চাকরি খুঁজতে গিয়ে আবু জাফরের সঙ্গে ইউনুসই তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রথম দিন ঢাকায় আসার পর তিনি তাঁদের ক্যান্টনমেন্টের ভেতর ঘুরিয়ে দেখান। চাকরির বিষয়ে এক বড় কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তাঁদের গাড়িতে রেখে একটি বাসায় গিয়ে ঘণ্টা দু-এক কথা বলে আসার নাটকও করেন। এসব দেখে তাঁরা বিশ্বাস করেন। কয়েক দিন পর তিনি নৌবাহিনীতে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দেন। বিনিময়ে ছয়জনের কাছ থেকে ৭৯ লাখ টাকা নেন। কিন্তু এরপর আর নিয়োগের বিষয়ে তিনি কোনো যোগাযোগ করেননি।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা ২০১৬ সালে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেন। আবু জাফর তখন তাঁদের ৭৫ লাখ টাকার দুটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে তাঁরা দেখেন ওই অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। আবারও প্রতারিত হয়ে তাঁরা পাবনা আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা করেন। কিন্তু গত দেড় বছরেও কোনো কূল-কিনারা না হলে তাঁরা র‍্যাবের কাছে যান।

আবু জাফর ও তাঁর স্ত্রীর একটি কৌশলী প্রতারণার বর্ণনা মেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক আল আমিনের কাছে। চাকরির জন্য তিনি ও তাঁর এলাকার আরও ছয় যুবক সাইদুর রহমান নামের এক কৃষকের মাধ্যমে আবু জাফরের সহযোগী আতাউর রহমান খানকে ৭২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগের জন্য যশোর নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জাফর দম্পতি কৌশলে তাঁদের শিক্ষাজীবনের সব সনদ ছিনিয়ে নেন।

আল আমিন বলেন, বাবার এক বিঘা কৃষিজমি ছয় লাখ টাকায় বিক্রি করে এবং বোনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ধার করে তিনি দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি যশোর নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আবু জাফর ও আতিউর রহমান তাঁদের একটি মাইক্রোবাসে করে সাভারের দিকে রওনা হন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পার হওয়ার পর নাশতা খাওয়ার কথা বলে পর্যটন হোটেলে তাঁদের নিয়ে ঢোকেন। ২০-২৫ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন তাঁদের ব্যাগ ব্যাগেজ কিছুই নেই। আবু জাফর জানান কেউ দরজার তালা ভেঙে সব নিয়ে গেছে।

আবু জাফর ওই মাইক্রোবাসটি ভাড়া করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এর চালক ছিলেন আজহার মুনশি। তিনি বলেন, আবু জাফরের স্ত্রী শিল্পী বেগম আরেকটি মাইক্রোবাস নিয়ে তাঁদের মাইক্রোবাসের পিছু পিছু গিয়েছিলেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী চাকরিপ্রত্যাশী যুবকদের নিয়ে আবু জাফর হোটেলে ঢোকার পরপরই তাঁর স্ত্রী মালামাল সব নিজের মাইক্রোবাসে সরিয়ে নিয়ে সটকে পড়েন।

র‍্যাব-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন  বলেন, সৈয়দ আবু জাফর মেজর পরিচয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করতেন। স্ত্রী বাদেও তাঁর চক্রে আরও কয়েকজন রয়েছেন।

আহ! একটা মাত্র বই মিস করছেন

আহ! একটা মাত্র বই মিস করছেন আপনি। মাত্র একটা বই। জান্নাত আর জাহান্নামের মাঝে পার্থক্য, কেবল একটা বই।
কুরআনটা বোঝার চেষ্টা করেন, আমল করার চেষ্টা করেন, জান্নাতে চলে যাবেন। ছোট্ট এই একটা কথা বহুবার বলেছি। আবারও বলব। আসলে বলার জন্য এই কথাই যথেষ্ট।

যখন আপনাকে কবরে আপনার ব্যার্থতার জন্য অপমান করা হবে তখন আপনাকে এর দিকে নির্দেশ করেই বলতে থাকবে, “লা তালাইতা! ওলা দারাইতা!” তুমি পড়নি! তুমি জানোনি?

মহান আল্লাহ একে বলেছেন, “তিবয়ানান লিকুল্লি শাই” সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী!। আর কোথায় কি খুজে বেড়াচ্ছেন আপনি!

আহা! একটা মাত্র বই মিস করছেন আপনি। মাত্র একটা বই। জান্নাত আর জাহান্নামের মাঝে পার্থক্য, কেবল একটা বই।
#কুরআন_পড়ুন_কুরআন_বুঝুন

আসুন কুরআন দিয়ে জীবন গড়ুন।
Play
Play
previous arrow
next arrow
Slider

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এই ধারার কারণে বহু সাংবাদিককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। অনেককে কারাগারেও যেতে...

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ’ কিংবা ‘মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর রাস্তায় সন্তান প্রসব’ কিংবা ‘আবারো মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ’ অথবা ‘আবারো মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তান প্রসব’ শিরোনামে প্রায়ই পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।...

previous arrow
next arrow
ArrowArrow
Slider

  ফারা মাহমুদা চৌধুরী (শিল্পী) মানবদরদী ও মানবহিতৈষি ব্যক্তিত্ব হিসেবে অতিথিদের হাত থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করছেন।   ইমদাদুল হক তৈয়বঃ ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই নৈতিকতাবোধ থেকেই বুকে নীতি আদর্শ...

Archives

Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Nov0 Posts
L0go

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি