সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
  • বিকাল ৪:৩৫ | ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী

Monthly Archive :এপ্রিল ২০১৯

চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ

নরসিংদীর শিবপুরে রায়হান মিয়া (২২) নামের এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২১ এপ্রিল) সকালে নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের সফরিয়া এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্ত রায়হান সফরিয়া এলাকার আবদুর রাজ্জাক মিয়ার ছেলে। সে শিবপুর বাজারে তার বাবার সঙ্গে মুদি দোকানের ব্যবসা দেখাশুনা করে। শনিবার সন্ধ্যায় রায়হান তার প্রতিবেশী ওই শিশুটিকে চকলেট খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই সময় শিশুর চিৎকারে আশপাশের বাড়ির লোকজন চলে আসলে রায়হান পালিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে জিজ্ঞাসা করলে সে পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি জানায়। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সকালে শিশুটিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

নরসিংদী সদর হাসাপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আমিরুল হক শামীম বলেন, শিশুটিকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ইতিমধ্যে গাইনি চিকিৎসক দিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন মামলা দায়েরের পর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। আর এ ঘটনায় একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হচ্ছে।

শিবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুমিনুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিশুটি হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত রায়হান ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠ

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফলসুতি ইউনিয়নের হিয়াবলদী গ্রামের হিয়াবলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি। তারপরও পুরনো ওই ভবনের একটি কক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছে। যেকোনও সময় এটি শিশু-শিক্ষার্থীদের ওপর ভেঙে পড়তে পারে। এ কারণে তাদের অভিভাবকরাও রয়েছেন ভীষণ উদ্বিগ্ন। কর্তৃপক্ষ বলছে, টেন্ডার না হওয়ায় ভবন নির্মাণকাজ আরম্ভ করা যাচ্ছে না।

বিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থীর বাবা মিরাজ মাতুব্বর বললেন, ‘আমার মতো অনেক অভিভাবকই চরম দুশ্চিন্তায় থাকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠরত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে। আমরা চাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ হোক।’

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষক ইউনুস মিয়া বলেন, ‘আমি গত আট বছর ধরে ভবনটির এই অবস্থা দেখছি, যা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে। এখানে ক্লাস নিতে গিয়ে খুব ভয়ে থাকি। কারণ, প্রায়ই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে।’

বিদালয়টির প্রধান শিক্ষক বিভা হালদার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘পুরাতন ভবনের একটি কক্ষ মোটামুটি ভালো থাকায় গত সাত-আট বছর ধরে সেখানে দুই সিফটে প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছি। কারণ বিক্ল্প কোনও স্থান নেই।’ ভবন পুনর্নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বহুবার কর্তৃপক্ষকে নতুন ভবনের ব্যাপারে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও ফল হয়নি।’

নগরকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় থাকলেও এখনও টেন্ডার না হওয়ায় ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আমি দ্রুত বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিকল্প স্থানে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।’

সূত্র মতে, এ বছর উপজেলার ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে ১১টির নতুন ভবন নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে এবং আরও ৯টির টেন্ডার এ মাসে সমাপ্ত হবে। কিন্তু কী কারণে এই বিদ্যালয়টির টেন্ডার হচ্ছে না সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

পদ্মায় নেমে ৩ বোনের মৃত্যু

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে তিন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জন স্কুলের ও একজন কলেজ ছাত্রী।

রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মীরগঞ্জ বিওপির পাশে সুফিয়ানের ঘাটে মর্মান্তিক এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতদের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নিহতরা হলো- রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর গ্রামের জিল্লুর রহমানের মেয়ে ইশা (১০) ও জিম (১৭) এবং  জিল্লুরের চাচাতো ভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে শিপ্রা (১২)।

এর মধ্যে জিম মীরগঞ্জ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, শিপ্রা মীরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও এশা খাতুন বাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রাজশাহীর বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসীন আলী  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুপুরে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে মর্মান্তিক এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি মহসীন আলী বলেন, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাঘার মীরগঞ্জ বিওপি ক্যাম্প এলাকার সুফিয়ানের ঘাটে তারা গোসল করতে নামে। এ সময় কোনোভাবে তারা নদীতে ডুবে যায়। পরে ঘাটে শিক্ষার্থীদের রাখা কাপড় দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে জাল ফেলে তাদের খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ওই তিন শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদেরকে দ্রুত চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত তিন বোনের মরদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। রাজশাহীর বাঘার মণিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, মরদেহগুলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। ঘটনার পর থেকে নিহত তিন শিক্ষার্থীর পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

এদিকে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজাও নিহতদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে বলেও জানান।

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই

 প্রখ্যাত লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

 বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিক নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, মাহফুজ উল্লাহর বড় মেয়ে অঙ্গনা আমায় বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে ২ এপ্রিল সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। এরপর সেখান থেকে গত ১০ এপ্রিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংকক নেয়া হয়।

১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীতে জন্ম নেয়া মাহফুজ উল্লাহ বাংলাদেশের প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনের একজন নেতৃস্থানীয় কর্মী ছিলেন। ছাত্র অবস্থাতেই সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন তিনি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ দেশের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে, কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন সিনিয়র এই সাংবাদিক।

সেন্টার ফর সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল মাহফুজ উল্লাহ বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার সূচনা করেন। রাজনীতি উন্নয়ন ও পরিবেশ বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা তার বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর করজারভেশন অব নেচারের একজন নির্বাচিত সদস্য ছিলেন তিনি।

মৃত্যুর আগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ।

মাহফুজ উল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করেন। তার বাবা শিক্ষাবিদ মরহুম হাবিবুল্লাহ ও মাতা মরহুমা ফয়জুননিসা বেগম।

তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কমরেড মোজাফফর আহমদের নাতি সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ।

পরিবর্তনের গল্প(১০)

মা বাসায় আসার পর প্রথমে শান্ত ছিলেন। আমাকে ডেকে বললেন ভাইয়া আমার জন্য উনার মতো ইসলামিক দাড়িআলা ছেলে ঠিক করেছেন। আমিও কি দাড়ি আলা ছেলে বিয়ে করতে চাই? আমি শুধু বলেছি যে ভাইয়া যদি ঠিক করেন তবে ভালো ছেলেই হবে। তখন আর মার বুঝতে বাকি নাই আমিও মুসলিম হয়ে গেছি। এরপরের প্রতিক্রিয়া হলো ভয়ংকর। অনেক রাগারাগি করলেন,কান্নাকাট ি করলেন,বারবার ইমোশনাল্লি বুঝাতে লাগলেন। আমি পাথর হয়ে দাড়িয়ে ছিলাম। একটা টু শব্দও আর করিনি। এক ফোঁটা চোখের পানি ফেলিনি। মার কোন প্রশ্নের জবাব দেইনি। মাথা নীচু করে শুনে যাচ্ছিলাম সব। মা পাগলের মতো করছিলেন। একটু পর পর আমার রুমে এসে বকে যেতেন। একবার এসে মোবাইল নিয়ে গেলেন, হাতে যা টাকা ছিলো নিয়ে গেলেন। পরে আবার এসে মোবাইল ফেরত দিয়ে গেলেন। রুমের দরজা আটকাতে নিষেধ করে গেলেন। কাঁদতে কাঁদতে চোখ মুখ ফুলে গিয়েছিলো মার্। মা যখন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেলেন তখন আমি এতোক্ষনে প্রথম কাঁদলাম। আমার জন্য না,মার জন্য। দুআ করতে লাগলাম আল্লাহ যেন মাকে হেদায়েত দেন,এই কষ্ট কমিয়ে দেন আর মাকে আমার বিয়ের জন্য রাজি করে দেন। আমি কাওকে কষ্ট দিতে চাইনি। কিন্তু তাই বলে আন ইসলামিক বা আধুনিক মুসলিম ছেলে তো বিয়ে করতে পারিনা

fb তে ম্যাসেজ দিয়ে ফয়জুন নাহার আন্টিকে সব জানিয়ে রাখলাম। সব শুনে উনি,ইউসুফ,ইউসুফের মা,বোন সবাই আমার জন্য টেনশন করতে লাগলো। ইউসুফের মা আমাকে তখনই নিয়ে আসতে চাচ্ছিলেন। আরেকটু হলে ইউসুফ আমাকে নিয়ে যেতে ফার্মগেট চলে আসতেচেয়েছিলেন। আমি মানা করলাম। অপেক্ষা করতে চাইলাম কিছুদিন। মার প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ ছিলো,তবুও মনের কোথাও না কোথাও একটু আশা রয়ে গিয়েছিলো। হয়তো মা রাজি হবে,মেনে নিবেন সব. অপু ভাইয়াও বললেন তারাহুরা করতে না। মা বিয়ের জন্য রাজি না। বাসায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমি খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি বাসায়। সিহিন্তার বাসায় যেতে বা কথা বলতে মা নিষেধ করে দিয়েছিলো। তাই ফোনে ওর সাথে যোগাযোগ ছিলো। আমাকে সাহস দিত অনেক। ফয়জুন নাহার আন্টিও রেগুলাম যোগাযোগ রাখতেন। ইউসুফ জানালো যেহেতু মা রাজি না তাই ওরা এক সপ্তাহ পর শুক্রবার বিয়েটা করিয়ে ফেলতে চায়। মাকে ছাড়া বিএ করার ইচ্ছা ছিলোনা। কিন্তু আর উপায়ও নাই। তাই ভাবলাম এটাই ভালো হবে। তবে দুআ করে যাচ্ছিলাম মা যেন রাজি হয়ে যায়। এপ্রিলের তারিখ,২০১৩ তে সিহিন্তা কল করে জানালো ইউসুফ নাকি ভাইয়ার সাথে দেখা করতে এসেছিলো। ওর মা হটাত বিয়ের জন্য রাজি না। কোনো কথাই মানতে চাচ্ছেন না। ছেলেকে বিয়ে করতে দিবেন না। কেনো এমন করছেন ইউসুফও জানেনা। কষ্ট পেয়েছিলাম। অনেক খারাপ লেগেছিলো। সারাদিন কেঁদেছি। মাকে কষ্ট দিলাম, আল্লাহর পথে তাও যা চলতে পারতাম তার পথ বন্ধ করলাম, সালাত পড়তে পারছিনা,ইসলামিক বই পড়তে পারছিনা, আবার কবে পারবো জানিনা। হতাশায় ডুবে থাকলাম পুরা একদিন। পরের দিন আমার অবস্থা দেখে মা পাপা ভয় পেয়ে গেলো। কাঁদতে কাঁদতে আমার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গেছিলো। পাপা অনেক কষ্ট পেয়েছিলো আমাকে দেখে। মা আমাকে ডেকে বললেন যে আমি চাইলে মুসলিম ছেলের সাথেই বিয়ে দিবেন। তবে দাড়ি ছাড়া একটু মডার্ন হলে ভালো হয়। আমি কিছু বলিনি

এর মাঝে একদিন বড়মামি আসলো বাসায়। জানতে চাইলো আমি কি ইউসুফকেই বিয়ে করবো কিনা। মা রাজি না হলেও কি ওকেই বিয়ে করবো? মানে সে জানতে চাচ্ছিলো সিহিন্তার মতো পালিয়ে বিয়ে করবো কিনা। আমি বলেছিলাম যে আমি তো জানতাম মা রাজী হবেনা,তাও মাকে জানিয়েছি। মাকে ছাড়া আমি বিয়ে করতে চাইনা। আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম কিন্তু মা যাতে আমার বিয়েতে থাকে এজন্যেই আমি মাকে জানিয়েই বিয়ে করবো। মামি যখন বুঝলো আমি অন্য কোথাও বিয়ে করবোনা তখন মামি আমার নানি আর বড়মামাকে বুঝিয়ে রাজী করালো। কারণ তারা রাজী থাকলে আমার বাকি আত্মিয়রাও আর কিছু বলবেনা। এরপর থেকে মার সামনেই ওজু করতাম,যদিও রুমে দরজা আটকে সালাত পড়তাম,মা বুঝতো কিন্তু কিছুই বলতো না। বাসায়ই ইসলামিক বই পড়তাম। মার সাথে বাইরে গেলে মাথায় কাপর দিতাম না কিন্তু এমনিতে মাথায় কাপর দিয়েই বাইরে যেতাম। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ সব অনেক সহজ করে দিলেন। এভাবে হটাত সব ঠিক হয়ে যাওয়া আল্লাহর দয়া রহমত ছাড়া আর কিছুই না।কল্পনাও করিনি এভাবে মা মেনে নিবেন! ইউসুফের তখন গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট হয়েছে মাত্র। চাকরির জন্য খোঁজ করতে লাগলো। চাকরি পেলে সে আবার আমাকে বিয়ের কথা বাসায় জানাবে বলেছে। আমাদের বিয়ের কোনো লক্ষনই ছিলোনা। তাও কেনো জানি মনে হচ্ছিলো বিয়েটা হবেই। দুজনই ইশ্তেখারা পরেছিলাম আর পজেটিভ ফল পেয়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। সবর করতে লাগলাম


.
ওর মা রাজি না,কিন্তু এতে লাভ হলো আমার মা আমার মুসলিম হবার ব্যপারটা মেনে নিলেন। সিহিন্তার বাসায় যেতেও আর বাঁধা নাই। বিয়ে হওয়ার থাকলে হবেই ইন শা আল্লাহ। আমি সবর করতে লাগলাম নিজের ইসলামিক জ্ঞানবৃদ্ধি, চর্চা বৃদ্ধি করার দিকে মনোযোগ দিলাম। কোনো ভাবেই মুমিন না হয়ে পাপের বোঝা নিয়ে আমি আল্লাহর সামনে যেতে চাইনি। আমার সব সময় সুযোগ কাজে লাগাবো ঠিক করলাম। আমি দেখেছি যখনই আমি আল্লাহর পথে চলতে চেষ্টা করেছি। আল্লাহ কোনো না কোনো ভাবে আমার জন্য সাহায্য পাঠিয়ে দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। তেমনই কয়েকটা ছোট ছোট ঘটনাআজ উল্লেখ করবো। আমি সিহিন্তার বিয়ের পর ওর থেকে শিখে অনেকটা সুদ্ধ্য করে নিয়েছিলাম আমার সালাত। তবুও কিছু ছোট খাট ব্যাপারে মাঝে মাঝে কনফিউশনে ভুগতাম যে ঠিক হচ্ছে কিনা। টিউশনি পড়ার জন্য সিহিন্তার বাসায়ও আগের মতো যাওয়া হচ্ছিলোনা। এমন সময় সিহিন্তার থেকে জানলাম ICD তে বুশরা আপু সালাতের ক্লাস নিচ্ছেন। /৪টা ক্লাসে যাওয়ার সুযোগ করে নিতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ ওই /৪টা ক্লাস করেই অনেক উপকার পাই। সালাতের কিছু ভুল ঠিক করে নিতে পারি। আমি বাংলা কুরআন পড়তাম,কিছু হাদিসের বই পড়তাম কিন্তু রাসূল (সা🙂 এর জীবনী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা ছিলোনা। মনে মনে ভাবছিলাম উনার জীবনি নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। এমনি সময় একদিন আমার চাচাতো বোন কল করে বলে ইউসুফ নাকি ওর হাসবেন্ডের হাতে আমার জন্য একটা বই পাঠিয়েছে। আমি গেলাম ওর থেকে বইটা আনতে। দেখি ইউসুফ আররাহীকুল মাখতুম পাঠিয়েছে আমার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ বইটা এতোই ভালো যে যতোই পড়ি মন ভরেনা। এখনো মনে আছে রাসূল (সা🙂 ইসলাম প্রচার শুরু করার অংশে আসার পর আর পড়তে পারতাম না। মনেহতো আরো পড়লেই তো রাসূল (সা🙂 এর মৃত্যুর কথা পড়তে হবে একদিন। রাসূল (সা🙂 মারা যাবেন ভাবতেও কষ্টে বুক ভেঙ্গে আসছিলো। অনেকদিন পড়া বন্ধ রেখেছিলাম


.


ফ্লোরে সালাত পড়তে কষ্ট হচ্ছিলো। হাতে তেমন টাকা ছিলোনা। ভাবছিলাম কিছু টাকা জমিয়ে একটা জায়নামায কিনবো। কিন্তু আর কিছুদিনের মাঝেই আমার ভার্সিটির এক ফ্রেন্ড আমাকে সুন্দর একটা জায়নামায উপহার দেয়। আলহামদুলিল্লাহ! রমাদান মাস সম্পর্কে,এই মাসের ইবাদাত,বিদআত ইত্যাদি সম্পর্কে জানার ইচ্ছা ছিলো। সিহিন্তার বাসায় গেলাম নিজে থেকেই আমাকে একটা বই দিলো যেটাতে রমাদান সম্পর্কিত ডিটেইলস হাদিস সহ বর্ণনা ছিলো। আলহামদুলিল্লাহ! যেহেতু আমরা কারো মাধ্যমে মুসলিম হইনি, তাই মাযহাব সম্পর্কে আমার ভালো ধারনা ছিলোনা। একদিন ক্লাসে একজন আমাকে প্রশ্ন করেছিলো আমি কোন মাযহাব পালন করি,একটা না একটা মাযহাব নাকি পালন করতেই হয়। সেদিন সিহিন্তার বাসায় তাফসিরে সুমাইয়ার আম্মু বিক্রি করার জন্য কিছু বই আনেন। সেখান থেকে চারজন ইমামের জীবনিমূলক একটা বই ছিলো। ওটা কিনে নেই। রমাদান মাসে আমি আরবি পড়া শিখবো নিয়ত করেছিলাম। কিন্তু আমার তো কোনো শিক্ষিকা নেই। একদিন এ্যান্ড্রয়েডের প্লে স্টোরে একটা খুব ভালো সফট ওয়ের পাই। যেটা থেকে আরবি রিডিং পড়া শিখে যাই একা একা। উচ্চারণ ঠিক না হলেও পড়তে তো শিখে গেলাম আলহামদুলিল্লাহ!!

.

আরবি পড়া শিখলাম কিন্তু বাসায় আরবি কুরআন নাই। একটা কিনবো ভাবছি,এমন সময় এক ফ্রেন্ড বাংলা অর্থ সহ একটা আরবি কুরআন উপহার দেয়! আলহামদুলিল্লাহ!! এভাবে আল্লাহর সাহায্য আসতেই লাগলো। মন খারাপ থাকলে দেখতাম কেও না কেও ওই বিষয় নিয়েই fb তে পোস্ট করেছে। কোনো বিষয়ে সমস্যা থাকলে ওটা নিয়েই কোনো না কোনো হাদিস বা লেখা পেয়ে যেতাম নেট আসলে। সবচেয়ে বড় যে সাহায্য আল্লাহ আমাকে করেন তা হলো আমি চাইলেও আল্লাহ আমাকে অনেক গুনাহ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন। যেমন কোনো এক জায়গায় গেলে হয়তো গুনাহ হবে এমন কিছু করতে হতো,দেখা যেত ওইদিনই আমি অসুস্থ্য হয়ে পরেছি বা কোনো বাধাঁ এসে উপস্থিত। আলহামদুলিল্লাহ! প্রতিটা পদে আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেন। কখনো আর নিজেকে একা মনে হয়নি। ইউসুফ ওদিকে চাকরী খুঁজতে লাগলো, আর এদিকে আমি নিজেকে আল্লাহর পথে চলতে আরো বদলে নিতে লাগলাম। আমি ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করছিলাম। অনেকদিনের দু:শ্চিন্তা, ভয় সব দূর হয়ে গিয়েছিলো। মা আমার ইসলাম হবার ব্যাপার মেনে নিয়েছেন, নামায পড়তে বাঁধা দেন না। আত্মীয়রা অনেকেই অনেক কথা শুনায় মাকে কিন্তু আমার সেসব কথা গায়ে লাগতোনা। আমার মামি খ্রীস্টান হয়েও আমাকে অনেক সাপোর্ট দেন। তার কারণের আমার বড় মামা আর নানী আমার মুসলিম হবার ব্যাপারটা মেনে নেন। যদিও মন থেকে মানেনি তাও আমাকে কিছু বলতোনা। আমি ভালোই ছিলাম কিন্তু আমার মাকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। হয়তো মা বাসায় আমাদের সাথে হাসি খুশি থাকতেন। কিন্তু বাইরে গেলে কারো সাথে দেখা হলে হয়তো বলতো,আহারে! তোমার জন্য কষ্ট হয়,তোমার দুই মেয়েই তোমার ধর্ম ছেড়ে চলে গেল। বা বলতো এতো করলা মেয়েদের জন্য কিন্তু ওরা কেও তোমার থাকলোনা। ইত্যাদি এমন অনেক কথাই মাকে সহ্য করতে হতো। মা বাসায় এসে কাঁদতো, মন খারাপ করে থাকতো। কিন্তু কখনও আমাকে জোর করতো না ইসলাম ধর্ম ছেড়ে দিতে। মাঝে মাঝে আমাকে অল্পতেই বকতো। আবার আমার বিয়ে হবে, চলে যাবো ভেবেও কাঁদতো। খুব কষ্ট হতো মার জন্য কিন্তু দুআ করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলোনা আমার্

.

ইউসুফ ততদিনে আবার তার পরিবারকে রাজী করায় বিয়ের জন্য। ওরা জুন মাসের এক শনিবার বিয়ের কথা বলতে বাসায় আসবে ঠিক হলো। ওরা যেদিন আসবে তার আগেরদিন icd থেকে একটি বিয়ের উপর দে লং প্রগ্রাম এ্যারেঞ্জ করা হয়। আমরা দুইজনই ওই প্রগ্রামে পার্টিসিপেট করি। সেখানে পাত্র পাত্রি বাছাই, দেখা, ওয়ালীমা, তালাক ইত্যাদি বিয়ে সম্পর্কিত সব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের বিয়েটা কিভাবে করতে হবে,কি কি করা যাবেনা অনেক কিছুই আমরা শিখতে পারি। পরেরদিন বিকালে আমার বাসায় ,ওর মা, বোন আর ভাবীকে নিয়ে আসে আমাকে দেখতে। সিহিন্তা আর অপু ভাইয়াও আসেন। কথা ঠিক হয় চাকরী পেলে সেপ্টেম্বরে বিয়ে হবে। খুব সুন্দর একটা বিকেল কাটিয়ে ওরা বাসায় চলে গেলো। বাবা মা সবাই খুশি। পরেরদিন সিহিন্তা কল করে জানালো ইউসুফের মা নাকি বিয়েতে রাজিনা। এখন না পারছে ওর মাকে কষ্ট দিতে, না পারছে আমাকে মানা করে দিতে। আবার সময় চাচ্ছে। আমার কেমন লেগেছে শুনে বলতে পারবোনা। আসলে কোন অনুভূতিই কাজ করছিলোনা। ইউসুফ আবার সময় চেয়েছে তাই অপেক্ষা করতে লাগলাম আবারো। মা বাবা শুনে কিছু বললেন না। আমাকে কোনো প্রশ্নও করলেন না। তারাও বুঝতে পেরেছিলো আমি কষ্ট পাচ্ছি। দুইবার এমন হলো। সবর করতে লাগলাম

.

জুন মাসের মাঝামাঝিতে একদিন হটাত অপু ভাইয়া বিকালে কল করে বলেন আমাকে উনার বাসায় যেতে। ইউসুফ আর ওর মা আসবে। ওর মা আমার সাথে কথা বলতে চায়। ইউসুফের সাথে আমার যোগাযোগ নাই। ফলে কেন আসছে,রাজী হয়েছেন কিনা কিছুই জানিনা। বাবার সাথে সন্ধ্যার দিকে গেলাম সিহিন্তার বাসায়। ওর মা আমার সাথে অনেক কথা বললেন। তাদের বাসার অবস্থা, ছেলে মেয়েদের কথা ইত্যাদি অনেক কিছুই বললেন। শরীফুন্নেসা আন্টিও উনাকে আমার সম্পর্কে একটা ধারনা দিলেন। ওর মা আমাকে প্রশ্ন করলেন আমি উনার বাসার অবস্থা সব জেনেশুনে বিয়েতে রাজি কিনা। আমি বললাম রাজি। তখন উনি ইউসুফকে ডাক দিয়ে বললেন, চল বউমাকে বাসায় নিয়ে যাই। আমি আর ইউসুফ দুজনই অবাক! এটা কি হলো!! যিনি বিয়ের জন্য একদমই রাজি ছিলেন না তিনিই আমাকে পারলে এখনই বিয়ে করিয়ে বাসায় নিয়ে যান! আলহামদুলিল্লাহ!! সবর করার আল্লাহর প্রতি ভরসা করার ফল হাতে নাতে পেলাম। ওই মাসেই ইউসুফের গাজীপুরে চাকরি হয়ে গেল। মোটামোটি ঠিক হলো বিয়েটা সেপ্টেম্বরে হবে। কিন্তু ওর মা চাচ্ছিলেন বিয়েটা রমাদানের আগেই মানে জুলাই মাসেই হোক। যাতে রমাদানটা আমি উনাদের সাথে থাকতে পারি। আমরা ওদের বাসায় গেলাম। বিয়ে ঠিক হলো জুলাই মাসের তারিখ। কিন্তু থাকবে গাজীপুর আমি থাকবো ঢাকায়। প্রতি বৃহ:স্পতিবার আসবে গাজীপুর থেকে। কিন্তু আমি আর ইউসুফ কেও এভাবে থাকতে রাজি হলাম না। পরে ঠিক হলো বিয়ে না আখদ হবে। তিনমাস পর গাজীপুরে বাসা নিয়ে আমাকে ওখানে নিয়ে যাবে। সব ঠিক, তারিখ আমার বান্ধবিদের বাসায় দাওয়াত দিলাম। হটাত শুনি ইউসুফ বলেছে ওকে নাকি ছুটি দিবেনা। ঈদের ছুটিতে বিয়ে করবে। আবারো বিয়ে নিয়ে ঝামেলা!! আল্লাহ জানেন তখন কেমন লাগছিলো। প্রথমে প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলো। একবার মনে হচ্ছিলো বিয়েই করবোনা। রমাদান মাসে ওর জন্য পাঞ্জাবি কিনতে যাওয়ার কথা আমার আর মার্। মা ওর মাপ জানতে ওকে কল করেছিলো। কথায় কথায় মাকে বললো যে বিয়ের পর ৬মাস বা এক বছর আমাকে ঢাকায় থাকতে হবে। এখনই সে গাজীপুর নিয়ে যেতে পারবেনা। এবার সত্যি রেগে গেলাম। আমি কোথায় থাকবো, কি করবো আমাকে জিজ্ঞেস না করেই ডিসিশন নিয়ে নিল? আমি জানি এক আর এখন দেখি আরেক! বাস! এটা নিয়ে আমাদের মাঝে ঝগড়া লেগে গেলো। বিয়েটা ভেঙ্গেই গেলো!


.
এই যখন অবস্থা তখন এতোদিন যিনি বিয়ের বিরোধিতা করেছেন উনিই আসল ভূমিকা পালন করলেন। ওর মা বিয়েটা ভাংতে দিবেন না কিছুতেই। সেদিন রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত অন্তত /৮বার কল করেছেন যেন সকালে ওদের বাসায় যাই। সকালে ওদের বাসায় যাওয়ার পর উনি কিছুই না জেনেও ছেলের হয়ে আমার কাছে ক্ষমা চাইলেন,বার বার মন খারাপ করতে না করলেন। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের মাঝে ভুল বুঝবুঝি মিটে গেলো। ২য় সাবান, ১০ই আগস্ট,২০১৩, ঈদের পরদিন আমাদের বিয়ের ডেট ঠিক হলো। আমাদের বিয়েতে ৩৫,০০০টাকার মতো খরচ হয় সর্বমোট। শরিয়ত মুতাবিক আমার মা বাবা একটা টাকাও খরচ করেনি। ICD তে আমাদের বিয়ে হয়। ৬০জন লোকের খাবার এ্যারেঞ্জ করা হয়। ছেলে মেয়েরা সম্পূর্ণ আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়। মেয়েদের ওখানে মেয়েরাই খাবার সার্ভ করে। বিয়ের খাবার যা বেচে যায় মাদ্রাসায় দিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি উচ্ছিষ্ট হাড্ডি,খাবার কুকুর বিড়ালকে খাওয়ানো হয়। বিয়ের মোহর ঠিক হয় ৫০০০০টাকা সূরা আলমূল্ক টাকা বিয়ের আগেই আমার কাছে দেয়া হয় আর সূরা বিয়ের রাতে ইউসুফ আমাকে তেলাওয়াত করে শুনায়। সেদিন সকাল থেকে অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল।খুব সুন্দর একটা দিন। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমার বিয়েতে আমার মা খুশি মনেই উপস্থিত ছিলেন আলহামদুলিল্লাহ শুধু তাই না আমার খ্রীস্টান আত্মীয়রাও সবাই ছিলেন। আল্লাহ আমার দুআ কবুল করে নিয়েছিলেন। সবাই বিয়ের দিন কাঁদে, কিন্তু আল্লাহ আমার ইচ্ছা এভাবে পূরণ করায় আমি এতো খুশি ছিলাম যে সারাক্ষন আমার মুখে হাসি ছিলো। আল্লহকে যতোই ধন্যবাদ দেই ততোই কম হবে

.
আমার বিয়ের পিছে,অনুষ্ঠান সুন্দর করার পিছে অপু ভাইয়া আর সিনিথিয়ার অবদান অনেক বেশি ছিলো। ওরা প্রতিটা ব্যাপারে খেয়াল রেখেছিলেন যাতে বিয়েটা সুন্দর ভাবে শারিয়া মুতাবিক হয়। বিয়ের পর ইসলাম পালনে আমার আর সমস্যা হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। ওর মা,যিনি আমাকে প্রথমে পছন্দ করেননি, এখন উনি সবাইকে বলেন, আমি বউ না, মেয়ে এনেছি বাসায়। মা বলে ডাকেন আমাকে। আমার মা যিনি দাড়ি আলা মুসলিম ছেলে পছন্দ করতেন না,উনি আমাকে এখন সব সময় বলেন ইউসুফ অনেক ভালো ছেলে,ওর বা ওর পরিবারের কারো মনে কষ্ট দিওনা।আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর এতো রহমত, এতো বরকত আমি পেয়েছি যে আমাকে আর পিছে আমার জাহিলি যুগের দিকে ফিরে যেতে হয়নি


.
এই ছিল আমার ইসলামের পথে আসার কাহিনী। এখন আমার জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এবং এখনও প্রতি পদে আল্লাহ আমাকে সাহায্য করে যাচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ! আমি এখন গর্ব করে বলতে পারি আমি একজন মুসলিমা। ইসলামের পথে আসাই আমার জীবনেরসবচেয়ে বড় পাওনা। আল্লাহ তার বান্দাদের কখনও নিরাশ করেন না। আল্লাহর পথে চলতে গেলে বাঁধা, কষ্ট আসবেই। কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা করে সবর করলে এর ফল অনেক বেশি মধুর হয়। আল্লাহু আকবার

সিরিজ বোমা হামলায় নিহত ১২৯, আহত ২শ

শ্রীলংকায় ইস্টার সানডেতে তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলকে টার্গেট করে সিরিজ বোমা হামলায় কমপক্ষে ১২৯ জন নিহত ও ২শ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র।

শ্রীলংকার বাণিজ্যিক রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর কলম্বোতে এ ভয়াবহ নাশকতার ঘটনা ঘটে।

ডেইলি নিউজ জানায়, হামলায় বিদেশি পর্যটকসহ পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, হামলার সময় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে গির্জায় প্রার্থনা চলছিল। নিহতের সংখ্যা ১৩৮ জন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্মকর্তারা।

কলম্বোর সেন্ট এন্থনি গির্জা, ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর নেগম্বোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান্স গির্জা, বাত্তিসালোয়া শহরের পূর্বে জিয়ন গির্জাসহ  তিনটি হোটেলকে লক্ষ্যবস্তু করে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে অনেক বিদেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন।

হামলায় দুটি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সিরিজ বোমা হামলায় ৪৮ জন মারা গেছেন এবং ২৮৩ জনকে চিকিৎসার জন্য আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ন্যাশনাল হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. সামিন্দি সামারাকুন এপিকে জানান, ৩০ জন মারা গেছেন এবং আহতদের কলম্বোর প্রধান হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

 

শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, তারা হামলার বিস্তারিত জানতে তদন্ত করছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাগুলোর সকল গির্জা বন্ধ করে দিয়েছে।

আহতদের কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিস। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

পরিবর্তনের গল্প(৯)

আমি সব সময় দুআ করতাম আমার যেন মাকে না জানিয়ে পালায় বিয়ে করা না লাগে। মা যেন আমার বিয়েতে উপস্থিত থাকে। খুশি মনে মুসলিম ছেলের সাথে আমার বিয়ে দেন। এতোদিন দুআ করতাম আর এখন বিশ্বাস করা শুরু করলাম যে আল্লাহ চাইলে তাই হবে! আবার সালাত পড়া শুরু করলাম। মাথায় কাপর দিতে তখনও সমস্যা হতো তবুও চেষ্টা করতে লাগলাম। অযথা অনলাইনে আড্ডা দেয়া কমিয়ে দিতে দিতে বন্ধই করে দিলাম। আগেই বলেছি নিজেকে এতোই ব্যস্ত করে ফেলেছিলাম যে নিজের জন্যই সময় ছিলনা আমার্। তবুও ইসলাম নিয়ে পড়া শুরু করলাম আবার্। ধীর গতিতে যদিও তা আগাতে লাগলো তবে এবার আর পথভ্রষ্ট হতে হয়নি।কারণ এবার আমার কথা বলার ও শোনার জন্য একজন আছেন। যখনই কষ্ট লাগতো সেজদায় আল্লাহকে সব বলতাম। খুব আপনদের সাথে যেভাবে মানুষ কথা বলে আল্লাহর সাথে সেভাবেই কথা বলতাম (এখনও বলি)। মন হালকা হয়ে যেত। কোনো কষ্টকেই আর কষ্ট মনে হতোনা। আলহামদুলিল্লাহ!! আবার আমি নিজেকে ফিরে পেলাম! ২০১২ সাল,কিছুদিন পরেই রামাদান মাস শুরু হবে। নিয়ত করে রেখেছি এবার যতো বাঁধাই আসুক সব রোজা রাখতে চেষ্টা করবো,কুরআন তেলাওয়াত করতে পারতাম না তখনও তাই ঠিক করেছি বাংলা অনুবাদ টাই পুরাটা পড়ে শেষ করবো। তারাবির সালাত পড়বো,কি কি দুআ করবো,কি কি আমল করবো অনেক কিছুই প্ল্যান করে রেখেছিলাম। এমনকি সা’বান মাসেও কয়েকটা রোজা রেখেছি। পুরাপুরি প্রস্তুত আমি রমাদানের জন্য।

রমাদান মাসের আগের দিন হটাত করেই প্রচন্ড জ্বর উঠে। ১০৩ এর নীচে জ্বর নামেই না। সারারাত জ্বরে ছটফট করলাম। তিনটার দিকে যাও একটু ঘুমালাম,এই রাতে সবার “চোর এসেছে, চোর এসেছে” ডাকাডাকিতে ঘুম ভাংলো। উঠে দেখি চার তালার জানালা দিয়ে চোর আমার প্রিয় মোবাইলটা নিয়ে গেছে! মন খারাপ হয়ে গেলো। পরের দিনও জ্বর কমেনা। ডাক্তারের কাছে গেলাম,টেস্ট করে ধরা পরলো আমার জন্ডিস হয়েছে। ডাক্তার আরও টেস্ট দিলেন,ধরা পড়লো হেপাটাইটিস A ভাইরাস। জন্ডিস হয়েছে,রোজা তো রাখতেই পারবোনা,এতো প্ল্যান এতো প্রস্তুতি কিছুই আর কাজে লাগাতে পারছিনা। মন ভেঙ্গে গেলো। দিন রাত কাঁদতাম। সুস্থ্য হবার নামও নাই এদিকে রমাদান মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে! হেপাটাইটিস A এর চিকিতসা হলো মানসিক ও শারীরিক বিশ্রাম। শারীরিক বিশ্রাম ঠিকই ছিলো কিন্তু মানসিক অবস্থা খুব খারাপ ছিলো। কোথায় সুন্নাত সহো সালাত পড়বো,তারাবি পড়বো,সেখানে ফরজ সালাত গুলাই কোনো রকমে ইশারায় পড়তে হচ্ছে। কিছু খেতে পারতাম না। মা বাবা চিকিতসার কোনো ত্রুটি রাখেননি। তাও রমাদানের শেষের দিকে এতোই দুর্বল হয়ে পরেছিলাম যে সেলাইন দেয়া লেগেছে ৩টা। ডাক্তারও বার বার বলতো যে কি নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা করেন যে অবস্থা দিন দিন এভাবে খারাপ হচ্ছে? সবাইকে বলতাম সামলে 4th year ফাইনাল পরীক্ষা,পড়তে পারছিনা তাই টেনশন হচ্ছে।

 

রমাদান মাস শেষ হয়ে গেলো,কিছুই প্ল্যান মতো করতে পারিনি। পরের রমাদানে বেঁচে থাকবো কিনা তাও জানিনা। মোবাইলটাও ছিলোনা যে নেট থেকে ইসলামিক লেকচার পড়বো বা শুনবো। পুরা রমাদান হসপিটাল আর আমার রুমের মধ্যে থেকেই কেটে গেলো। আল্লাহর ইচ্ছা ভেবে মেনে নিলাম। প্রায় দুই মাস কষ্ট করে এরপর সুস্থ্য হলাম। একা সারাদিন থাকাতে চিন্তা করার অনেক সুজোগ পাই। অতীতে কি ভুল করেছি, হেদায়ের পাওয়ার পরেও কি ভুল করেছি সব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। নিজের মাঝে কি কি পরিবর্ত্ন আনতে হবে ঠিক করলাম। সেই রমাদান মাস আমার জন্য অনেক বড় শিক্ষা ছিলো। যখন সুজোগ পেয়েছিলাম সালাত পড়িনি,পর্দা করিনি,গুনাহে লিপ্ত ছিলাম। আর যখন এতো প্ল্যান করলাম আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। বুঝতে পারছিলাম হেদায়েত পাওয়ার পরেও আর আমার এভাবে পথভ্রষ্ট হওয়া চলবেনা। আল্লাহর এতো বড় রহমত কে আমি এভাবে for granted নিয়ে নিলে হবেনা। আমার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা হয়ে গেলেও এখনও যে গুনাহ করে যাচ্ছি তার শাস্তি তো কম হবেনা। কবরের আজাব,জাহান্নামের আগুন থেকে আমাকে কে রক্ষা করবে তখন! অনেক ভুল করেছি আর না। একটা একটা করে ভুল সংশোধন করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলাম। ভুলের জন্য তওবা করে নিলাম। সময় খুব ভালো কাটছিলো। সারাদিন টিউশনি করতাম। স্টুডেন্টদের সাথে থাকতে নিজেকেও বাচ্চা মনে হতো,যেন আমিও আবার ছোট হয়ে গেছি। এছাড়া সময় পেলেই হয় আমার ভার্সিটি ফ্রেন্ড শ্বাশতীর বাসায় চলে যেতাম নাহলে সিহিন্তার বাসায় যেতাম। এই দুইজনের সাথে থাকলে হাজার মন খারাপ হলেও তা ভালো হয়ে যেতো। আর আমার দুই পুতুল আনাস,উমার তো আছেই। ওদের সাথে থাকলে দিন কিভাবে চলে যেত বুঝতেও পারতাম না। অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ।

 

uoda তে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ মাস্টার্স এ ভর্তি হলাম। মজা লাগতো খুব পড়তে। মাঝে একটা স্কুলেও পড়াই কিছুদিন। সময় কেটে যাচ্ছিলো ভালোই আলহামদুলিল্লাহ। ডিপ্রেশন আর ছিলোনা।ইসলাম প্র্যাক্টিস করার প্রতিও দিন দিন আরো বেশি সচেতন হচ্ছিলাম।তবে মাঝে মাঝে নিজেকে একটু একা একা লাগতো। সব মেয়ের মতো আমিও একদিন নিজের সংসার হবার স্বপ্ন দেখতাম। মাস্টার্স করছি, বয়সও তো কম হয়নি তখন! ২০১২ এর শেষের দিকে,নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে একদিন ঠিক করলাম যে আর না,জীবনে যা ভুল করার করেছি। এখন থেকে সব বাদ,সম্পূর্ণ আল্লাহর পথে চলবো। যেই ভাবা সেই কাজ। প্রথমেই fb থেকে খুব পরিচিত আর হাতে গুনা কয়েকজন ইসলামিক ভাইয়াদের বাদ দিয়ে বাকি সব male id ডিলেট করে দিলাম। আগে fb ব্যবহার করতাম চ্যাট করতে কিন্তু এবার ইসলাম জানার কাজে লাগালাম। প্র্যাক্টেসিং বোনদের খুঁজে খুঁজে এ্যাড করা শুরু করলাম। Authentic কয়েকটি ইসলামিক fb পেইজের নাম জোগার করলাম সিহিন্তার থেকে। সেসব পেইজের পোস্ট রেগুলার পড়তাম। সিহিন্তার থেকে বই এনেও পড়তাম। বাসায় সিহিন্তার ইসলামিক বই গুলো সব খুঁজে বের করলাম। আরো বেশি জ্ঞান অর্জনের দিকে মনোযোগ দিলাম। নিজেকে অনেকটাই বদলে ফেললাম। আর তখনই আমার জীবনের আরেকটি বড় ঘটনার সূচনা হলো! আমার ফেন্ড লিস্টে একজন ছিলেন, যাকে ইসলামিক পোস্টের জন্য এ্যাড করেছিলাম আরো আগে। তবে কথা হতোনা তার সাথে। সেই ছেলে আমার স্ট্যাটাস পড়ে যখন জানতে পারলো আমি রিভার্টেড মুসলিম, সে আমাকে ম্যাসেজে একজন বয়ষ্ক মহিলার id দিলো এ্যাড করার জন্য। এবং বললো যে আমার ইসলাম পালনে সমস্যা হলে ওই মহিলার সাথে আলাপ করতে। এ্যাড করলাম উনাকে। উনার নাম ফয়জুন নাহার। খুব ভালো লাগতো উনার সাথে কথা বলতে। উনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম উনি সৌদি আরবে থাকেন। যদিও তিনি ইউসুফের আপন মা না তবে ইউসুফ তাকে আপন মার মতোই দেখেন। তিনিও ইউসুফকে তার ছেলের মতো দেখেন। তিনি আমার থেকে আমার বাসার অবস্থা,আমার অবস্থা ইত্যাদি জেনে নিলেন ও বললেন যে তিনি আমার জন্য ছেলে দেখবেন। প্রায়ই উনার সাথে চ্যাটে কথা হতে লাগলো। আমিও আপন ভেবে উনার সাথে আমার সকল সমস্যা নিয়ে আলাপ করতাম। একদিন উনি আমার জন্য একটি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসলেন….

 

ফয়জুন নাহার আন্টির সাথে আমার সম্পর্ক খুব ভালো ছিলো। অনেক কথাই তার সাথে শেয়ার করতাম। তো একদিন উনি আমার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসলেন। উনি ছেলের বর্ণনা দিতে লাগলেন। কী রকম ইসলামিক মাইন্ডের,পরিবার কেমন ইত্যাদি। কিন্তু যতবার প্রশ্ন করতাম ছেলে কী করে, নাম কি, উনি কথা এড়িয়ে যেতেন। তখনই আমি সন্দেহ করি উনি ইউসুফ হোসেনের কথাই বলছে। কারণ উনি কী করেন আমি জানি। আমি উনার কথা শুনছিলাম আর হাসছিলাম মনে মনে। ইউসুফ হোসেন কেন আমাকে উনাকে এ্যাড করার জন্য ম্যাসেজ দিয়েছিলেন তা পরিষ্কার হয়ে গেলো। সেদিন উনার pc তে সমস্যা থাকায় বেশি কথা হয়নি। পরেরদিন উনি জানান যে তিনি ইউসুফের কথাই বলছিলেন। আমি আমার বিয়ের পাত্র খোঁজার দ্বায়িত্ব অপু ভাইয়াকে দিয়েছিলাম। সুতরাং আমি উনাকে বললাম ইউসুফকে বলতে উনি যেনো অপু ভাইয়ার সাথে কথা বলেন। ভাইয়ার পছন্দ হলে এরপর আমি কথা বলবো। ইউসুফ জানতোনা শরীফ আবু হায়াত আমার দুলাভাই,জানার পর তো উনি মহা খুশি। ভাইয়ার ফোন নাম্বার দিয়েছিলাম আমি ফয়জুন নাহার আন্টির কাছে। ইউসুফ ভাইয়ার সাথে কথা বলে দেখা করলেন। ভাইয়া উনাকে খুব পছন্দ করলেন। কথায় কথায় বের হয়ে গেলো উনার ছোট বেলার বন্ধু আমার চাচাতো বোনের হাসবেন্ড। ভাইয়া আমাদের সামনাসামনি দেখা করতে বললেন। এক সপ্তাহ পর ভাইয়ার বাসায় দেখা করবো ঠিক হলো। এই এক সপ্তাহে আমি ফয়জুন নাহার আন্টির কাছ থেকে উনার সম্পর্কে মোটামুটি যা জানার জেনে নিলাম। উনার মা আর বোনও আমার ছবি ও বায়োডাটা দেখে পছন্দ করলেন।

এক সপ্তাহ পর শুক্রবার জুম্মার সালাতের পর উনি আসলেন আপুর বাসায়। সাথে আমার চাচাতো বোন ও তার হাসবেন্ডও আসলো। আমার জন্য একটা বই “আদর্শ নারী” ও চকলেট নিয়ে এসেছিলেন। যখন সামনে গেলাম কথা বলতে, উনি আমাকে প্রথম প্রশ্ন করেছিলো যে আমার দৃষ্টিতে বিয়ে মানে কী! আমার মাথা তখন পুরাই ব্ল্যাঙ্ক। কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে ছিলাম। আমি অনেক বেশি ইমোশনাল তা উনি আন্টির থেকে জানতে পেরেছিলেন। এরপর আমাকে ইমোশন নিয়ে কিছু লেকচার দিলেন। আমি মাথা নাড়ানো ছাড়া আর কিছুই বলিনি। এমনকি উনাকে একটা প্রশ্নও করিনি। আমার যা জানার ছিলো তা তো আগেই আন্টির থেকে জেনে নিয়েছিলাম,তাছাড় া কেনো জানি মুখে কোনো প্রশ্নও আসছিলোনা। যাই হোক আমি প্রশ্ন না করাতে উনি মনে কষ্ট পেলেন। উনার ধারণা হলো যে আমার উনাকে পছন্দ হয়নি। মন খারাপ হয়ে গেছিলো উনার। দুপুরে সিহিন্তার বাসায় খেয়ে উনারা চলে গেলেন। বিকালে অপু ভাইয়া আমাদের দুজনকেই কল করে জানতে চাইলেন আমাদের কী মত। আমরা জানালাম যে আমরা রাজি আছি। এপর্যন্ত সব ঠিক মতোই এগিয়েছে। এখন আসল পরীক্ষা শুরু। তা হলো আমার মাকে রাজি করানো! মাকে জানানোর দায়িত্য অপু ভাইয়া আর সিহিন্তা নিলো। টেনশনে আমার খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেলো। মুসলিম হবার পর থেকে যে পরীক্ষা দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম সেই পরীক্ষার দিন এখন সামনেই। দুআ করতে লাগলাম মা বাবা যেন রাজি হয়ে যায় আর আমার বিয়েতে যেন হাসি মুখে উপস্থিত থাকেন। ইউসুফ আর আমি রাজি,ওর পরিবার রাজি,এখন আমার বাসায় জানানোর পালা। অপু ভাইয়া একদিন উনার বাসায় মা আর বাবাকে যেতে বললেন। মা বাবা যাওয়ার পর সন্ধ্যায় সিহিন্তা আর ভাইয়া উনাদের জানালেন ইউসুফের কথা। মা তো শুনেই না করে দিলো। মুসলাম ছেলের সাথে উনি কিছুতেই আমার বিয়ে দিবেন না। রাগ করেই সিহিন্তার বাসা থেকে চলে আসলো। এদিকে আমি মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। মা বাবা যে রাজি হবেনা তা তো ভালো মতোই জানতাম। এখন বাসায় এসে আমাকে ইসলাম গ্রহনের কথা জিজ্ঞেস করলে কি বলবো,কি করবো এসব ভাবছিলাম। আর দুআ করছিলাম বার বার আল্লাহ যেন সব সহজ করে দেন। আমি চাই মা বাবা বিয়েতে রাজি হয়ে খুশি মনে উপস্থিত থাকুক। তাদের না জানিয়ে বিয়ে করতে চাইনি কখনোই।

চলবে……….

আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ সুপ্রভাত চলাচলের

রাজধানীর প্রগতি সরণিতে ১৯ মার্চ বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর পরদিন সুপ্রভাত পরিবহনের বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় বিআরটিএ।

ঢাকা মহানগরের (রুট নং এ-১৩৮) উত্তরা-রানীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে চলাচলকারী সুপ্রভাত প্রাইভেট লিমিটেডের ১৬৩টি বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিতে বিআরটিএ’র প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সুপ্রভাত প্রাইভেট লিমিটেডের এমডি’র করা আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবু ইয়াহিয়া দুলাল।

বিআরটিএ’র উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) শফিকুজ্জামান ভূঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ আইনের ৭২ ধারা অনুযায়ী ওই বাসগুলো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের (রুট নং এ-১৩৮) উত্তরা-রানীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে চলাচলকারী সুপ্রভাত প্রাইভেট লিমিটেডের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

এরপর ১ এপ্রিল বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে বিআরটিএ’তে আবেদন করে সুপ্রভাত কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদন নিষ্পত্তি না করায় ৮ এপ্রিল বিআরটিএ’কে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সুপ্রভাত।

আইনজীবী আবু ইয়াহিয়া দুলাল সাংবাদিকদের বলেন, ১ এপ্রিল বিআরটিএ’তে করা সুপ্রভাতের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিআরটিএ’কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এদিকে বাসচাপায় বাংলাদেশ ইউনিভাসিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০ মার্চ তার পরিবারকে জরুরি খরচ বাবদ ১০ লাখ টাকা দিতে হাইকোর্ট আদেশ দেন। পরে ৯ এপ্রিল সেই আদেশ বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ।

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহের উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার।কমিউনিটি হাসপাতালের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষ কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

‘সকলের সুস্থতা নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্যসেবা অধিকার-শেখ হাসিনার অঙ্গীকার’-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার থেকে ‘জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষায়িত নার্স তৈরির তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা যাতে নার্সিং পেশায় আসতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ওষুধ নয় স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির পাশাপাশি জেলায় জেলায় বার্ন ইউনিট তৈরির ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।

বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ অর্জন করেছে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য-এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড ও গ্যাভি অ্যাওয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

সেই অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবার লাপাত্তা

বাড়িটির নাম ‘ফেরদৌস মঞ্জিল’। ফেনী পৌর এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি সড়ক। শহরের পাঠানবাড়ি রোড ধরে চৌধুরী বাড়ি হয়ে সড়কটি চলে গেছে মহিপাল পর্যন্ত। এখানকার মকছুদুর রহমান সড়কের একটি বাইলেনের একেবারে শেষপ্রান্তে সিরাজের বাসা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ থেকে ৭ থেকে ৮ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় সাড়ে চার শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। প্রথমে টিনশেড বাসা ছিল। তিন বছর আগে দোতলা পাকা দালান করেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে। ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দোতলা বাড়ি। ওই ভবনের দোতলার রাস্তা লাগোয়া বড় ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন সিরাজ। কয়েকদিন আগে ঘরে তালা দিয়ে গা ঢাকা দেন পরিবারের সদস্যরা। তারা কোনও আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রতিবেশীদের।

সিরাজউদ্দৌলার ফ্ল্যাটের সামনে মুখোমুখি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন ফেনী সদরের ফাজিলপুরের মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, দুই বছর আগে ২১ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট সাফ কবলায় কিনে নিয়েছি। তিনি জানান, ৪ থেকে ৫ দিন আগে ঘরের লোকজন তালা দিয়ে চলে গেছেন। তারা কোথায় গেছেন-তা বলতে পারেননি ষাটোর্ধ এই প্রতিবেশী। তিনি বলেন, আমরা আসলে এতোকিছু জানতাম না। বাইরে থেকে তাকে সাধারণ বলেই মনে হত। এখন টিভির খবরে আর পত্রিকায় দেখে ওনার সম্পর্কে জানতে পারছি।

নিচতলায় একটি তালা দেয়া ফ্ল্যাট রয়েছে। বাসিন্দারা জানান, এই ফ্ল্যাটটিও সিরাজের। এখানে ভাড়াটে ছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগে ভাড়াটে চলে গেলে এটি খালি হয়ে যায়। এখনও ভাড়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশপাশের কয়েকজন বাড়ি মালিক ও বাসিন্দা বলেন, মাঝে মাঝে তাকে দেখতাম। সকালে বেরিয়ে রাতে ফিরতেন। বিভিন্ন সময় তার ব্যাপারে অনেক অভিযোগ শুনেছি। তার পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তারা বলেন, এখন তার এসব অপকর্মের কথা জেনে আমরা প্রতিবেশী হিসেবে লজ্জিত ও বিব্রত। তাদের মতে, ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি রোড ও মকছুদুর রহমান সড়কে জামায়াত কেন্দ্রিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন এই সিরাজ। নানাভাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি আর্থিকভাবে লাভবানও হন। এসব খাত থেকে পাওয়া অর্থে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে দোতলা বাড়ি তৈরি করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলা রাফিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে ৬ এপ্রিল সকালে ওই শিক্ষার্থী আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান। তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে, এমন সংবাদে তিনি ছাদে যান। সেখানে বোরকাপরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এরপর ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাফি।

Play
Play
previous arrow
next arrow
Slider

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এই ধারার কারণে বহু সাংবাদিককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। অনেককে কারাগারেও যেতে...

 প্রখ্যাত লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। রোববার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়...

previous arrow
next arrow
ArrowArrow
Slider

  ফারা মাহমুদা চৌধুরী (শিল্পী) মানবদরদী ও মানবহিতৈষি ব্যক্তিত্ব হিসেবে অতিথিদের হাত থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করছেন।   ইমদাদুল হক তৈয়বঃ ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই নৈতিকতাবোধ থেকেই বুকে নীতি আদর্শ...

Archives

May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Nov0 Posts
L0go

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি