সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন: ০১৭১১৫৭৬৬০৩
  • সকাল ১০:৪৭ | ২৮শে মে, ২০২০ ইং , ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৫ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

Monthly Archive :নভেম্বর ২০১৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

 

 

১৭ই মার্চ, ১৯২০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান এবং সায়রা বেগমের ঘরে জন্ম নেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল ও কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়াশনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। ১৮ বছর বয়সে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাদের ২ মেয়ে – শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তিন ছেলে- শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল।

অল্পবয়স থেকেই তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভার প্রকাশ ঘটতে থাকে। ১৯৪০ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। কট্টরপন্থী এই সংগঠন ছেড়ে ১৯৪৩ সালে যোগ দেন উদারপন্থী ও প্রগতিশীল সংগঠন বেঙ্গল মুসলিম লীগে। এখানেই সান্নিধ্যে আসেন হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে রক্ষণশীল কট্টরপন্থী নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কর্তৃত্ব খর্ব করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ।

ভাষা আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শেখ মুজিব। ১৯৪৮ সালে ভাষার প্রশ্নে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথম প্রতিবাদ এবং ছাত্র ধর্মঘট শুরু হয় যা চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে।

পঞ্চাশের দশক তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের কাল। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেন দূরদর্শীতা এবং প্রজ্ঞাসম্পন্ন এক কুশলী রাজনৈতিক নেতা। এসময় শেখ মুজিব মুসলিম লীগ ছেড়ে দেন এবং হোসেন সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা ভাসানীর সাথে মিলে গঠন করেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। তিনি দলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষি মন্ত্রী হন মুজিব। ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।

১৯৬৩ সালে হোসেন সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ মুজিব। তিনি ছিলেন আইয়ুব খানের ‌মৌলিক গণতন্ত্র তত্ত্বের কট্টর সমালোচক। ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এই ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের রূপরেখা।

মুজিবের ৬ দফার প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থনে ভীত হয়ে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার শেখ মুজিবকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বাংলার সমস্ত জনগণ। জনরোষের কাছে নতি স্বীকার করে এক পর্যায়ে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় শোষকগোষ্ঠী। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসম্বর্ধনা দেওয়া হয়৷সেখানেই উত্থাপিত হয় এগার দফা দাবি যার মধ্যে ছয় দফার সবগুলোই দফাই অন্তর্ভুক্ত ছিল। লাখো মানুষের এই জমায়েতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়৷

১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আয়োজিত এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ”।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মুজিবের স্বায়ত্বশাসনের নীতির পুরোপুরি বিপক্ষে ছিলো। আওয়ামী লীগের সরকার গঠন ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সংসদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। শেখ মুজিব তখনই বুঝে যান যে, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। রেসকোর্সের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। ঐতিহাসিক এ ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শৃংখল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। … প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে”।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে উত্তাল হয়ে ওঠে সারা বাংলা। মুজিবের নেতৃত্বে বাঙ্গালি জাতির এই জাগরণে ভীত ইয়াহিয়া খান সামরিক আইন জারি করেন, নিষিদ্ধ করেন আওয়ামী লীগকে এবং শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

এরপর আসে ২৫ মার্চ, ১৯৭১। রাতের অন্ধকারে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর শকুনের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনারা; শুরু করে অপারেশন সার্চলাইট নামে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড।অশীতিপর বৃদ্ধ থেকে কোলের শিশু- কেউ রক্ষা পায়না পাক হায়েনাদের নারকীয়তা থেকে। মুজিবকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। অবশ্য তার আগেই, পাক বাহিনীর অভিযান শুরু হলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং জনগণকে সর্বাত্মক আন্দোলনে সামিল হতে আহ্বান জানান।

১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এ সরকারের অধীনেই গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী এবং শুরু হয় পাক সেনাদের প্রতিহত করার পালা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর, ৩০ লক্ষ বাঙ্গালীর প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে আসে বিজয়। ১৬ ডিসেম্বর সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেখান থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, সেখানেই বাংলাদেশ-ভারত মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের নতুন একটি দেশ।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে, তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন দেশে। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির জনককে বরণ করতে লাখো মানুষের ঢল নামে বিমানবন্দরে। দেশে ফিরেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু । মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানান বঙ্গবন্ধু এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাহায্য আসতে শুরু করে। শুরু হয় বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক নতুন যুদ্ধ। এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে রাজনৈতিক অস্থিতশীলতা সৃষ্টি করতে উঠেপড়ে লাগে এই চক্রটি। এসময় বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৭৪ সালে তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে এক ছাতার নীচে আনতে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা ‘বাকশাল’। একই সাথে অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। উল্লেখ্য, প্রথম যে দলটি নিষিদ্ধ করা হয় তার নাম বাংলাদেষ আওয়াশী লীগ, শেখ মুজিবের নিজের দল। এর ফলে দেশে স্থিতিশীলতা আসতে শুরু করে। সমস্ত দেশ যখন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিখ তখনই আসে আরেকটি আঘাত।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হত্যা করে শেখ মুজিব এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের। কেবল তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেই সময় দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান। সদ্য স্বাধীন জাতির জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে আসে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড, তৈরি করে রাজনৈতিক শূণ্যতা, ব্যাহত হয় গণতান্ত্রিক উন্নয়নের ধারা।

নাসিরনগর হরিপুরে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি


লাকীসহ ৫ জেলে পরিবার সব হারিয়ে নিঃস্ব 

সুজিত কুমার চক্রবর্তী, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় জেলে পাড়ায় ২৮ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে অগ্নিকান্ডে লাকীসহ ৫ পরিবার সব হারিয়ে নিঃস্ব।
জানা যায়, ২৮ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় জেলে পাড়ার সনজিত দাসের বাড়ির বৈদ্যুতিক শট সার্কেট থেকে আকষ্মিক অগ্নিকান্ডে সন্জিত দাসের ভাড়াটে  ১। রনু দাস পিতা রাজমোহন দাস  ২। বনবাসী দাস পিতা রামদেব দাস ৩। অনিতা রানী দাস স্বামী জয়দেব দাস ৪। মহাদেব দাস পিতা শিশু দাস ৫। বিজয় চক্রবর্তী পিতা অনুকুল চক্রবর্তী এর ঘরে থাকা সবকিছু  অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী লাকী রানী দাসের এস এস সি পাশের সার্টিফিকেট সহ সম্মান ২য় বর্ষের পরীক্ষার প্রবেশপত্র। অগ্নিকান্ডে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী ক্ষতিগ্রস্হ প্রত্যক পরিবারের কাছে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ১৫ ( পনের) হাজার টাকা, হরিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ২ (দুই) হাজার টাকা ও ২৬ পিচ কম্বল দেয়ার সময়  ক্ষতিগ্রস্হদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন  পরিদর্শন ও টাকা প্রদানের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ছিলেন হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি, নাসিরনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সুজিত কুমার চক্রবর্তী, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য/ মহিলা সদস্য, হরিপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিজয় দাস সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিগণ। অগ্নিকান্ডে খবর পেয়ে নাসিরনগর উপজেলা ও মাধবপুর উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট ঘটনার স্থলে পৌছে ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলার আগে তদন্ত দাবী!

শিক্ষিকা দিয়ার মৃত্যু-মামলা-কবর থেকে লাশ তু্লে ময়না তদন্ত’ এখন টক অব দ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়াএইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

চিকিৎসকের অবহেলা কিংবা ভুল চিকিৎসায় স্কুল শিক্ষিকা নওশীন আহমেদ দিয়ার মৃত্যু-আদালতে মামলা-কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন নিয়ে যখন গোটা শহরময় তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই ‘ভুল চিকিৎসায়’ রোগী মৃত্যুর অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা প্রাথমিক তদন্ত ছাড়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার দাবী জানালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিকিৎসক নেতারা। গত সোমবার (২৫.১১) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের কার্যালয়ে তার সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসক নেতারা এই দাবী জানান। বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট’- এ পরিণত।বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ আবু সাঈদের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসা সেবার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই দাবী উপস্থাপন করেন বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। এর আগে গত ১৩ নভেম্বর জেলা শহরের মুন্সেফপাড়াস্থ খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী ডা. ডিউক চৌধুরীসহ তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ‘ভুল চিকিৎসায়’ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে মামলা দাখিলের পর বিষয়টি এফআইআরগন্যে ব্যবস্থা নিতে সদর মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করারও নির্দেশ দেয় আদালত।

চিকিৎসক নেতা আবু সাঈদ সাংবাদিকদের জানান, ‘হাসাপতালে কোনো রোগী মারা গেলেই ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা তদন্ত না করে মামলা নিলে রোগীদের চিকিৎসা করবে কে? আমরা পুলিশ সুপারের কাছে পরবর্তীতে তদন্ত ছাড়া যেন কোনো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা না নেয় সেই দাবী জানাই। পুলিশ সুপার বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।’ এসময় ডা. আবু সাঈদের সঙ্গে জেলা সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিকস্ বিভাগের সহাকারি রেজিস্ট্রার ডা. শ্যামল রঞ্জন দেবনাথ এবং মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাফিদা আক্তার হ্যাপী প্রমুখরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর জেলা শহরের মুন্সেফপাড়াস্থ ক্রিসেন্ট কিণ্ডার গার্টেনের সহকারি শিক্ষিকা নওশীন আহমেদ দিয়া (২৯) প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে একই মহল্লার খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে গেলে ডা. ডিউক চৌধুরী, অরুনেশ্বর পাল অভি ও মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল ‘ভুল ইনজেকশন এবং ওষুধ’ প্রয়োগ করলে দিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়েন বলে স্বজনেরা অভিযোগ তুলেন। এরপর ওই হাসপাতাল থেকে দিয়াকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। কিন্তু ঢাকা নেয়ার পর চিকিৎসক জানান, ‘কয়েক ঘণ্টা আগেই দিয়ার মৃত্যু হয়েছে।’ এই ঘটনায় গত ১৩ নভেম্বর ডা. ডিউক চৌধুরী, অরুনেশ্বর পাল অভি ও শাহাদাত হোসেন রাসেলের বিরুদ্ধে ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগ এনে মৃত দিয়ার বাবা শিহাব আহমেদ গেন্দু বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশেই ১২ দিনের মাথায় কবর থেকে দিয়ার লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। গত ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে ক্রিসেন্ট কিণ্ডার গার্টেন স্কুলের ব্যানারে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকগণ শিক্ষিকা দিয়া হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল করেন। সাংবাদিক আবুল হাসনাত অপুর সঞ্চালনায় জেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাভোকেট হাবিবুল্লাহ, সুর্যমুখী কিণ্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ সালমা বারী, ক্রিসেন্ট কিণ্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ মরিয়ম আক্তার, খেলাঘর এর সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন সরকার, ঐক্য ন্যাপের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম নাইম, জেলা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রতন দত্ত, গ্রীণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি চন্দন দত্ত প্রমুখ বক্তারা অবিলম্বে দিয়া হত্যায় জড়িত ডিউক চৌধুরীসহ দায়ী চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের দাবী জানান। অনতিবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তারসহ ক্লিনিককে সিলগালা না করলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেয়া হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ট্যাঙ্কেরপাড় গিয়ে শেষ হয়। অপরদিকে এই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এসব প্রেক্ষিতেই বিষয়টি নিয়ে গোট শহরজুড়েই চাউর হচ্ছে নানামুখী আলোচনা।

6 Attachments

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মাননায় ভূষিত হলেন ঢাকা উত্তর সিটিকর্পোরেশন কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা ইতি

 

শাহরিয়ার স্বপন: সম্প্রতি কলকাতার বেহালায় শরৎ সদনে সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘সৃজন বার্তা’ আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা ব্যান্ডের প্রবর্তক ও ভারত বিখ্যাত প্রবীণ সংগীতশিল্পী তাপস দীপ বাপি। বিশেষ অতিথি সৃজন বার্তার সম্পাদক শ্রী দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য ও সৃজন বার্তার প্রকাশক শ্যামা ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেশ কিছু গুণী ব্যাক্তিদের ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।সফল কাউন্সিলর ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মাননায় ভূষিত হলেন ঢাকা উত্তর সিটিকর্পোরেশনের (সংরক্ষিত)-৯, ১০, ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা ইতি।

রাজিয়া সুলতানা ইতি বেশ কিছু  এন জি ওর সাঙ্গে জড়িত থেকে কাজ করছেন। অপরাজিত বাংলাদেশ, ইন্সিডিন বাংলাদেশ, আহসানিয়া মিশন ও ব্রাক ইত্যাদি।বাংলাদেশ মানবাধিকারে উত্তর এর পশ্চিম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি এবং ইনার হুইল জাহাংগির নগরের একজন সদস্য হিসেবে কাজ করে সমাজে বিমেষ ভূমিকা রাখছেন।

রাজিয়া সুলতানা ইতি তার সফলতা ও সম্মাননা প্রাপ্তিতে বলেন, সম্মাননা পেয়ে আমি অত্যান্ত আনন্দিত। যে কোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি মানুষকে অনেক উৎসাহিত করে।দেশে ও দেশের বাইরে সম্মাননা আমাকে আরো আমার কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছে।জীবনে সাহস ছিলো, আল্লাহর উপড়ে ভরসা ছিল অনেক এবং সবার দোয়ায় তাই আজকে আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি এবং আগামীতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ, জীবনের রক্তের বিনিময়ে হলেও দেশ, জনগণ এবং দলের জন্য কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।

 

কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা ইতি তার পরিবার সম্পর্কে বলেন, আমার হাসবেন্ড সোহরাব হোসেন, তিনি সাবেক ব্রহত্তম মিরপুর থানার শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, এখন বর্তমানে দারুসসালাম থানার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। আমার এক দেবর ১০ নং ওয়ার্ড এ যুবলীগ এর সহ সভাপতি, আমার মেঝ দেবর ১০ ওয়ার্ড এর সিনিয়র সহ সভাপতি, আর আমার সেঝো দেবর সাবেক মিরপুর থানার সহ সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে আমি ঢাকা উত্তর মহানগরের সদস্য এবং দারুসসালাম থানার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের, আমার সবসময়ই রাজ পথে থেকেছি, ২০০০১ সাল যখন আমাদের কামাল আহম্মেদ মজুমদার ভাই কে এরেস্ট করেছিলো, তখন আমেই প্রথমে তোপখানা মোড়ে এসে মিছিল করি, সে দিন আমরা অনেক লাঠি পিটা আর দৌড়ানি খেয়েছি।

সবচাইতে বড় কথা যারা আওয়ামিলীগ কে ভালোবাসে, তারা দুঃশসময় পাশে থাকবেই, সুসময় না পেলেও। তার প্রমান বি এন পির সাবেক এম পি এস এ খালেক সাহেব এর ছেলে সাজু তার লোকজন নিয়ে আমাদের সব বাজার, ক্লাব দখল করে তারা সব টাকা পয়সা নিয়ে যেতো। অক্টোবর ২০০০১ নির্বাচনের পর, তখন আমার পরিবারের সব পুরুষদের কে লিস্টেট আসামি করেছিলো, তখন তারা সবাই কে পালিয়ে থাকতে হয়েছিলো।তখন আমার বাসায় বোম এবং গুলি করেছিলো আমার দরজায় এসে। তখন আমি ছিলাম একজন গৃহিণী, এতো কিছুর পরে যখন দেয়ালে পিট ঠেকে গিয়েছিল তখন আমি রাজ পথে নামি আমার শশুর এবং স্বামীর আদেশে।0

 

 

আজীবন জনকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই …..মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল

 

অত্যন্ত মিষ্টিভাষী ও উদারমনা সমাজসেবী মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল। পিতা-(মৃত তোজাম্মেল হোসেন) টাংগাইল জেলার গোপালপুর থানার হেমনগর শিমলাপাড়া গ্রামে ১৯৮৩ সালে এই অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হন। এই সমাজসেবী সমাজের মানুষের কল্যাণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে জনগনের প্রতি তার দায়বদ্ধতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় মানবজীবনের প্রতিনিধির সঙ্গে।

মানবজীবন: আপনি কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে জড়িত থেকে জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন?
মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল: আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে লালন করে এবং তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে আমার অবিরাম পথচলা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে। আমি বর্তমানে হেমনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া শিমলাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি, শিমলাপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সভাপতি, টাঙ্গাইল জেলা প্রকৌশল নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন হেমনগর শাখা সাধারন সম্পাদক, সিমলাপাড়া হামিউস সুন্নাহ নূরানী ক্যাডেট মাদরাসার ক্যাশিয়ার, শিমলাপাড়া ঈদগাহ মাঠ এর সাবেক অভিভাবক সদস্য এবং বর্তমানে দাতা সদস্য ও পি টি এ কমিটির সভাপতি, হেমনগর শশীমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, হেমনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিমলাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ও দক্ষিন হেমনগর সরকারী প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে আছি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পাশে থেকে সর্বত্ম জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।

 

মানবজীবন: দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কি কি কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার উন্নয়নে?
মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল: ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিষদের সদস্যগণ। নিজ ওয়ার্ড এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন পেশাজীবি প্রতিনিধিদের নিয়ে আমি ওয়ার্ড আইন- শৃংখলা রক্ষা কমিটি গঠন ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করে থাকি। এই কমিটি ওয়ার্ডের অপরাধ, বিশৃংখলা, চোরাচালান দমন, অপরাধমূলক ও বিপদজনক ব্যবসা সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে এলাকার জন্ম-মৃত্্ুয, অন্ধ, ভিক্ষুক, দুঃস্থ ও অসহায় বিধবা, এতিম, গরীব প্রতিবন্ধী প্রভৃতি ব্যক্তিগণের নিবন্ধনের জন্য গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে দুটি ফরম পূরণ করার ব্যবস্থা করে থাকি।
আমি ইউপি সদস্য হিসেবে এলাকার আদমশুমারীসহ সকল ধরণের শুমারী পরিচালনায় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করি। এলাকার গণ্যমাণ্যব্যক্তি ও যুব সমাজ সহ বিভিন্ন শ্রেণীর প্রতিনিধিদের নিয়ে ওয়ার্ড দুর্যোগব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করি।
এলাকার পুকুর বা পানিসরবরাহের বিভিন্ন জায়গায় শণ, পাট বা অন্যান্য গাছ ভেজানো, আবাসিক এলাকার মধ্যে চামড়া রং বা পাকা করা নিয়ন্ত্রণকরন, আবাসিক এলাকার মাটি খনন করে পাথর বা অন্যাণ্য বস্তু উঠানো, ইট, মাটির পাত্র বা অন্যান্য ভাটি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করি। এলাকার অন্যান্য সংস্থার কাজে এবং ইউনিয়ন পরিষদ দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, আরাম-আয়েস ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানে চেয়ারম্যানকে সহায়তা করি। সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে নির্দেশিত অন্যান্য কাজগুলো ন্যায়নিষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করি।
এলাকায় কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, বিভিন্ন আয় বর্ধক প্রকল্প/কর্মকান্ডে জনগণকে অংশ নিতে উৎসাহিত করে এ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে সুপারিশ পেশকরে থাকি। এলাকায় নিরক্ষরতা দূরকরা, পরিবার পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা সম্পকের্ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে এ সংক্রান্ত প্রকল্প তৈরি করে, গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকি। ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালিত প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করি।
এলাকায় জনগনের সম্পত্তি যথা-জনপথ, রাজপথ, সরকারী স্থান, উন্মুক্ত জায়গা, উদ্যান, খেলারমাঠ, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, সভার স্থান, সৌধ, রাস্তা, পুল, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, খাল, বিল, টেলিফোন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নির্মাণ ও ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। এলাকায় খেলাধুলার উন্নয়ন, গ্রন্থাগার,পাঠাগারের ব্যবস্থা ও জাতীয় উৎসব পালনের ব্যবস্থা এবং শরীর চর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করছি।
এলাকায় নিরাপদ পানি ব্যবহারের জন্য কূয়া, নল কূপ, জলাধার, পুকুর, দিঘী ও পানি সরবরাহের বিভিন্ন উৎস সংরক্ষণ ও দূষণ রোধের ব্যবস্থা নিয়েছি।
এলাকায় প্রাথমিক স্কুলগামী শিশুদের স্কুলে পাঠানোর জন্য এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করনসহ বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছি।

মানবজীবন: আপনি ভবিষ্যৎ এ কি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন?
মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল: আজীবন জনকল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগের কাজে নিয়োজিত রাখতে চাই এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন। আমি আগামী নির্বাচনে জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান পদে মনোনীত হতে পারলে আরো ব্যাপক পরিসরে এলাকার মানুষের ভাগ্যনোন্নয়নে কাজ করে যাবো। সমাজের নিপিড়িত মানুষের ভাগ্যনোন্নয়নে যতটা সম্ভব নিজেকে বিলিয়ে দেব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য মনটা সমসময়ই কাঁদে। তাই চেষ্টা থাকবে একনিষ্টভাবে সমাজসেবা করে জাওয়ার। এছাড়া মৎস খামার ও ডেইরি ফার্ম নিয়ে কাজ করছি।

মানবজীবন: এ যাবৎ কি কি সম্মাননা পেয়েছেন?
মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল: সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ৬ বার সম্মাননা পেয়েছি। এর মধ্যে ভাষা শহিদ সম্মাননা-২০১৫, স্বাধীনতা সম্মাননা পদক-২০১৬, ভোরের বাংলাদেশ ডটকম পত্রিকা এর প্রতিষ্ঠাতা সম্মাননা পদক-২০১৬, ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মাননা-২০১৭, ভারত বাংলাদেশ প্রগতি বাংলা বেস্ট এক্্িরলেন্স এ্যাওয়ার্ড-২০১৮।

মানবজীবন: বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড নিয়ে কিছু বলুন।
মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল: জনগণের সহযোগিতার ফলে উন্নয়নের যে কাজগুলি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুরু করেছিল, তা সমাপ্ত করতে পারছে। পাশাপাশি নতুন নতুন উন্নয়ন কর্মসূচী গ্রহণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। সরকারের টানা নয় বছরে দেশের রাজনীতিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ জননেত্রি শেখ হাসিনার হাতে থাকলেও সে পথ মসৃণ ছিল না। জ্বালাও-পোড়াও, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাসহ দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এমন কোনো খাত নেই যে খাতে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা দেশের গন্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও।

নিজস্ব অর্থে পদ্মার ওপর ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করার সাহস দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর বিশাল এ প্রকল্প হাতে নেয়ার ঘটনা অনেক দেশ ও সংস্থার সন্দেহ ও বিস্ময় প্রকাশ করলেও সে স্বপ্ন এখন দৃশ্যমান। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে বাংলাদেশ। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও চলমান। এ ছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসহ আরো কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। দেশের প্রথম ৬ লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) সুমিতোমোর নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের সোনার বাংলাদেশ।

মানবজীবন: বর্তমান সমাজের মানবিক মুল্যোবোধের অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে আপনার অভিমত কি?
মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল: আমি এক্ষেত্রে বলব, একজন মানুষ তখনই পরিপূর্ন মানুষে রুপান্তরীত হয় যখন তার মধ্যে মানবিক গুনাবলী বিকশিত হয়। যখন তার মধ্যে মানবিক গুনাবলী অর্থাৎ নৈতিক জ্ঞান হ্রাস পায় তখন সে মনুষ্যত্ব হাড়িয়ে পশুতে পরিনত হয়। আর এই মানুষরুপী পশুদের জন্যই সমাজের সর্বক্ষেত্রে আজ এই দৈন্যতা। মাদকাসক্ত,ধর্ষন, সর্বোপরি দুর্নীতির করাল গ্রাসে আজ যে জর্জরিত জনজীবন তার মুলেই রয়েছে নৈতিক জ্ঞানের অভাব। সততা,আদর্শ ও ন্যায়নিষ্ঠ বিচারিক জ্ঞানের অভাবে প্রতিনিয়ত মানবিক মুল্যোবোধের অবক্ষয় ঘটছে। আর এ থেকে উত্তরনের জন্য ইসলামের পরিপূর্ন জ্ঞানের বিকল্প কিছু নেই। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের যদি ইসলামিক জ্ঞানে শিক্ষিত না করতে পারি তাহলে এ অবক্ষয় ভয়াভহ রুপ নিবে। তাই বলব, আসুন আমরা শ্রেষ্ঠ জাতি মুসলিম হিসেবে আল্লাহর দেয়া একমাত্র পুর্নাঙ্গ জীবন বিধান ইসলামকে প্রাধান্য দিয়ে জীবনকে গড়ে তুলতে পারি তবেই পাব মুক্তির দিশা।

মানবজীবন: আপনার মুল্যবান কথাগুলো আমাদের পত্রিকার মাধ্যমে জনগনের কাছে পৌছাতে পেরে আমরা আনন্দিত। আপনার সুদীর্ঘ পথচলা কামনা করছি।
মোঃ মাহবুব হাসান টুটুল: আপনাদেরকেও আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন রইল। আমার মনের একান্ত ইচ্ছেগুলো প্রকাশ করতে পেরে ভালো লাগলো। এগিয়ে চলুক আপনাদের পথচলা।

নাসিরনগরে  ইসলামী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত

সুজিত কুমার চক্রবর্তী, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা কমপ্লেক্ম জামে মসজিদের উদ্যোগে মসজিদের সামনে ১৯ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিঃ মঙ্গবার দুপুর ১২ ঘটিকায় বার্ষিক  ইসলামী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এন্তেজামীয়া কমিটির সহ -সভাপতি হাজী আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলনে বয়ান পেশ করেন, খতিবে ইসলাম মুনাযিরে আজম, বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাদরাসায়ে নূরে মদিনা শায়েস্তাগঞ্জ আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ , মুহতামিম জামিয়া ইসলামীয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া আল্লামা শায়খ সাজিদুর রহমান, মহাপরিচালক জামিয়া দারুল আরকাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আল্লামা মুফতী আবদুর রহীম কাসেমী, নাজিমে তালিমাত জামিয়া ইসলামীয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাওলানা মুফতী মাজহারুল হক কাসেমী, মুহাদ্দিস জামিয়া দারুল আরকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাওলানা মুখলেছুর রহমান ইমাম ও খতিব, উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদ নাসিরনগর প্রমুধ ।

স্কুল শিক্ষিকা দিয়া হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
স্কুল শিক্ষিকা নওশীন আহমদ দিয়া হত্যার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন-বিক্ষোভ হয়েছে।  গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ক্রিসেন্ট কিণ্ডার গার্টেন স্কুলের ব্যানারে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকগণ এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

সাংবাদিক আবুল হাসনাত অপুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাভোকেট হাবিবুল্লাহ, সুর্যমুখী কিণ্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ সালমা বারী, ক্রিসেন্ট কিণ্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ মরিয়ম আক্তার, খেলাঘর এর সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন সরকার, ঐক্য ন্যাপের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম নাইম,গ্রীণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি চন্দন দত্ত,জেলা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রতন দত্ত প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে দিয়া হত্যার সাথে জড়িত চিকিৎসক ডিউক চৌধুরীসহ দায়ী চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের দাবী জানান। অনতিবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তারসহ ক্লিনিককে সিলগালা না করলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেয়া হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের জেল রোড প্রদক্ষিণ শেষে ট্যাঙ্কেরপাড় গিয়ে শেষ হয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর জেলা শহরের মুন্সেফপাড়াস্থ খ্রীস্টিয়ান মোমোরিয়াল হাসপাতালে ভূল চিকিৎসায় ক্রিসেন্ট কিণ্ডার গার্টেন স্কুলের সহকারি শিক্ষিকা নওশীন আহমদ দিয়ার (২৯) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৩ নভেম্বর তার বাবা শিহাব আহমেদ গেন্দু মিয়া বাদী হয়ে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খ্রীস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী ডা. ডিউক চৌধুরী ও তার ক্লিনিকের দুই চিকিৎসক অরুনেশ্বর পাল এবং মো. শাহাদাৎ হোসেন রাসেলকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।  ১৫ নভেম্বর দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দিয়ার মৃতদেহ কবর উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে দাফন করা হয়।

শরীয়তপুরে বিএনপি পরিবারের সন্তান হলেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী

মোঃ ফারুক হোসেন ।। শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায় বিএপি পরিবারের সন্তানের নাগেরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদ-প্রার্থীর হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তুলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সচেতন জনগণ প্রার্থী নোমান খানের বিরুদ্ধে।

 

এলাকাবাসী ও আওয়ামীলীগ সমর্থীদের কাছ থেকে জানাযায়, নাগেরপাড়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয় চলতি মাসের এক তারিখে l সেখানে ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী নোমান খানের কথা শোনা যায়। নোমান খানের ভাই জাবেদ খান ২০০১ সালে নাগেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান আওয়ামী লীগের সভাপতি এনায়েত করিম (মিলু স্যারে’র) কান কেটে নেওয়ার ঘোষণা দেন l তখনকার সময় নাগেরপাড়া ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন ও মোজাম্মেল খান কে এক ঘটনায় বাজার থেকে এক মিনিটের মাথায় চলে যাওয়ার হুমকিও দেন এই জাবেদ খান। তার ছোট ভাই এখন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী l

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা বলেন, এই পরিবার বিএনপি’র পরিবার এবং ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীর উপর নির্যাতন চালিয়েছে l ২০১০ সালে আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায়, তখন জাবেদ খান গা ঢাকা দিয়ে ঢাকায় অবস্থান করে ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত হয় তার ছোট ভাই নোমান। এখন ছাত্রলীগ নিয়ে তারা মাঠে উঠতে চায় বলে খবর শোনা যায়। এই হাইব্রিড নেতাদের কে যদি ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে ছাত্রলীগ কি রকম হবে সেটা এখন নাগেরপাড়া ইউনিয়ন বাসীর ভাবার বিষয় l বিষয়টি নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দৃষ্টি আকর্ষণ ও অনুরোধ জানিয়েছেন নাগেরপাড়া আওয়ামীলীগসহ সচেতন জনসমাজ।

নাসিরনগরে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায়  অনুপস্থিত ২৪৭ জন

সুজিত কুমার চক্রবর্তী,নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

আজ ১৭ নভেম্বর  ২০১৯,  জেলার নাসিরনগর উপজেলায় সারা দেশের ন্যায় ১৩ টি ইউনিয়নের  ১৪ টি কেন্দ্রে  প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় শুরু হয়েছে ।  রবিবার ১ম দিনের ইংরেজি বিষয়ে মোট ৬৩০৬ জন পরিক্ষার্থীর মাঝে ২৪৭ জন পরিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে বলে জানা যায়।
উপজেলায় মোট ৫৯৮৮ জন পরিক্ষার্থীর ( বালক ২২৫৫, বালিকা ৩৭৩৩) মাঝে ১৯০ জন  অনুপস্থিত এবং ইবতেদায়ী ৩১৮ জন পরিক্ষার্থীর ( বালক ১৭৭ জন, বালিকা ১৪১ জন) মাঝে ৫৭ জন ( বালক ২৯ জন, বালিকা ২৮জন) অনুপস্থিত  রয়েছে। নাসিরনগর উপজেলায় সকল পরিক্ষা কেন্দ্রে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এসএসসি ফরম পুরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোচিং ফি, বকেয়া বেতনসহ নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। কিন্তু দেয়া হচ্ছেনা আদায়কৃত টাকার কোনো রশিদ। দু’য়েকটি স্কুল রশিদ দিলেও তাতে শুধু বোর্ড ফি’র অঙ্কটাই উল্লেখ করা। এতে বিপাকে পড়েছে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা। ৭ নভেম্বর থেকে ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। বিলম্ব মাশুলসহ ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণ করা যাবে।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফরম পূরণ ফি’ এক হাজার ৮৫০টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের এক হাজার ৯৭০ টাকা নির্ধারণ করেছে।  কিন্তু বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে আখাউড়া উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয় ফরম পূরণে তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, খড়মপুর শাহ পীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়, আমোদাবাদ আলহাজ্ব শাহআলম উচ্চ বিদ্যালয়, নাছরীন নবী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে। আখাউড়া উপজেলায়  উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৬ টি।

রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র অপু, সাব্বির ও নাফিস জানায়, তারা তিন হাজার ২৫০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছে কিন্তু তাদেরকে কোন রশিদ দেয়নি। একই বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. লিটন বলেন, তিন হাজার ৩৫০ টকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছি,কিন্তু রশিদ দেয়নি।  এবছর রেলওয়ে স্কুলের পরীক্ষার্থী ১৩৭জন। রেলওয়ে স্কু্লের সহকারি প্রধান শিক্ষক রাধাকৃষ্ণ নুনিয়া ফরম পূরণে কতো টাকা নেয়া হচ্ছে তা বলতে রাজি হননি।

আমোদাবাদ আলহাজ্ব শাহ আলম উচ্চ বিদ্যালয়েয়ের ছাত্রী আঁখি রানী দাস, ফাহিম মোন্তাসির জানায় তারা তিন হাজার ২৫০টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছেন। তবে তাদেরকে কোনো রশিদ দেওয়া হয় নাই। আমোদাবাদ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোছা. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘মানবিক বিভাগ ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে তিন হাজার ২৫০টাকা এবং বিজ্ঞান শাখার ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে তিন হাজার ৩৫০ টাকা নিয়েছি।  তবে শুধু বোর্ডের ফি’র টাকার রশিদ দেওয়া হচ্ছে, বাড়তি টাকার রশিদ দেওয়া হয়নি। ‘ এই বিদ্যালয় থেকে এবছর ৮০ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেবে।

দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক ফাতেমা আক্তার  বলেন, অনেক কষ্ট করে তিন হাজার ১০০ টাকায় ফরম পুরণ করেছি।  একই বিদ্যালয়েল অভিভাবক মো. সাজ্জাদ বলেন, তিন হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে আমার ছেলের ফরম পূরণ করেছি, কিন্তু কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।

আখাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক  শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শওকত আকবর খান বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়কে বোর্ড নির্ধারিত ফি অনুযায়ী ফরম পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছি।’ তবে অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে রয়েছে তিন মাসের কোচিং ফি বাবদ সর্বোচ্চ ১২শ’ টাকা পর্যন্ত নেওয়া যাবে।  তবে ছাত্রছাত্রীকে টাকা গ্রহণের রশিদ অবশ্যই দিবে হবে।’ কোচিং ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান রোববার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘স্কুলের ফলাফল ভাল করা শিক্ষকদের দায়িত্ব। প্রয়োজনে দুর্বল ছাত্রছাত্রীকে বিশেষ ক্লাশ করাতে পারবে। কিন্তু কোন টাকা নিতে পারবে না। ‘

Play
Play
previous arrow
next arrow
Slider

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এই ধারার কারণে বহু সাংবাদিককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। অনেককে কারাগারেও যেতে...

    ১৭ই মার্চ, ১৯২০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান এবং সায়রা বেগমের ঘরে জন্ম নেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। গোপালগঞ্জ...

previous arrow
next arrow
ArrowArrow
Slider

সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তির মূল কারণ হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় …..ইঞ্জিনিয়ার চৌধুরী নেসারুল হক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বরাট জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন, রাজবাড়ী।   জীবনের ক্ষুধা, তৃষ্ণা ছাড়াও, মানুষ এক কাল্পনিক জগতের চাহিদায়...

Archives

Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Nov0 Posts
L0go

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি